প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন

Swift-কে বাঁচাতে পারেনি LINK—১৫ কিলোমিটার দূরেই থামল মহাকাশযান

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|4 মিনিটের পাঠ| 2
Swift-কে বাঁচাতে পারেনি LINK—১৫ কিলোমিটার দূরেই থামল মহাকাশযান

৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত ফল বলছে, Katalyst Space Technologies-এর LINK পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে NASA-র Neil Gehrels Swift Observatory-এর ১২–১৫ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ-সমস্যা সামলাতে জ্বালানি ক্ষয় হওয়ায় মহাকাশযানটি Swift-কে ধরেনি, কক্ষপথ উঁচু করেনি এবং আর কাছে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

NASA-র ৪ সেপ্টেম্বরের মিশন আপডেট LINK-এর ন্যূনতম দূরত্বকে ৭.৫–৯ মাইল বা ১২–১৫ কিলোমিটার হিসেবে জানিয়েছে; একই আপডেটে বলা হয়েছে, অবশিষ্ট কার্যক্রমে Swift-এর দিকে আর ঘনিষ্ঠ অগ্রসরতা হবে না। ফলে পরিকল্পিত উদ্ধার নয়, সীমিত proximity operation ও প্রযুক্তি প্রদর্শনই মিশনের চূড়ান্ত ফল।

নিয়ন্ত্রণ হারানো থেকে উদ্ধার বাতিল: ব্যর্থতার শৃঙ্খল

কক্ষপথে LINK-এর অনিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণন সামলাতে জ্বালানি খরচ হচ্ছে, ফলে Swift-কে ধরার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

LINK-এর লক্ষ্য ছিল Swift-এর কাছে গিয়ে তিনটি রোবোটিক বাহুর সাহায্যে টেলিস্কোপটিকে ধরা এবং যুক্ত অবস্থায় সেটির ক্ষয়মান কক্ষপথ উঁচু করা। সেই পরিকল্পনার জন্য শুধু Swift-এর অবস্থান শনাক্ত করা যথেষ্ট ছিল না; শেষ পর্যায়ে নির্ভুল দিকনির্দেশ, স্থিতিশীলতা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি দরকার ছিল।

জুলাইয়ে উৎক্ষেপণের পর LINK অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুরতে শুরু করে। Associated Press-এর মিশন পুনর্গঠন অনুযায়ী, ফ্লাইট কন্ট্রোলাররা ঘূর্ণন কমিয়ে মহাকাশযানটিকে স্থিতিশীল করলেও এতে মূল্যবান জ্বালানি খরচ হয়; পরে Swift-কে উঁচু কক্ষপথে নেওয়ার মতো জ্বালানি আর ছিল না। প্রতিবেদনটি ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব উল্লেখ করেছে—NASA-র ১২–১৫ কিলোমিটার সীমার সর্বোচ্চ মান—এবং বলেছে, সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে ধ্বংসাবশেষ তৈরির ঝুঁকিও মিশনের নিরাপত্তা বিবেচনায় ছিল।

কারণ ও ফলের ধারাটি তাই ছিল স্পষ্ট:

  1. LINK-এর attitude-control বা দিক ও ভঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয় এবং মহাকাশযানটি ঘুরতে থাকে।
  2. নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হয়।
  3. জ্বালানির নিরাপদ মজুত কমে যাওয়ায় Swift-কে ধরা ও যুক্ত অবস্থায় কক্ষপথ বদলানোর সুযোগ শেষ হয়।
  4. LINK দূর থেকে পর্যবেক্ষণ চালালেও ১২–১৫ কিলোমিটারের সীমা পেরিয়ে আর এগোয়নি।

অর্থাৎ LINK Swift-এর কক্ষপথের আশপাশে পৌঁছাতে পেরেছিল; ব্যর্থতা ঘটেছে servicing-এর নির্ধারক ধাপের আগে। লক্ষ্যবস্তুকে স্পর্শ করা, শক্তভাবে ধরা এবং দুই মহাকাশযানকে একসঙ্গে নিরাপদে চালানোর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি তখন আর অবশিষ্ট ছিল না।

নয় মাসের নির্মাণসূচি কতটা দায়ী

নয় মাসের দ্রুত সময়সূচিতে LINK-এর সংযোজন ও মহাকাশ-পরিবেশ পরীক্ষা চলছে।

মিশনটি মাত্র নয় মাসে তৈরি হয়েছিল। Katalyst-এর প্রধান নির্বাহী Ghonhee Lee দ্রুত সময়সূচিকে LINK-এর সমস্যার জন্য দায়ী করে বলেছেন, প্রকৌশলীদের কখনো পছন্দের যন্ত্রাংশের অপেক্ষা না করে তখন পাওয়া উপকরণ ব্যবহার করতে হয়েছে। এটি কোম্পানির প্রধানের ব্যাখ্যা; প্রকাশিত কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়।

