
৪৭% কর্মী এখন AI agent ব্যবহার করেন—তবু অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের কৌশল অস্পষ্ট

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত HP-এর Work Relationship Index অনুযায়ী, ১৫ দেশের ১৯,৫০৬ জন ডেস্কভিত্তিক কর্মীর জরিপে ৪৭% কাজে এআই এজেন্ট ব্যবহার করেন; প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের স্পষ্ট এআই কৌশল নেই। শেষের হিসাবটি কর্মীদের ধারণা, জরিপে প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক কৌশল আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি।
একই সূচক নিয়ে Hyperight-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া এআই সরঞ্জাম দৈনিক বা সাপ্তাহিক ব্যবহার করেন ৫৯% জ্ঞানকর্মী, আগের বছরের ৪৬% থেকে বেশি; কাজের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্কের কথা বলেছেন ২৯%, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। এআই সরঞ্জামের নিয়মিত ব্যবহার এবং এজেন্ট ব্যবহার ভিন্ন প্রশ্নের ফল। প্রথমটির ভিত্তি জ্ঞানকর্মীরা, দ্বিতীয়টিতে জরিপের সব কর্মীগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত।
ব্যবহার বাড়লেও কাজের অভিজ্ঞতা কতটা বদলেছে
সুস্থ কাজের সম্পর্কের হার বাড়লেও অধিকাংশ জ্ঞানকর্মী এখনো ওই শ্রেণিতে পড়েন না। সূচকে কর্মীরা কাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট, তার মূল্যায়ন দিয়েছেন। এটি উৎপাদনশীলতার পরীক্ষা বা মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসাগত নির্ণয় নয়। ফলে এজেন্ট ব্যবহারের হার বাড়া এবং কাজের অভিজ্ঞতার উন্নতিকে এক ফল হিসেবে পড়লে জরিপের দুটি আলাদা মাপ গুলিয়ে যায়।
একজন কর্মী নিয়মিত এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করেও নিজের দায়িত্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকতে পারেন। তাঁর কাছে সফটওয়্যার পৌঁছেছে কি না, তিনি কাজের পরিবর্তন বুঝতে পারছেন কি না এবং সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত বোধ করছেন কি না—এসব পৃথক অভিজ্ঞতা। জরিপে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কাজের সঙ্গে সম্পর্ক পাশাপাশি মাপা হয়েছে; কোনো কর্মীদলকে এজেন্ট দিয়ে অন্য সমতুল্য দল থেকে আলাদা করে ফল পরীক্ষা করা হয়নি। তাই কাজের সন্তুষ্টি বাড়ার কারণ হিসেবে শুধু এজেন্টকে চিহ্নিত করা যায় না।
এজেন্ট ব্যবহারকারীদের সন্তুষ্টির পাশেই প্রতিস্থাপনের আশঙ্কা
HP-এর দক্ষতা বিষয়ক ফলাফলে এআই এজেন্ট ব্যবহারকারী জ্ঞানকর্মীদের ৩২% কাজের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্কের শ্রেণিতে আছেন, শুধু জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হারটি ২৮% এবং এআই ব্যবহার না করা কর্মীদের ক্ষেত্রে ২১%; আবার এজেন্ট ব্যবহারকারীদের ৪৪% এআইয়ের কারণে প্রতিস্থাপিত হওয়ার আশঙ্কা জানান, শুধু জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে হারটি ৩৭%। তুলনামূলক ভালো কাজের অভিজ্ঞতা এবং চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি উদ্বেগ একই ব্যবহারকারী গোষ্ঠীতে দেখা যাচ্ছে।
এই তুলনার ভিত্তি প্রতিটি গোষ্ঠীর উত্তরদাতা। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে কতজন সুস্থ কাজের সম্পর্কের কথা বলেছেন, তার সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীগুলোর উত্তর তুলনা করা হয়েছে। এটি সব সন্তুষ্ট কর্মীর মধ্যে কতজন এজেন্ট ব্যবহার করেন, সেই হিসাব নয়। বেশি আত্মবিশ্বাসী বা প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীরা আগে থেকেই এজেন্ট ব্যবহার শুরু করে থাকতে পারেন; জরিপের এই তুলনা দিয়ে ব্যবহার তাঁদের সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে কি না নির্ধারণ করা যায় না।
প্রতিস্থাপিত হওয়ার আশঙ্কাও বাস্তবে চাকরি হারানোর হার নয়। কর্মীর কাছে কোন দায়িত্ব তাঁর থাকবে এবং কোন কাজ এআইয়ের সহায়তায় বদলাবে, সেই প্রশ্নটি সরঞ্জাম ব্যবহারের সঙ্গে সামনে আসে। ফলে এজেন্ট ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিজের পদের স্থায়িত্ব নিয়ে আস্থা এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটি না ধরলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা কর্মীর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অতিরিক্ত আশাবাদী ধারণা দিতে পারে।
কৌশল ও কর্মীর কাছে পৌঁছানো ব্যাখ্যার ফারাক
