Microsoft-এর স্বেচ্ছা প্রস্থান ভারতে—২৩ হাজার কর্মীর সবাই নন

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ| 1
Microsoft-এর স্বেচ্ছা প্রস্থান ভারতে—২৩ হাজার কর্মীর সবাই নন

২৬ অক্টোবর ২০২৬ Microsoft ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় যোগ্য কর্মীদের স্বেচ্ছা প্রস্থানের প্রস্তাব দিয়েছে; প্রায় ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাবের যোগ্য, যা জুনের শেষে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার বৈশ্বিক কর্মীর আনুমানিক ২৭ শতাংশ, এপি-র প্রতিবেদন জানিয়েছে। যোগ্য কর্মীরা আর্থিক ও কর্মজীবন পরিকল্পনার সহায়তা নিয়ে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যোগ্যতার এই হিসাব চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া কর্মীর সংখ্যা নয়।

ভারতে Microsoft-এর প্রায় ২৩ হাজার কর্মীর সবাই প্রস্তাবের আওতায় নেই; যোগ্য কর্মীদের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে এবং তাঁদের প্যাকেজে প্রতি পূর্ণ কর্মবর্ষে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা থাকার কথা, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী। ভারতে কতজন কর্মী প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য, সে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দেশের মোট কর্মীসংখ্যা দিয়ে সম্ভাব্য প্রস্থানকারীর সংখ্যাও নির্ণয় করা যায় না।

ভারতে কোন কর্মীরা প্রস্তাব পাবেন

Microsoft-এর মানবসম্পদপ্রধান অ্যামি কোলম্যান প্রতিষ্ঠানের ঘোষণায় জানিয়েছেন, নির্ধারিত দেশগুলোর অংশগ্রহণকারী দলে লেভেল ৭০ বা তার নিচের যোগ্য কর্মীরাই প্রস্তাব পাবেন; তাঁর ভাষায়, “The Voluntary Exit Offer is new for us.” লেভেল হলো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পদস্তর। তাই ভারতে কাজ করা এবং নির্ধারিত স্তরের মধ্যে থাকা—এই দুই শর্ত পূরণ করলেই সুযোগ নিশ্চিত হয় না; সংশ্লিষ্ট দলকেও কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।

কোলম্যানের ঘোষণায় অংশগ্রহণকারী দল বাছাইয়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবসার অগ্রাধিকার, গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতা ও কর্মীবাহিনীর প্রয়োজনের কথা রয়েছে। ভারতে Copilot, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, Windows ও Devices, Xbox, অর্থ বিভাগ এবং মানবসম্পদ বিভাগের কিছু পদ সম্ভাব্য আওতায় থাকার কথা এসেছে। এসব বিভাগের নাম পুরো বিভাগের কর্মীদের জন্য একক সিদ্ধান্ত বোঝায় না। একই বিভাগে দায়িত্ব ও দল আলাদা হলে প্রস্তাব পাওয়ার অবস্থাও আলাদা হতে পারে।

যোগ্য কর্মীদের ব্যক্তিগত প্রস্তাবের বিস্তারিত দেখার লিংকসহ ইমেল পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। সেই বার্তায় সংশ্লিষ্ট কর্মী তাঁর জন্য প্রযোজ্য শর্ত জানতে পারবেন; সাধারণ ঘোষণায় সবার জন্য অভিন্ন অর্থের অঙ্ক বা সুবিধার তালিকা দেওয়া হয়নি। এতে দলের অংশগ্রহণ ও ব্যক্তিগত যোগ্যতার মধ্যে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। ভারতে কর্মসূচির প্রকৃত পরিধি জানতে কতজন এমন বার্তা পেয়েছেন, সেই স্থানীয় হিসাব প্রয়োজন; প্রকাশ্য তথ্য থেকে এখন তা জানা যাচ্ছে না।

৬০ হাজার, ২৩ হাজার এবং বাস্তব প্রস্থান আলাদা হিসাব

Microsoft-এর বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর তুলনায় স্বেচ্ছা প্রস্থানের প্রস্তাবের জন্য যোগ্য অংশ

বৈশ্বিক যোগ্যতার হিসাব চার দেশের অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে একসঙ্গে ধরে। ভারতের মোট কর্মীসংখ্যা শুধু একটি দেশের কর্মীবাহিনীর আকার দেখায়; তার মধ্যে কতজন যোগ্য, সেটি দেখায় না। তাই বৈশ্বিক সংখ্যাকে ভারতের কর্মীদের ওপর একই অনুপাতে বসিয়ে স্থানীয় যোগ্য কর্মীর অনুমান করা বিভ্রান্তিকর হবে। অন্য দেশগুলোতে কতজন যোগ্য এবং ভারতে কোন দল কত বড়, সেসব তথ্য ছাড়া এমন ভাগ করার ভিত্তি নেই।

বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর তুলনায় যোগ্য অংশের শতাংশটিও আনুমানিক। মোট কর্মীর ভিত্তি জুনের শেষের হিসাব, আর প্রস্তাব এসেছে অক্টোবরে; এই সময়ের মধ্যে কর্মীসংখ্যা বদলাতে পারে। শতাংশটি প্রস্তাবের ব্যাপ্তি বোঝাতে সাহায্য করে, কিন্তু অক্টোবরে ঠিক কতজন কর্মী চাকরিতে ছিলেন বা তাঁদের কতজন ভারতে কাজ করেন, তার হালনাগাদ হিসাব দেয় না। ভারতে মোট কর্মী আর বিশ্বজুড়ে যোগ্য কর্মী—এই দুই সংখ্যার সময় ও পরিসরও এক নয়।

