
ESOP বিক্রির আগেই কর আসতে পারে—ভারতে দুই ধাপে হিসাব

ভারতে কর্মীর ESOP শেয়ার বিক্রির আগেই করযোগ্য আয় তৈরি হতে পারে: শেয়ার বরাদ্দে চাকরিসূত্রে সুবিধা, পরে বিক্রিতে মূলধনি লাভ—সিএসএম অ্যান্ড কোম্পানির করব্যাখ্যায় এই দুই ধাপ দেখানো হয়েছে। প্রথম ধাপে এক্সারসাইজের সময়ের ন্যায্য বাজারমূল্য থেকে কর্মীর দেওয়া মূল্য বাদ যায়। দ্বিতীয় ধাপে বিক্রয়মূল্য থেকে সেই বাজারমূল্যই অধিগ্রহণমূল্য হিসেবে বাদ যায়।
তাই এক্সারসাইজের দাম মেটানোর পর শেয়ার হাতে এলেও, বিক্রির টাকা পাওয়ার আগেই বেতন-সুবিধার ওপর করের দায় তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা স্টার্টআপের কর্মীর ক্ষেত্রে এই করের পরিশোধ পিছোয়; করযোগ্য সুবিধার হিসাব কিন্তু বরাদ্দের বছরেই হয়। অধিকার পাওয়া, তা প্রয়োগ করা, শেয়ার পাওয়া এবং শেয়ার বিক্রি—এই সময়গুলো আলাদা করলে নগদের প্রয়োজনও পরিষ্কার হয়।
গ্রান্ট, ভেস্টিং ও বরাদ্দে কী বদলায়
গ্রান্টের সময় নিয়োগকর্তা কর্মীকে ভবিষ্যতে নির্ধারিত দামে শেয়ার কেনার অধিকার দেন। ভেস্টিংয়ের শর্ত পূরণ হলে অধিকারটি প্রয়োগযোগ্য হয়; কর্মী তখনও শেয়ার কিনতে বাধ্য নন। সাধারণ ESOP ব্যবস্থায় শুধু গ্রান্ট বা ভেস্টিংয়ের জন্য কর্মীর এই সুবিধার ওপর কর বসে না। অধিকারটি প্রয়োগ না করে মেয়াদ শেষ হতে দিলে শেয়ার বরাদ্দও হয় না, ফলে ওই সুবিধার করঘটনা তৈরি হয় না।
এক্সারসাইজে কর্মী অধিকার প্রয়োগ করে নির্ধারিত মূল্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যালটমেন্ট বা বরাদ্দে শেয়ার তাঁর নামে আসে। তারিখ দুটি আলাদা হলে করের দুটি নিয়ম মনে রাখতে হয়: চাকরিসূত্রে সুবিধা বরাদ্দের বছরের আয়, কিন্তু সুবিধাটির মূল্য মাপা হয় এক্সারসাইজের সময়কার ন্যায্য বাজারমূল্য দিয়ে। পরে বিক্রির লাভ স্বল্পমেয়াদি না দীর্ঘমেয়াদি, তা নির্ধারণে শেয়ার ধরে রাখার সময় গণনা শুরু হয় বরাদ্দ থেকে।
এক্সারসাইজের ন্যায্য বাজারমূল্য কীভাবে নির্ধারিত হয়
ন্যায্য বাজারমূল্য বা FMV কর্মী নিজের মতো ঠিক করেন না। আয়কর বিধিমালার ১৫ নম্বর নিয়মে এক্সারসাইজের দিন স্বীকৃত এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ারের শুরুর ও শেষ লেনদেনমূল্যের গড় নেওয়ার বিধান আছে। একাধিক স্বীকৃত এক্সচেঞ্জে লেনদেন হলে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া এক্সচেঞ্জের হিসাব ব্যবহৃত হয়; সেদিন লেনদেন না হলে নিকটতম আগের লেনদেনদিনের শেষ মূল্য নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
অতালিকাভুক্ত শেয়ারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে মার্চেন্ট ব্যাংকার মূল্যায়ন করেন। সেই দিনটি এক্সারসাইজের দিন হতে পারে, অথবা তার আগের সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে হতে পারে। ফলে স্টার্টআপের সাম্প্রতিক বিনিয়োগে আলোচিত শেয়ারদামকে সরাসরি কর্মীর ESOP-এর করযোগ্য FMV ধরে নেওয়া যায় না। কোন মূল্যায়ন প্রযোজ্য, তা করবিধির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে।
প্রতি শেয়ারের FMV থেকে কর্মী বাস্তবে যত মূল্য দিয়েছেন, তা বাদ দিলে প্রতি শেয়ারের চাকরিসূত্রে সুবিধা পাওয়া যায়। বরাদ্দ হওয়া শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে সেই পার্থক্য গুণ করলে মোট করযোগ্য সুবিধা মেলে। এটি কর হিসেবে জমা দেওয়ার অঙ্ক নয়; এটি বেতনের সঙ্গে যুক্ত আয়ের অঙ্ক। কর্মীর মোট করযোগ্য আয় ও প্রযোজ্য হারের ওপর প্রকৃত কর নির্ভর করবে।
