bKash না Nagad merchant—কম charge-ই বেশি বিক্রির নিশ্চয়তা নয়

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|6 মিনিটের পাঠ
bKash না Nagad merchant—কম charge-ই বেশি বিক্রির নিশ্চয়তা নয়

BDGate-এর বাজার-তুলনায় bKash-এর মার্চেন্ট কমিশন ১.৫%–২.০% এবং Nagad-এর ১.০%–১.৫% দেখানো হয়েছে। একই বিক্রি একই শর্তে গ্রহণ করা গেলে Nagad-এর হার কম পড়তে পারে। কিন্তু কোনটি ব্যবসার জন্য সাশ্রয়ী, তার উত্তর নির্ভর করে ক্রেতারা কীভাবে দিতে চান, প্রাপ্ত টাকা কোন পথে ব্যবহারযোগ্য হবে এবং পেমেন্ট ব্যবস্থা চালাতে আর কী ব্যয় হবে তার ওপর।

কম হারের ওয়ালেটটি দোকানে রাখলেই অন্য ওয়ালেট ব্যবহারকারী ক্রেতার বিক্রি সেখানে চলে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার দুটি ওয়ালেট রাখার পর সব লেনদেনকেও বাড়তি বিক্রি বলা যায় না; কিছু ক্রেতা আগের ব্যবস্থাতেই কিনতেন। তাই কমিশনে সাশ্রয়, নতুন বিক্রি এবং পরিচালন ব্যয় আলাদা হিসাবে ধরতে হবে।

একই বিক্রিতে কমিশনের ব্যবধান কত

প্রকাশিত কমিশনের সীমা একটি বাজারধারণা, কোনো নির্দিষ্ট দোকানের জন্য পাওয়া দর নয়। সরাসরি মার্চেন্ট চুক্তি, অনলাইন পেমেন্টের পথ এবং বিক্রির পরিমাণ অনুযায়ী প্রযোজ্য শর্ত বদলাতে পারে। নিচের অঙ্কগুলো তাই শর্তসাপেক্ষ হিসাব: পুরো মাসের ডিজিটাল বিক্রি একটি ওয়ালেটে এসেছে এবং তুলনায় প্রকাশিত হারই প্রযোজ্য ধরা হয়েছে।

মাসে ৳১ লাখ বিক্রিতে ওই হারে bKash-এর কমিশন ৳১,৫০০–৳২,০০০, Nagad-এর ৳১,০০০–৳১,৫০০। ৳৫ লাখে যথাক্রমে ৳৭,৫০০–৳১০,০০০ ও ৳৫,০০০–৳৭,৫০০; ৳১০ লাখে ৳১৫,০০০–৳২০,০০০ ও ৳১০,০০০–৳১৫,০০০। এগুলো বিক্রির সঙ্গে শতাংশ গুণ করার ফল। প্রতিটি সীমার বিপরীত প্রান্ত বিয়োগ করে নিশ্চিত সাশ্রয় বলা যাবে না, কারণ ব্যবসার প্রকৃত দুটি হার এখনও জানা নেই।

ধরা যাক, ব্যবসাটি bKash-এর জন্য ১.৫% এবং Nagad-এর জন্য ১.২% প্রস্তাব পেল। একই ৳১ লাখ বিক্রি পুরোটা এক ওয়ালেট থেকে অন্যটিতে সরানো সম্ভব হলে কমিশনের ব্যবধান ৳৩০০। কিন্তু মাত্র অর্ধেক ক্রেতা কম হারের ওয়ালেট ব্যবহার করতে পারলে আগে থেকে হওয়া বিক্রিতে সম্ভাব্য সাশ্রয়ও অর্ধেক হবে। এই কারণেই প্রকাশিত সর্বনিম্ন হার একা ব্যবসার মোট ফল জানায় না।

টাকা হাতে আসার পথও খরচ বদলায়

পেমেন্ট গ্রহণের পর টাকা ব্যাংকে নেওয়া, ডেবিট কার্ডে পাঠানো বা নগদে তোলার পথ এক নয়। bKash-এর মার্চেন্ট সেটেলমেন্ট ছকে bKash থেকে আসা অর্থ ব্যাংকে সেটেল করতে ১.১৫% এবং এজেন্ট বা এটিএমে ক্যাশ আউট করতে ১.৩৫% দেখানো হয়েছে; ছকে ‘অন্যান্য’ উৎসের জন্য সংশ্লিষ্ট হার ১.১৫%। একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও অর্থের উৎস ও বের করার পথ অনুযায়ী হার আলাদা হতে পারে।

