শারীরিক কাজে digital stress—অসুস্থতার ছুটি গড়ে ২০% বেশি

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ| 1
শারীরিক কাজে digital stress—অসুস্থতার ছুটি গড়ে ২০% বেশি

জার্মানির ifo ইনস্টিটিউট, IAB ও University of Konstanz-এর যৌথ গবেষণা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, কর্মস্থলে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে প্রধানত শারীরিক কাজ করা কর্মীদের বছরে গড়ে প্রায় ২০% বেশি অসুস্থতাজনিত ছুটির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাঁদের নিজের দেওয়া স্বাস্থ্য-মূল্যায়নেও অবনতির সম্পর্ক দেখা গেছে।

জার্মানির কর্মীদের ওপর করা এই বিশ্লেষণে অফিস ও জ্ঞানভিত্তিক কাজের কর্মীদের ক্ষেত্রে একই নেতিবাচক সম্পর্ক শনাক্ত হয়নি। ২৬ সেপ্টেম্বরের SWR1 আলোচনায় গবেষক Oliver Schlenker-এর সঙ্গে এই পেশাভিত্তিক পার্থক্য নিয়ে কথা হয়েছে। ফলটি বাংলাদেশ বা ভারতের কর্মীদের অসুস্থতার ছুটি কতটা বদলাবে, তার পূর্বাভাস নয়; তবে নতুন প্রযুক্তি কোন ভূমিকায় কী চাপ যোগ করছে, সেই প্রশ্নটি সামনে আনে।

শারীরিক কাজে নেতিবাচক সম্পর্ক কেন আলাদা

ডিজিটালায়নের সঙ্গে দুই ধরনের কর্মীর কাজই জটিল হয়েছে এবং সময় ও কাজের ফল নিয়ে চাপ বেড়েছে। অথচ স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া ও বেশি অসুস্থতাজনিত ছুটির সম্পর্ক স্পষ্ট হয়েছে প্রধানত শারীরিক কাজের দলে। একই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সবার কাজে একই স্বাস্থ্যগত ফলের সঙ্গে যুক্ত নয়—এটাই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পেশাভিত্তিক পার্থক্য।

এখানে ‘ডিজিটালায়ন’ বলতে কেবল কম্পিউটার বা প্রচলিত সফটওয়্যার ব্যবহার বোঝানো হয়নি। আলোচনায় আছে সংযুক্ত যন্ত্র, সেন্সর, বড় তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা, রোবটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি। পরিচিত হাতে-কলমে কাজের সঙ্গে এসব ব্যবস্থার সংকেত বোঝা, নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া বা বদলে যাওয়া কাজের গতি সামলানোর চাহিদা যুক্ত হতে পারে। তবে কোন চাহিদাটি স্বাস্থ্যগত পার্থক্য তৈরি করেছে, বিশ্লেষণটি তা এককভাবে প্রমাণ করে না।

সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো ‘টেকনোস্ট্রেস’: প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা তৈরি হওয়ার আগে নতুন ডিজিটাল দায়িত্ব চাপের উৎস হতে পারে। কর্মীদের আগের কাজ কতটা ডিজিটাল ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক কাজের কর্মস্থলে প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার বড় পরিবর্তন মনে হতে পারে, যদিও একই যন্ত্র অন্য ভূমিকায় ততটা নতুন নয়।

অসুস্থতার ছুটির সংখ্যাটি কী বোঝায়

বিশ্লেষণে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের জরিপের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার প্রশাসনিক তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। গবেষণার আগের কর্মপত্রে ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কর্মস্থলে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং কর্মীদের নিজের জানানো স্বাস্থ্য ও অসুস্থতাজনিত ছুটির দিন বিশ্লেষণের পদ্ধতি দেওয়া আছে। প্রশাসনিক নথি চাকরি ও আয়ের তথ্য দিয়েছে; অসুস্থতার ছুটির দিনের সংখ্যা কর্মীরা জানিয়েছেন।