নিশ্চিত তথ্যের সীমা আরও সংকীর্ণ: LINK-এ চলমান attitude-control সমস্যা ছিল, সেটি সামলাতে জ্বালানি ব্যয় হয়েছে এবং capture ও boost বাতিল হয়েছে। কোন component প্রথম ঘূর্ণন ঘটিয়েছিল, দ্রুত নির্মাণের কোন সিদ্ধান্ত সরাসরি ব্যর্থতায় ভূমিকা রেখেছে, কিংবা software, actuator ও propulsion ব্যবস্থার পৃথক অবদান কতটা—৪ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত ফল এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয়নি।

তাড়াহুড়োর পেছনেও বাস্তব চাপ ছিল। ২০০৪ সালে উৎক্ষেপিত Swift দুই দশকের বেশি সময় ধরে gamma-ray burst ও অন্যান্য ক্ষণস্থায়ী মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে। বর্ধিত সৌর সক্রিয়তায় পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল প্রসারিত হয়ে নিম্ন কক্ষপথে drag বাড়িয়েছে; এতে Swift প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত উচ্চতা হারানোয় উদ্ধারযান নকশা, নির্মাণ, পরীক্ষা ও উৎক্ষেপণের সময়সীমা সংকুচিত হয়েছিল।

উদ্ধার হয়নি, তবে কী প্রদর্শন করতে পেরেছে LINK

উদ্ধার বাতিলের পর LINK তিনটি রোবোটিক বাহু খুলে ও তিনটি xenon thruster চালিয়ে সক্ষমতা পরীক্ষা করছে।

Boost বাতিলের পরও LINK-কে সঙ্গে সঙ্গে নিষ্ক্রিয় করা হয়নি। Katalyst মহাকাশযানটির কক্ষপথ উঁচু করে Swift-এর orbital path-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করেছে, তিনটি রোবোটিক বাহু খুলেছে এবং তিনটি xenon-চালিত electric propulsion thruster একই সময়ে চালিয়েছে। নিজস্ব sensor দিয়ে দূর থেকে Swift পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহও করেছে LINK।

এসব ফলকে সফল robotic servicing বলা যাবে না। LINK Swift-কে স্পর্শ বা grasp করেনি এবং যুক্ত অবস্থায় টেলিস্কোপটির কক্ষপথ বদলায়নি। বরং পরীক্ষাগুলো দেখিয়েছে, নিয়ন্ত্রণ-সমস্যার পরেও মহাকাশযানটি কক্ষপথ সমন্বয়, বাহু মোতায়েন, একযোগে thruster পরিচালনা এবং নিরাপদ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণের কিছু কাজ করতে পারে।

মিশনের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি এখানেই: কাছাকাছি পৌঁছানো এবং servicing সম্পন্ন করা এক সক্ষমতা নয়। শেষ কয়েক কিলোমিটারে এগোতে লক্ষ্যবস্তুর আপেক্ষিক অবস্থান জানার পাশাপাশি যথেষ্ট propellant reserve, নির্ভরযোগ্য attitude control এবং বিপদে সরে যাওয়ার ক্ষমতা প্রয়োজন। LINK-এর সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যৎ নকশায় কাজে লাগতে পারে, তবে সেই তথ্য থেকে নির্দিষ্ট design change কী হবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

Swift ও LINK-এর সামনে এখন যা আছে

Swift-কে উঁচু কক্ষপথে নেওয়ার এই পরিকল্পনা শেষ, আর LINK ঘনিষ্ঠ approach করবে না। ৪ সেপ্টেম্বর Katalyst-এর হিসাব ছিল, LINK আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ কক্ষপথে থেকে অবশিষ্ট পরীক্ষা চালানোর পর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না এলে দুই মহাকাশযানের আবার কাছাকাছি আসার পরিকল্পনা নেই।

উদ্ধার বাতিল হওয়া মানেই Swift তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করেছে—এমন নয়। টেলিস্কোপটির বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ চালু থাকলেও কক্ষপথের উচ্চতা কমতে থাকবে; পুনঃপ্রবেশের সময় নির্ভর করবে সৌর সক্রিয়তা ও atmospheric drag-এর ওপর। সেপ্টেম্বরের শুরুতে NASA সম্ভাব্য সময়সীমা অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত ধরেছিল।

এখন অমীমাংসিত প্রশ্ন হলো LINK-এর attitude-control সমস্যার নির্দিষ্ট উৎস এবং নয় মাসের নির্মাণসূচির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক। আপাতত নিশ্চিত ফল এতটুকুই: LINK Swift-কে রক্ষা করতে পারেনি, ১২–১৫ কিলোমিটারের মধ্যে এসে থেমেছে এবং শারীরিক সংযোগ ছাড়াই কিছু robotic-servicing capability পরীক্ষা করেছে।

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0