বাস্তব প্রস্থানের হিসাব তৈরি হবে যোগ্য কর্মীরা প্রস্তাব গ্রহণ করার পর। কেউ প্রস্তাব পেলেও চাকরিতে থাকতে পারেন; আবার যাঁরা গ্রহণ করবেন, তাঁদের চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়াও পরে সম্পন্ন হবে। এই কর্মসূচিতে কর্মীর নিজের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় বিষয়। ফলে যোগ্য কর্মীর সংখ্যা, প্রস্তাব গ্রহণকারীর সংখ্যা এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা পৃথক পর্যায়ের তথ্য। ভারতের জন্য প্রথমটির স্থানীয় হিসাবই প্রকাশিত হয়নি।

আর্থিক সহায়তা ও সিদ্ধান্তের সময়সীমা

Microsoft-এর ভারতে যোগ্য কর্মীদের প্রস্তাব গ্রহণের ১ ডিসেম্বরের সময়সীমা

প্রস্তাব গ্রহণকারী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং পরবর্তী কর্মজীবনের পরিকল্পনার উপকরণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভারতীয় প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্যাকেজকে Microsoft-এর প্রচলিত চাকরি ছাড়ার ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার কাছাকাছি বলা হয়েছে; সেখানে মূল বেতনের সঙ্গে চাকরির মেয়াদ যুক্ত থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা ও কর্মজীবন পরিবর্তনে সহায়তার উল্লেখ আছে। তবে এই বিবরণকে প্রত্যেক কর্মীর চূড়ান্ত ব্যক্তিগত প্যাকেজের নিশ্চয়তা হিসেবে পড়া যায় না। ব্যক্তিগত প্রস্তাবেই নির্দিষ্ট অর্থ ও সুবিধার শর্ত থাকার কথা।

সিদ্ধান্ত জানানোর শেষ দিনটি চাকরি ছাড়ার দিনের সমার্থক নয়। ভারতীয় প্রতিবেদনে প্রস্তাব গ্রহণকারীদের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চলে যাওয়ার প্রত্যাশার কথা রয়েছে। প্রথমে কর্মীকে প্রস্তাবে সাড়া দিতে হবে; তার পর নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সমাপ্তি ঘটবে। এই ব্যবধানের কারণে সিদ্ধান্তের সময়সীমা পেরোলেই কতজন বাস্তবে চাকরি ছেড়েছেন, তার পূর্ণ হিসাব পাওয়া যাবে—এমন ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

প্রস্তাবটি নতুন হওয়ায় কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আর প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনী বদলের উদ্দেশ্য একই প্রক্রিয়ায় এসেছে। কোলম্যানের বক্তব্যে যাঁরা প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য সহায়তাসহ একটি পথের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিজেদের পরিবর্তিত প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল সাজানোর সুযোগ পাবে। কর্মী প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তের ওপরই ঘোষিত যোগ্যতার পরিধি বাস্তব প্রস্থানে কতটা রূপ নেয়, তা নির্ভর করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা স্পষ্ট

Microsoft কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগের সময় কর্মসূচিটি চালু করেছে। তবে একই সময়ে দুটি ঘটনা ঘটার অর্থ এই নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট কর্মীদের কাজ নিয়ে নেওয়ায় তাঁদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্য ঘোষণায় কর্মসূচির কারণ হিসেবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পরিবর্তিত প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে; কোন পদের কাজ প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, তার তালিকা দেওয়া হয়নি। তাই বিনিয়োগের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তাবের ঘোষিত উদ্দেশ্য আলাদা করে দেখা জরুরি।

সম্ভাব্য আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত কাজের দলও আছে। সেটি ওই দলগুলোর সব কাজ অপ্রয়োজনীয় হওয়ার প্রমাণ নয়: দলভিত্তিক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে ব্যবসার অগ্রাধিকার ও গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতাও বিবেচনায় আছে। কর্মসূচির আওতায় একটি বিভাগ থাকার অর্থ সেই বিভাগের প্রত্যেক পদ একইভাবে বদলাবে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। ভারতের প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য তাৎক্ষণিক বাস্তব পরিবর্তন হলো নির্দিষ্ট যোগ্য কর্মীর সামনে সহায়তাসহ চাকরি ছাড়ার একটি সময়সীমাবদ্ধ বিকল্প এসেছে।

ভারতে কর্মসূচির প্রভাবের পরবর্তী নির্দিষ্ট তথ্য হবে কতজন যোগ্য কর্মী ব্যক্তিগত প্রস্তাব পেয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কতজন তা গ্রহণ করেছেন। সিদ্ধান্ত জানানোর সময়সীমার পরও প্রকৃত প্রস্থানের সংখ্যা জানতে চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার তথ্য প্রয়োজন হবে। সেই হিসাব প্রকাশ পেলে বৈশ্বিক যোগ্যতার বড় সংখ্যাটির মধ্যে ভারতের অংশ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে কর্মসূচির বাস্তব প্রভাব আলাদা করে বোঝা যাবে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0