ভারতে startup ESOP কর পিছোতে পারে—চাকরি ছাড়লেই সময় এগোয়

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ
ভারতে startup ESOP কর পিছোতে পারে—চাকরি ছাড়লেই সময় এগোয়

ভারতে যোগ্য স্টার্টআপের কর্মী ইএসওপি শেয়ার পেলে বেতন-সুবিধা বা পারকুইজিট আয় তৈরি হতে পারে, যদিও শেয়ার বিক্রি করে হাতে নগদ আসেনি। ২০২৬ থেকে কার্যকর আয়কর আইনের ইএসওপি বিধান অনুযায়ী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওই আয়ের কর কাটার বা দেওয়ার সময় পিছোয়: সংশ্লিষ্ট করবর্ষ শেষের ৬০ মাস, শেয়ার বিক্রি কিংবা শেয়ার বরাদ্দকারী নিয়োগকর্তার চাকরি ছাড়ার মধ্যে যে ঘটনা আগে ঘটে, তার ১৪ দিনের মধ্যে কর দিতে হয়।

সুবিধাটি সব স্টার্টআপ কর্মীর জন্য নয়; নিয়োগকর্তাকে আইনের নির্দিষ্ট ‘যোগ্য স্টার্টআপ’ হতে হবে। শেয়ার পরে বিক্রি করলে মূলধনি লাভের হিসাবও করতে হয়। ফলে কর পিছোনোর সুবিধা পেলেও চাকরি ছাড়ার সময় বিক্রির টাকা ছাড়াই পারকুইজিটের করের জন্য অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।

গ্র্যান্ট থেকে বিক্রি: কোন ধাপে কী ঘটে

গ্র্যান্টের সময় কর্মী শর্তসাপেক্ষে ভবিষ্যতে শেয়ার কেনার অধিকার পান। ভেস্টিংয়ের পর সেই অধিকার ব্যবহারযোগ্য হয়; এক্সারসাইজে কর্মী নির্ধারিত দামে শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। করের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরের ঘটনাটি হলো শেয়ার বরাদ্দ বা হস্তান্তর। তখন শেয়ার বিক্রি না হলেও বেতন-সুবিধার আয় হিসাবের মধ্যে আসে।

পারকুইজিটের মূল্য নির্ণয়ে এক্সারসাইজের দিনের নিয়মমাফিক নির্ধারিত ন্যায্য বাজারমূল্য থেকে কর্মীর দেওয়া দাম বাদ যায়। অতালিকাভুক্ত স্টার্টআপের শেয়ারের জন্য এই মূল্য অফারপত্রে লেখা সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ধরে নেওয়া যায় না; নির্ধারিত মূল্যায়ন-পদ্ধতি প্রযোজ্য। শেয়ার বরাদ্দের করবর্ষেই আয়টি গণনায় আসে, কিন্তু যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে তার ওপর কর কাটার বা দেওয়ার সময় পরে যেতে পারে।

বিক্রি হলো পৃথক ধাপ। তখন বিক্রয়মূল্য ও করের হিসাবে শেয়ারের অধিগ্রহণমূল্যের পার্থক্য থেকে মূলধনি লাভ নির্ণয় হয়। ইএসওপি শেয়ারের ক্ষেত্রে সেই অধিগ্রহণমূল্যের ভিত্তি হলো পারকুইজিট গণনায় ব্যবহৃত ন্যায্য বাজারমূল্য। এতে একই মূল্যবৃদ্ধিকে গোড়া থেকে দুবার লাভ হিসেবে গণনা করা হয় না; বরাদ্দ পর্যন্ত বেতন-সুবিধা এবং তার পরের মূল্যবৃদ্ধি আলাদা থাকে।