এই সেটেলমেন্ট ছকের হারকে আগের বাজার-তুলনার কমিশনের সঙ্গে সরাসরি যোগ করলে ভুল মোট ব্যয় পাওয়া যেতে পারে। প্রকাশনা দুটি একই মার্চেন্ট চুক্তি বা একই লেনদেনের ধারাবাহিক দুটি কর্তন বর্ণনা করছে, এমন তথ্য পাওয়া যায় না। দরকারি অঙ্ক হলো নির্দিষ্ট বিক্রির বিপরীতে গ্রাহকের পরিশোধ করা টাকা থেকে সব প্রযোজ্য কর্তন বাদ দিয়ে ব্যবসার নির্বাচিত হিসাবে শেষ পর্যন্ত কত পৌঁছায়।

যে দোকান সরবরাহকারীকে ব্যাংক থেকে টাকা দেয়, তার কাছে ব্যাংক সেটেলমেন্টের শর্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে দোকানের নিয়মিত নগদ দরকার, তার হিসাব বদলাতে পারে ক্যাশ আউটের পথে। Nagad-এর সমতুল্য মার্চেন্ট সেটেলমেন্ট শর্ত ছাড়া শুধু bKash-এর প্রকাশিত ছক দিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মোট খরচের চূড়ান্ত তুলনা করা যায় না। অর্থ জমার সময়ও দেখতে হবে: বিক্রির টাকা দিয়ে পরের চালান বা ফেরতের অর্থ মেটাতে হলে বিলম্বের প্রভাব কমিশনের ছোট ব্যবধানের চেয়ে বড় হতে পারে।

ক্রেতার নাগাল কমিশনের হিসাব বদলায়

ওয়ালেট গ্রহণের মূল্য নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দোকানের ক্রেতারা সেটি ব্যবহার করেন কি না। IFC–বিশ্বব্যাংকের ২০১৭ সালের মার্চেন্ট জরিপে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দোকানমালিক bKash মার্চেন্ট পেমেন্টকে ব্যবসার জন্য মূল্যবান বলেছেন এবং দশজনের মধ্যে নয়জন এর মাধ্যমে বিক্রির অংশ বাড়াতে চেয়েছেন। এটি তখনকার bKash ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা; আজ কোনো দোকানে bKash বা Nagad যোগ করলে কত নতুন বিক্রি হবে, তার পরিমাপ নয়।

কাউন্টারের দোকান, ফেসবুকভিত্তিক বিক্রেতা এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটের ক্রেতার পেমেন্ট-পছন্দ এক রকম হওয়ার কারণ নেই। কাউন্টারে কেউ পছন্দের ওয়ালেট না পেয়ে নগদে দিতে পারেন; অনলাইন চেকআউটে একই বাধা অর্ডার অসম্পূর্ণ রাখতে পারে। প্রথম অবস্থায় বিক্রি বজায় থেকেও ডিজিটাল লেনদেন কমল, দ্বিতীয় অবস্থায় বিক্রিই হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হলো। দুটি ফলকে একই ‘হারানো বিক্রি’ হিসাবে রাখলে দ্বিতীয় ওয়ালেটের উপকার অতিরঞ্জিত হবে।

একটি ব্যবসার জন্য কার্যকর তুলনা হলো বিদ্যমান ক্রেতার কত বিক্রি অন্য ওয়ালেটে সরতে পারে এবং অতিরিক্ত কত ক্রেতা শুধু নতুন পেমেন্ট বিকল্প থাকায় কেনা শেষ করবেন। প্রথম অংশে মূল সুবিধা কমিশনের ব্যবধান; দ্বিতীয় অংশে দেখতে হবে পণ্যের স্থূল মুনাফা থেকে সেই নতুন বিক্রির পেমেন্ট ব্যয় বাদ দিলে কী থাকে। জাতীয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দোকানের এই দুটি অংশ নির্ণয় করা যায় না।

দুই ওয়ালেটের লাভ-ক্ষতির সীমা

দুটি ওয়ালেট চালালে কমিশনের গড় হার নির্ভর করবে প্রতিটিতে বাস্তবে কত বিক্রি আসে তার ওপর। একটি শর্তসাপেক্ষ মিশ্রণে ৭০% বিক্রি bKash-এ এবং ৩০% Nagad-এ এলে প্রকাশিত সীমাগুলো ব্যবহার করে গড় কমিশন হয় ১.৩৫%–১.৮৫%। তাতে মাসে ৳১ লাখ বিক্রির কমিশন ৳১,৩৫০–৳১,৮৫০, ৳৫ লাখে ৳৬,৭৫০–৳৯,২৫০ এবং ৳১০ লাখে ৳১৩,৫০০–৳১৮,৫০০। এটি সম্ভাব্য মিশ্রণের অঙ্ক; কোনো প্রতিষ্ঠানের দেওয়া যৌথ দর নয়।