প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা কর্মীর কাছে কতটা পরিষ্কার, সেখানে নেতৃত্ব ও কর্মীদের উত্তরে ব্যবধান আছে। HP-এর ভূমিকা পরিবর্তন বিষয়ক ফলাফলে তথ্যপ্রযুক্তি সিদ্ধান্তগ্রহীতাদের ৬৩% এবং ব্যবসায়িক নেতাদের ৬৪% বলেছেন, এআই ও নতুন প্রযুক্তি দায়িত্বে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা তাঁদের প্রতিষ্ঠান স্পষ্টভাবে জানায়; জ্ঞানকর্মীদের মধ্যে এমন উত্তর দিয়েছেন ৪৪%। পরিকল্পনা নিয়ে নেতৃত্বের ধারণা এবং সেই পরিকল্পনা কর্মীদের কাছে বোধগম্য হওয়ার অভিজ্ঞতা যে এক নয়, ব্যবধানটি তা দেখায়।
‘স্পষ্ট এআই কৌশল নেই’ এবং ‘ভূমিকার পরিবর্তন স্পষ্টভাবে জানানো হয় না’—জরিপে এগুলো পৃথক বিষয়। এক প্রশ্নের উত্তর থেকে অন্যটির নির্ভুল হার বের করা যায় না। তবে দুটিই কাজের নকশার একই সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে: এজেন্ট কোনো কাজ সামলাতে শুরু করলে কর্মীর দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা কীভাবে বদলাবে, তা বোঝানোর প্রয়োজন হয়। শুধু সরঞ্জাম দেওয়ার তথ্য দিয়ে সেই ব্যাখ্যা কর্মীর কাছে পৌঁছেছে কি না জানা যায় না।
নেতা ও কর্মীর উত্তর একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদে একে অপরের সরাসরি বিপরীত মত, এমন হিসাবও এখানে নেই। জরিপটি আলাদা কর্মীগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। তবু সিদ্ধান্তগ্রহীতা যেখানে যোগাযোগকে পরিষ্কার মনে করছেন, জ্ঞানকর্মীর উত্তর সেখানে কম ইতিবাচক। এজেন্ট চালুর পরিকল্পনায় এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন কাজের পদ্ধতি শেষ পর্যন্ত কর্মীকেই নিজের দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যে বুঝে নিতে হয়।
চাকরির ঝুঁকিবোধে দক্ষতা শেখার গুরুত্ব
এআই নিয়ে উদ্বেগের পেছনে কর্মক্ষেত্রের বৃহত্তর অনিশ্চয়তাও আছে। Adnkronos-এর প্রতিবেদনে জরিপের বৈশ্বিক ফল তুলে ধরে বলা হয়েছে, ৮৬% জ্ঞানকর্মী আগের বছরে সাংগঠনিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, ৬৭% এখন চাকরি বদলানোকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন, ৫৯% কর্মী অন্য কাজেও প্রয়োগ করা যায় এমন দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং উন্নয়নে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে থাকার সম্ভাবনা বেশি বলেছেন ৭৩% জ্ঞানকর্মী। চাকরি বদল ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা আর বাস্তবে বদলানোর সুযোগ না থাকা এক নয়; এখানে কর্মীদের ঝুঁকিবোধ ধরা পড়েছে।
এজেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের সম্পর্ক তাই শুধু একটি নতুন সফটওয়্যার চালাতে শেখায় সীমিত নয়। দায়িত্বের সীমানা বদলালে নতুন কাজেও কাজে লাগে এমন দক্ষতা কর্মীর কাছে মূল্যবান হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে শেখার সুযোগ দেখা গেলে সেখানে থাকার ইচ্ছা বাড়তে পারে বলে উত্তরদাতারা জানিয়েছেন। জরিপে এই মনোভাবগুলো পাশাপাশি পাওয়া গেছে; কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মী ধরে রাখবে বা প্রতিস্থাপনের ভয় কমাবে, এমন পরীক্ষার ফল এতে নেই।
ভারত ও বাংলাদেশের পাঠকের জন্য নমুনার সীমা
বৈশ্বিক নমুনার দেশগুলোর মধ্যে ভারত আছে, বাংলাদেশ নেই। ফলে সামগ্রিক এজেন্ট ব্যবহারের হারকে ভারতের আলাদা হার বা বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রের ছবি বলা যায় না। জরিপটি ডেস্কভিত্তিক কর্মীদের অভিজ্ঞতা নিয়েও; অন্য ধরনের কাজে এআইয়ের ব্যবহার, দায়িত্বের পরিবর্তন ও শেখার সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দলের অভিজ্ঞতা বুঝতে এই বৈশ্বিক ফলের সঙ্গে সেই দলের নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।
কর্মীদের উত্তরে একটি বিষয় স্পষ্ট: এজেন্ট কাজে ঢুকে পড়লেও ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়ে গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কর্মীরা কাজের সিদ্ধান্তে নিজের জায়গা বুঝতে পারছেন কি না, সেটিই পরের পরিবর্তনের প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ব্যবহারের হার সেই অভিজ্ঞতার একটি অংশ দেখায়; কর্মীর আস্থা ও প্রস্তুতির খবর জানতে তাঁর কাজ কীভাবে বদলাচ্ছে, সেটিও জানতে হয়।
আরও পড়ুন:
সম্পর্কিত নিবন্ধ


৮৩% প্রতিষ্ঠানে AI agent চলছে—কিন্তু trusted data পেয়েছে মাত্র ৩৬%

কর্মীরা AI-তে আত্মবিশ্বাসী, তবু অর্ধেকের সময়ই উল্টো নষ্ট হয়েছে

কর্মীদের আস্থা নতুন তলানিতে—AI নিয়ে উল্লেখ এক বছরে ১৬৪% বেড়েছে

AI-তে ৮০% কর্মী লাভ দেখেন, EBIT লাভে প্রতিষ্ঠান মাত্র ৩৭%

কর্মীরা নিজেরাই AI শিখছেন—প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ আটকে এক-ষষ্ঠাংশে
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।