কোন কর্মী স্থগিত করের সুবিধা পাবেন

Startup India-র এপ্রিল ২০২৬-এর সুবিধা-সংকলনে স্বীকৃত স্টার্টআপের সুবিধার মধ্যে কর্মীদের ইএসওপি আয়ের ওপর কর কাটার সময় পিছোনোর বিষয়টি রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ স্টার্টআপ-স্বীকৃতি এবং কর আইনের ‘যোগ্য স্টার্টআপ’ পরিচয় এক করে দেখা ঠিক নয়। কর্মীর শেয়ার যে নিয়োগকর্তা বরাদ্দ বা হস্তান্তর করেছেন, তাঁর আইনি যোগ্যতাই এই সুবিধার কেন্দ্রীয় শর্ত।

আয়কর বিভাগের স্টার্টআপ-যোগ্যতার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, DPIIT-এর স্বীকৃতি বিশেষ আয়কর-সুবিধার সব শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করে না। প্রাসঙ্গিক আইনি সংজ্ঞায় প্রতিষ্ঠানের ধরন, ব্যবসা ও ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল বোর্ডের যোগ্য ব্যবসার সনদের শর্ত আছে। তাই অফারপত্রে ‘স্টার্টআপ’ বা ‘ইএসওপি’ লেখা থাকাই কর্মীর স্থগিত কর পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। প্রতিষ্ঠাতা কর্মী হিসেবে শেয়ার পেয়ে থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে কর্মী-সম্পর্ক এবং বরাদ্দকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা দেখতে হবে।

৪৮ ও ৬০ মাস: সময়রেখা কোথা থেকে শুরু

বর্তমান আইনে ৬০ মাস গোনা হয় শেয়ার বরাদ্দের সংশ্লিষ্ট করবর্ষ শেষ হওয়ার পর থেকে; গ্র্যান্ট বা ভেস্টিংয়ের দিন থেকে নয়। ধরা যাক, যোগ্য কর্মীর শেয়ার আগস্ট ২০২৬-এ বরাদ্দ হলো। ওই করবর্ষ শেষ হবে ৩১ মার্চ ২০২৭-এ, আর সেখান থেকে ৬০ মাস শেষ হবে ৩১ মার্চ ২০৩২-এ। শেয়ার বিক্রি বা বরাদ্দকারী নিয়োগকর্তার চাকরি ছাড়া আগে ঘটলে অবশ্য ওই শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষার সুযোগ থাকে না।

আগের বিধানের ভাষা আলাদা ছিল। ২০২০ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের কর-বিধি ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নবর্ষ শেষের ৪৮ মাস, শেয়ার বিক্রি বা চাকরি ছাড়ার মধ্যে প্রথম ঘটনাটির পর ১৪ দিনের নিয়ম দেওয়া হয়। মূল্যায়নবর্ষ শুরু হয় শেয়ার বরাদ্দের অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পরে। তাই আগের বিধানের ৪৮ মাস ও বর্তমান বিধানের ৬০ মাস দুটি ভিন্ন শুরুর বিন্দু থেকে গোনা হয়; শুধু মাসের সংখ্যা দেখে কর দেওয়ার শেষ দিন বদলেছে বলা যায় না।

উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নবর্ষ ২০২৬–২৭ শেষ হয় ৩১ মার্চ ২০২৭-এ। তার ৪৮ মাস পূর্ণ হয় ৩১ মার্চ ২০৩১-এ—যা বরাদ্দের অর্থবর্ষ ৩১ মার্চ ২০২৬-এ শেষ হওয়ার ৬০ মাস পর। এই তুলনা সময় গণনার পদ্ধতি বোঝায়; কোনো কর্মীর প্রকৃত করদায় নির্ধারণে তাঁর বরাদ্দের বছর ও প্রযোজ্য আইন দেখতে হবে।

শেয়ার ধরে রেখেও চাকরি ছাড়লে কী হয়

ধরা যাক, আগস্ট ২০২৬-এ বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার একজন কর্মী ধরে রেখেছেন, কিন্তু ৩০ জুন ২০২৮-এ বরাদ্দকারী স্টার্টআপের চাকরি ছাড়লেন। তিনি ডিসেম্বর ২০২৮-এ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করলেও চাকরি ছাড়ার ঘটনাটি আগে ঘটেছে। যোগ্য কর্মীর স্থগিত পারকুইজিট করের ক্ষেত্রে তখন জুনের ঘটনাই ১৪ দিনের সময়সীমা চালু করে; বিক্রির অর্থ হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না।