ওই আগের কর্মপত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ছুটির দিনের পরম অনুমান দেওয়া হয়েছে। নতুন ঘোষণার প্রায় ২০% সংখ্যাটি শতাংশে প্রকাশিত সারাংশ; দুটি সংখ্যাকে একই ভিত্তিতে সরাসরি তুলনা করা যায় না। নতুন ঘোষণায় শতাংশটির বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়নি। তাই শিরোনামের সংখ্যাটি জার্মান গবেষণার ঘোষিত গড় সম্পর্ক হিসেবে পড়তে হবে, কোনো কর্মস্থলে প্রযুক্তি চালুর পর ছুটি অবশ্যই ওই হারে বাড়বে—এমন পূর্বাভাস হিসেবে নয়।

গবেষণায় বয়স, আয়, শিক্ষা, আগের স্বাস্থ্য, পেশা, খাত ও প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যের মতো পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবু পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য থেকে একজন কর্মীর অসুস্থতার কারণ নিশ্চিত করা যায় না। প্রযুক্তির পাশাপাশি কাজের গতি, দায়িত্বের বিন্যাস, প্রশিক্ষণ ও সাহায্য পাওয়ার সুযোগ বদলাতে পারে; কোনটির কতটা ভূমিকা, তা আলাদা করে নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা দরকার।

প্রশিক্ষণ ও সহায়ক নেতৃত্বে কী দেখা গেছে

MDR-এর সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে গবেষক Oliver Schlenker ব্যাখ্যা করেছেন, প্রযুক্তি কাজ সহজ করার আগে কর্মীকে চাপে ফেলতে পারে; প্রশিক্ষণ ও ভালো নেতৃত্ব তখন গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যে সমস্যাটি শুধু কাজ শারীরিক হওয়ার নয়। আগে তুলনামূলক কম ডিজিটাল ছিল এমন কর্মস্থলে নতুন চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও বড় পরিবর্তন।

যাঁরা ডিজিটাল প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের দলে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সম্পর্ক প্রায় দেখা যায়নি এবং অতিরিক্ত অসুস্থতার ছুটিও মেলেনি। তত্ত্বাবধায়কের সহায়তা অনুভব করা কর্মীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি ছুটির সম্পর্ক দুর্বল ছিল। বিপরীতে, বেতন বাড়লে একই স্বাস্থ্যগত চাপ কাটে—এমন প্রমাণ গবেষকেরা পাননি। এগুলো প্রশিক্ষণ বা নেতৃত্বের কার্যকারিতার পরীক্ষামূলক ফল নয়: প্রশিক্ষণ পাওয়া কর্মী ও সহায়ক প্রতিষ্ঠানের অন্য বৈশিষ্ট্যও ফলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

প্রযুক্তি চালুর আগে ও পরে চার ধাপের স্বাস্থ্য নিরীক্ষা

গবেষণায় কোনো নির্দিষ্ট নিরীক্ষাপদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়নি। তবে মাপা বিষয়গুলো ধরে কারখানা, সরবরাহব্যবস্থা বা সেবাকাজে প্রতিটি শারীরিক ভূমিকার জন্য পরিবর্তনের আগে ও পরে তুলনা তৈরি করা যায়। নিচের ধাপগুলো সেই উদ্দেশ্যে সম্পাদকীয় কাঠামো, গবেষণায় প্রমাণিত সমাধান নয়।