দ্বিতীয় ওয়ালেট যোগ করার জন্য কেবল আগে থেকে আসা বিক্রিতে কমিশন সাশ্রয়ের হিসাব করলে সূত্রটি সহজ: যে বিক্রি কম হারের পথে সরবে × দুই চুক্তির হারের ব্যবধান। উদাহরণ হিসেবে ব্যবধান ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট এবং মোট বিক্রির ৩০% সরবে ধরা যাক। মাসে ৳১ লাখ, ৳৫ লাখ ও ৳১০ লাখ বিক্রিতে সাশ্রয় হবে যথাক্রমে ৳১৫০, ৳৭৫০ ও ৳১,৫০০। এখানে বিক্রির মোট পরিমাণ একই রাখা হয়েছে।

যদি দ্বিতীয় ব্যবস্থা চালাতে মাসে অতিরিক্ত ৳১,০০০ লাগে, ওই অনুমানে শুধু কমিশন সাশ্রয়ে প্রথম দুই বিক্রিস্তরে খরচ উঠবে না; ৳১০ লাখের স্তরে উঠবে। সীমাটি প্রায় ৳৬ লাখ ৬৭ হাজার মাসিক ডিজিটাল বিক্রি, যখন একই ৩০% বিক্রি সরবে এবং হারের ব্যবধান অপরিবর্তিত থাকবে। ৳১,০০০ কোনো প্রকাশিত পরিষেবামূল্য নয়; সংযোগ, হিসাব মেলানো ও পরিচালনায় নিজের অতিরিক্ত ব্যয় বসানোর নমুনা।

নতুন ওয়ালেট না থাকলে যে অর্ডার হতোই না, তার হিসাব আলাদা। সেখানে পুরো বিক্রয়মূল্য লাভ নয়: পণ্যের খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট স্থূল মুনাফা থেকে নতুন পেমেন্টের প্রযোজ্য ব্যয় বাদ দিতে হবে। আগে থেকেই হওয়া একই বিক্রিকে কম কমিশনে সরানো বিক্রি এবং নতুন বিক্রি—দুই ঘরেই রাখা যাবে না।

সংযোগের ধরন এবং Bangla QR

দোকানে Bangla QR-এর মাধ্যমে সমর্থিত একাধিক পেমেন্ট পদ্ধতি গ্রহণের ব্যবস্থা

অনলাইন দোকান সরাসরি দুটি ওয়ালেট যুক্ত করলে প্রতিটির পেমেন্ট নিশ্চিত করা, ব্যর্থ লেনদেন সামলানো, ফেরত দেওয়া এবং হিসাব মেলানোর কাজ বহন করে। একটি গেটওয়ে কয়েকটি পদ্ধতি একই চেকআউটে আনতে পারে, কিন্তু তার চুক্তির চার্জ ও সেটেলমেন্টের পথ আলাদা হতে পারে। তাই সরাসরি সংযোগের শতাংশের সঙ্গে গেটওয়ের শতাংশ তুলনা করার আগে দুটির পরিষেবার পরিধি এবং মাসিক পরিচালন ব্যয় একই ভিত্তিতে আনতে হয়।

দোকানের কাউন্টারে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান কিউআর একটি ভিন্ন গ্রহণপথ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নির্দেশনায় ১ অক্টোবর থেকে Bangla QR পেমেন্টের অর্থ সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে তাৎক্ষণিক দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এখানে মার্চেন্ট হিসাবে অর্থ জমা হওয়া এবং পরে সেটি ব্যাংকে নেওয়া বা নগদে তোলার খরচ আলাদা বিষয়; দ্রুত জমার নিয়ম নিজে সেই পরের পথের চার্জ নির্ধারণ করে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের Bangla QR ফি নির্দেশনায় ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানের আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য করা হয়েছে এবং আগের জুলাইয়ের নির্দেশনা রহিত হয়েছে। এই আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি মার্চেন্টের চুক্তিতে ধার্য চার্জের সমার্থক নয়; শূন্য ফি দেখে দোকানের সব QR পেমেন্ট বিনা খরচে হবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ব্যবসার প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হলো তার গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান কোন ওয়ালেটের গ্রাহকের পেমেন্ট নেবে এবং প্রতিটি পথে হাতে কত টাকা দেবে।

একক ওয়ালেট, দুটি সরাসরি সংযোগ বা Bangla QR—যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, একই মাসের বিক্রির ওপর তিনটি অঙ্ক বসালে তুলনা পরিষ্কার হয়: বিদ্যমান বিক্রিতে পেমেন্ট ও অর্থ উত্তোলনের মোট কর্তন, নতুন ক্রেতা থেকে সম্ভাব্য স্থূল মুনাফা এবং ব্যবস্থা চালানোর অতিরিক্ত খরচ। কম কমিশন তখনই কাজে লাগবে, যখন ক্রেতারা সেই পথে দিতে পারবেন এবং সব খরচের পর ব্যবসার হাতে বেশি অর্থ থাকবে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0