এখানে চাকরি ছাড়ার অর্থ শেয়ার বরাদ্দ বা হস্তান্তরকারী নিয়োগকর্তার কর্মী থাকা বন্ধ হওয়া। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া কিংবা পুরোনো শেয়ার নিজের কাছে রাখা সেই ঘটনাকে পিছিয়ে দেয় না। কর্মীর করের হারও কেবল চাকরি ছাড়ার বছরের আয় দেখে নতুন করে বেছে নেওয়া হয় না; আইনের স্থগিত করের বিধানে শেয়ার বরাদ্দ বা হস্তান্তরের করবর্ষের প্রযোজ্য হার ব্যবহারের কথা আছে।

চাকরি বদলের সময় নগদের প্রশ্নটি তাই বাস্তব। শেয়ার অতালিকাভুক্ত হলে তা দ্রুত বিক্রি করা কঠিন হতে পারে, অথচ করের সময়সীমা চলে আসে। বেতন বা কর বিভাগের কাছ থেকে বরাদ্দের তারিখ, এক্সারসাইজের বাজারমূল্য, স্থগিত করের হিসাব ও কর কাটার ব্যবস্থা জানা থাকলে কর্মী নিজের সম্ভাব্য নগদ প্রয়োজন বুঝতে পারবেন।

কাল্পনিক হিসাব: একই শেয়ারে দুই করধাপ

একই ইএসওপি শেয়ারে বরাদ্দের সময় বেতন-সুবিধা এবং পরে বিক্রির সময় মূলধনি লাভ আলাদা হিসেবে তৈরি হয়।

ধরা যাক, একজন যোগ্য কর্মী ১,০০০টি ইএসওপি শেয়ার প্রতিটি ₹২০ দামে এক্সারসাইজ করলেন। নিয়মমাফিক নির্ধারিত বাজারমূল্য প্রতিটি ₹১০০ হলে কর্মীর দেওয়া মোট মূল্য ₹২০,০০০, আর পারকুইজিট আয় হবে (₹১০০ − ₹২০) × ১,০০০ = ₹৮০,০০০। ₹৮০,০০০ করের অঙ্ক নয়; এটি বেতন-আয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অঙ্ক। প্রকৃত কর নির্ভর করবে কর্মীর মোট আয় ও প্রযোজ্য করহারের ওপর।

পরে একই শেয়ার প্রতিটি ₹১৫০ দামে বিক্রি হলে এই সরল উদাহরণে মোট বিক্রয়মূল্য ₹১,৫০,০০০। পারকুইজিট গণনায় ব্যবহৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী অধিগ্রহণমূল্যের ভিত্তি ₹১,০০,০০০; বিক্রয়-সংক্রান্ত খরচের আগে মূলধনি লাভ ₹৫০,০০০। অর্থাৎ ₹৮০,০০০ বেতন-সুবিধার আয় এবং ₹৫০,০০০ বিক্রির মূলধনি লাভ—দুটি আলাদা করধাপ। বিক্রির প্রকৃত কর শেয়ারের ধরন, ধরে রাখার মেয়াদ, প্রযোজ্য ছাড় ও ব্যক্তিগত অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

এই অঙ্কে কর্মী চাকরি ছাড়ার আগে শেয়ার না বিক্রি করলে মূলধনি লাভ তখনও তৈরি হয়নি, কিন্তু স্থগিত বেতন-কর দেওয়ার সময় এসে যেতে পারে। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আগে নিয়োগকর্তার যোগ্যতা, বরাদ্দের করবর্ষ ও মূল্যায়নের নথি নিয়ে ভারতীয় করবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই যথাযথ।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0