  1. ভূমিকা ও আগের অবস্থা আলাদা করুন। কার কাজ প্রধানত হাতে-কলমে, আর কার কাজ প্রধানত পরিকল্পনা বা তথ্যভিত্তিক, তা আগে নির্ধারণ করুন। প্রযুক্তি চালুর আগের কাজের চাপ, কর্মীদের স্বেচ্ছায় দেওয়া স্বাস্থ্য-মূল্যায়ন এবং অসুস্থতাজনিত ছুটির সামগ্রিক প্রবণতা একই ভূমিকার জন্য নথিবদ্ধ করুন। সব কর্মীর গড় এক করলে ছোট কোনো শারীরিক কাজের দলের পরিবর্তন আড়ালে যেতে পারে।
  2. নতুন কাজের চাহিদা শনাক্ত করুন। সংযুক্ত যন্ত্র, সেন্সর বা সফটওয়্যার আসার পর কোন সংকেত বুঝতে, সিদ্ধান্ত নিতে বা অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে, তা কাজের ধাপ ধরে দেখুন। আগের দায়িত্বের সঙ্গে তুলনার পাশাপাশি কাজের পরিমাণ, গতি ও সময়সীমা বদলেছে কি না আলাদা রাখুন। এতে প্রযুক্তি শেখার চাপের সঙ্গে সাধারণ কাজের চাপ গুলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
  3. প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধায়কের সহায়তা দেখুন। কারা নতুন কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন এবং সমস্যায় কাকে সরাসরি বলতে পারছেন, তা দলভিত্তিক নথিবদ্ধ করুন। শুধু প্রশিক্ষণে উপস্থিতি নয়, কর্মী নতুন দায়িত্ব বুঝতে পারছেন কি না এবং সমস্যার কথা জানানোর পর কী সহায়তা মিলছে, সেটিও জানতে হবে।
  4. চালুর পর একই সূচক আবার মাপুন। তুলনায় একই ধরনের ভূমিকা, সমান সময়কাল এবং ছুটি গণনার একই নিয়ম ব্যবহার করুন। স্বাস্থ্য-মূল্যায়ন ও অনুপস্থিতির প্রবণতার পাশে কাজের চাপ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার তথ্য রাখুন। কোনো দলে অবনতি দেখা গেলে একটি সংখ্যাকে কারণের চূড়ান্ত প্রমাণ না ধরে কাজের গতি, নতুন দায়িত্ব ও সহায়তার ঘাটতি একসঙ্গে পর্যালোচনা করুন।

এই তুলনায় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যতথ্যের বদলে দলের সামগ্রিক প্রবণতা ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত, বিশেষত ছোট দলে। পরিবর্তনের মধ্যে ভূমিকা বা ছুটি গণনার নিয়ম বদলে গেলে আগের সঙ্গে সরল তুলনা বিভ্রান্ত করতে পারে। নিরীক্ষার উদ্দেশ্য স্থানীয় কর্মস্থলে কী ঘটছে তা বোঝা; জার্মান গবেষণার শতাংশ স্থানীয় কর্মীদের ওপর বসিয়ে দেওয়া নয়।

বর্তমান AI ব্যবস্থার প্রভাব সম্পর্কে কী অজানা

বিশ্লেষণের পর্যবেক্ষণকাল বর্তমান জেনারেটিভ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া AI ব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহারের আগের। তাই নির্দিষ্ট কোনো নতুন AI ব্যবস্থা শারীরিক কাজে অসুস্থতার ছুটি কতটা বদলায়, এই গবেষণা তা জানায় না। বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মস্থলেও কাজের ধরন, প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান এবং অসুস্থতার ছুটি নেওয়ার নিয়ম জার্মানির তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।

এখন প্রতিষ্ঠিত ফল হলো জার্মান তথ্যের বিশ্লেষণে বেশি ডিজিটাল হওয়া কর্মস্থল ও শারীরিক কাজের কর্মীদের খারাপ স্বাস্থ্য এবং বেশি অসুস্থতাজনিত ছুটির মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে; প্রশিক্ষণ ও সহায়তার উপস্থিতিতে সম্পর্কটি দুর্বল। নতুন AI ব্যবস্থা চালুর আগে ও পরে একই ধরনের কাজে স্বাস্থ্য, চাপ ও অনুপস্থিতি কীভাবে বদলায় এবং কোন সহায়তা কার্যকর হয়, তা জানতে নতুন তথ্য দরকার।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0