InspeCity পেল ১০০ কোটি রুপি: ১৮ মাসে চার কক্ষপথ মিশনই আসল পরীক্ষা

মুম্বাইভিত্তিক ভারতীয় মহাকাশ-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান InspeCity ২৭ আগস্ট ২০২৬-এ ১০০ কোটি রুপির pre-Series A অর্থায়ন তুলেছে। Speciale Invest ও বিনিয়োগকারী Ashish Kacholia রাউন্ডটির নেতৃত্ব দিয়েছেন; Antler Elevate, Antler India, Manish Gandhi ও Shastra VC-ও অংশ নিয়েছে বলে Moneycontrol-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ঘোষণায় InspeCity আগামী ১২–১৮ মাসে প্রায় চারটি কক্ষপথ মিশনের লক্ষ্য জানিয়েছে। অর্থাৎ রাউন্ড সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত ঘটনা হলেও propulsion, sensing, robotics ও docking প্রযুক্তির মহাকাশে কার্যকারিতা এখনো ভবিষ্যৎ পরীক্ষার বিষয়—শিরোনামের ‘আসল পরীক্ষা’ সেই ফারাকটিকেই নির্দেশ করে।
রাউন্ডটি মূলধন দিল, প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়
সদ্য তোলা ১০০ কোটি রুপিকে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ডলারের সমান ধরা হয়েছে। আগের প্রায় ১৫ লাখ ডলারের রাউন্ড এবং প্রায় ৫৭ লাখ ডলারের seed অর্থায়নসহ InspeCity-এর মোট equity funding এখন আনুমানিক ১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার; StartupTalky-র সংকলিত অর্থায়ন-তথ্যে এই হিসাব ও নতুন রাউন্ডের তারিখ দেওয়া হয়েছে। রুপি–ডলার রূপান্তর এবং প্রকাশিত অঙ্কগুলো rounded হওয়ায় এটি আনুমানিক মোট।
Speciale Invest এর আগে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও InspeCity-তে বিনিয়োগ করেছিল। নতুন অর্থ কোম্পানিটিকে একাধিক flight article তৈরি, উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা এবং প্রকৌশল, উৎপাদন ও mission-execution সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ দেবে। তবে বিনিয়োগকারীর অঙ্গীকার কোনো subsystem কক্ষপথে কাজ করবে—এমন নিশ্চয়তা দেয় না।
সহ-নেতৃত্বদানকারী Speciale Invest-এর নিজস্ব বিনিয়োগ-বিবরণ অনুযায়ী, propulsion, sensing ও robotics stack ভূমিতে যাচাই করা হয়েছে এবং ভারত ও বিদেশের গ্রাহকদের কাছ থেকে letters of intent ও commercial contract এসেছে; পরবর্তী মিশনটি sensing ও propulsion-এর প্রথম in-orbit validation হওয়ার কথা। সেখানে গ্রাহকের পরিচয়, চুক্তিমূল্য বা প্রত্যাশিত আয়ের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি, তাই বাজারের আগ্রহকে এখনই প্রতিষ্ঠিত revenue model বলা যাবে না।
চার মিশনে ঝুঁকি ধাপে ধাপে বাড়বে

InspeCity-এর পরিকল্পিত ক্রমটি একবারে সম্পূর্ণ satellite-servicing ব্যবস্থা ওড়ানোর বদলে প্রতিটি flight-এ আগের ফলের ওপর নতুন সক্ষমতা যোগ করার। প্রতিষ্ঠাতা ও CEO Arindrajit Chowdhury জানিয়েছেন, প্রথমে দুটি RIG মিশনে rendezvous and proximity operations পরীক্ষা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর VEDA মিশনে দুটি মহাকাশযানের দূরত্ব কমিয়ে সংযোগের কাছাকাছি যাওয়ার পরীক্ষা এবং পরবর্তী মিশনে docking দেখানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই ক্রমের পেছনে প্রযুক্তিগত নির্ভরতা আছে। Propulsion spacecraft-কে প্রয়োজনীয় পথে নেয়; proximity sensing লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান ও আপেক্ষিক গতি বুঝতে সাহায্য করে; autonomous operations নিরাপদ কাছে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে; robotics ও docking physical interaction সম্ভব করে। Refuelling-এর আগে এই ধাপগুলোকে আলাদাভাবে এবং পরে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
RIG-X, VEDA-X ও SAMA-X roadmap-এ ঘোষিত পরীক্ষার বিস্তৃত পরিসরে propulsion, sensing, autonomous operations, robotics, docking ও কক্ষপথে propellant transfer রয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত তথ্যে প্রতিটি mission-এর launch date, launch provider, orbital altitude, payload configuration বা আলাদা success criteria নেই। ফলে চার মিশনকে নিশ্চিত উৎক্ষেপণসূচি নয়, ১২–১৮ মাসের flight-qualification পরিকল্পনা হিসেবে দেখা যথাযথ।
Life-extension ব্যবসার পরীক্ষাটি কোথায়
InspeCity-এর বাণিজ্যিক ধারণা হলো, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়া বা কক্ষপথ ধরে রাখার ক্ষমতা হারানো উপগ্রহকে inspect, approach, dock, refuel বা manipulate করে তার কার্যকাল বাড়ানো। এতে অপারেটর একটি কার্যকর payload-সহ উপগ্রহ দ্রুত বদলে ফেলার পরিবর্তে বিদ্যমান সম্পদ আরও কিছু সময় ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। তবে সেই সুযোগ বাস্তব আয় হবে কেবল তখনই, যখন servicing-এর খরচ ও ঝুঁকি replacement satellite তৈরি ও উৎক্ষেপণের বিকল্পের তুলনায় গ্রহণযোগ্য হবে।
কোম্পানিটি পূর্ণ life-extension service প্রস্তুত হওয়ার আগেই GITA propulsion system ও RIG-ভিত্তিক সক্ষমতার commercial deployment বাড়াতে চায়। এটি দুটি সম্ভাব্য আয়ের স্তর তৈরি করে: অন্য spacecraft-এর জন্য subsystem বা সীমিত inspection capability বিক্রি এবং পরে সমন্বিত servicing service দেওয়া। প্রথম স্তরের বিক্রি দীর্ঘ উন্নয়নচক্রে আয় আনতে পারে, কিন্তু ঘোষিত customer economics না থাকায় সেই আয়ের পরিমাণ বা সময় এখনো নির্ণয় করা যায় না।
চার মিশনের ব্যবসায়িক গুরুত্ব এখানেই। প্রথম দিকের flight sensing ও propulsion-এর ঝুঁকি কমাতে পারে; পরের ধাপগুলো physical interaction, docking এবং শেষ পর্যন্ত refuelling-এর দাবিকে যাচাই করবে। একটি subsystem সফল হলেও interfaces ব্যর্থ হলে end-to-end life-extension service তৈরি হবে না—আর গ্রাহকের জন্য মূল্য তৈরি হবে সম্পূর্ণ কাজটি নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন হলে।
এখনো যে ফলগুলোর অপেক্ষা

এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হলো অর্থায়নের অঙ্ক, রাউন্ডের পর্যায়, প্রধান বিনিয়োগকারী এবং ১২–১৮ মাসে চারটি কক্ষপথ মিশনের লক্ষ্য। নিশ্চিত নয় মিশনগুলোর নির্দিষ্ট সময়, উৎক্ষেপণ-ব্যবস্থা, কোন flight-এ কোন hardware থাকবে, প্রতিটি পরীক্ষার সাফল্য কীভাবে মাপা হবে এবং বিদ্যমান commercial contract থেকে কত আয় আসতে পারে।
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হবে প্রথম মিশনের সময়, payload ও পরীক্ষার মানদণ্ড। তারপর orbital data দেখাবে InspeCity ভূমির পরীক্ষাকে flight qualification-এ রূপ দিতে পেরেছে কি না। চারটি মিশনের ফল একত্রে না আসা পর্যন্ত ১০০ কোটি রুপির রাউন্ডটি শক্তিশালী আর্থিক সমর্থনের প্রমাণ—satellite life-extension প্রযুক্তি বা তার revenue model সফল হওয়ার প্রমাণ নয়।
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।