একই শেয়ারে একটি কাল্পনিক হিসাব
ধরা যাক, একজন কর্মী এক হাজারটি বিকল্প প্রয়োগ করে প্রতিটি শেয়ার ২০ রুপিতে নিলেন। নিয়মমাফিক নির্ধারিত FMV এক্সারসাইজের সময় প্রতি শেয়ারে ১০০ রুপি। পরে তিনি সব শেয়ার প্রতিটি ১৩০ রুপিতে বিক্রি করলেন। সংখ্যাগুলো কেবল হিসাব বোঝানোর জন্য; এখানে লেনদেনের অন্য খরচ বা বিশেষ সমন্বয় ধরা হয়নি।
- শেয়ার নেওয়ার সময় কর্মীর নগদ খরচ: ১,০০০ × ২০ = ২০,০০০ রুপি।
- বরাদ্দের বছরে চাকরিসূত্রে করযোগ্য সুবিধা: ১,০০০ × (১০০ − ২০) = ৮০,০০০ রুপি।
- পরে বিক্রির হিসাবে মোট অধিগ্রহণমূল্য: ১,০০০ × ১০০ = ১,০০,০০০ রুপি।
- মোট বিক্রয়মূল্য ১,০০০ × ১৩০ = ১,৩০,০০০ রুপি; মূলধনি লাভ ১,৩০,০০০ − ১,০০,০০০ = ৩০,০০০ রুপি।
এখানে ৮০,০০০ রুপি বেতনের সুবিধা, আর ৩০,০০০ রুপি বিক্রির মূলধনি লাভ। প্রথম অঙ্কটি নির্ধারিত হওয়ার সময় শেয়ার বিক্রি হয়নি; কর্মীর নগদ খরচ হয়েছে ২০,০০০ রুপি। কর স্থগিতের যোগ্যতা না থাকলে এই পর্যায়ে কর কাটার ব্যবস্থাও প্রয়োজন হতে পারে। ফলে শেয়ারের কাগুজে মূল্য বেড়েছে বলে যে আয় ধরা হচ্ছে, তা দিয়ে তখনই কর মেটানোর মতো বিক্রয়প্রাপ্তি কর্মীর হাতে আসে না।
সরল উদাহরণে করযোগ্য অঙ্ক দুটি যোগ করলে ১,১০,০০০ রুপি হয়। বিক্রয়প্রাপ্তি ১,৩০,০০০ রুপি থেকে কর্মীর দেওয়া ২০,০০০ রুপি বাদ দিলেও একই ফল পাওয়া যায়। এই মিলটি হিসাবের দুই অংশ বোঝায়; পুরো অঙ্কের ওপর একটিমাত্র করহার বসানোর নিয়ম নয়। বেতন-সুবিধা ও মূলধনি লাভ আলাদা ধরনের আয়, আর দ্বিতীয়টির প্রযোজ্য হার শেয়ারের ধরন ও ধরে রাখার সময়ের ওপর নির্ভর করে।
বিক্রিতে পুরোনো FMV-ই খরচের ভিত্তি কেন
আয়কর আইনের ৭৩ ধারায় চাকরিসূত্রে সুবিধা মাপার জন্য ব্যবহৃত FMV-কে ওই ESOP শেয়ারের অধিগ্রহণমূল্য ধরা হয়েছে। এই কারণে উদাহরণে বিক্রয়মূল্য থেকে প্রতি শেয়ারে ১০০ রুপি বাদ গেছে, কর্মীর দেওয়া ২০ রুপি নয়। ২০ রুপি আগেই বেতনের সুবিধা নির্ধারণের সময় FMV থেকে বাদ পড়েছে; সেটি বিক্রিতে আবার বাদ দিলে একই ব্যয় দ্বিতীয়বার গণনায় ঢুকবে।
বরাদ্দ থেকে বিক্রি পর্যন্ত সময় তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত শেয়ারের ক্ষেত্রে ভিন্ন করশ্রেণি তৈরি করতে পারে। বিক্রির পদ্ধতি ও শেয়ারের ধরনও হারে প্রভাব ফেলে। তাই উদাহরণ থেকে ৩০,০০০ রুপি লাভ বের করা গেলেও শেয়ার কোথায় তালিকাভুক্ত এবং কত দিন রাখা হয়েছিল, তা ছাড়া নির্দিষ্ট করের অঙ্ক বলা যায় না।
বিক্রির দাম এক্সারসাইজের FMV-এর নিচে নামলে আগের বেতন-সুবিধার অঙ্ক নিজে থেকে বদলায় না। বিক্রির পর্যায়ে ক্ষতি হবে কি না, তা আলাদা মূলধনি লাভের নিয়মে নির্ধারিত হয়। বিশেষ করে অতালিকাভুক্ত শেয়ার নির্ধারিত FMV-এর কম দামে বিক্রি হলে আইন কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয়দামের বদলে সেই FMV-কে বিক্রয়মূল্য ধরে; তাই কম দামে বিক্রি মানেই সমান অঙ্কের করস্বীকৃত ক্ষতি নয়।
যোগ্য স্টার্টআপে প্রথম করের পরিশোধ কখন পিছোয়
স্থগিতের সুবিধা পেতে নিয়োগকর্তাকে আইনের সংজ্ঞায় যোগ্য স্টার্টআপ হতে হয়। সংশোধিত আয়কর আইনের ১৪০, ২৮৯ ও ৩৯২ ধারায় যোগ্য ব্যবসা, প্রতিষ্ঠানের ধরন, প্রতিষ্ঠার সময়, আয়সীমা ও আন্তমন্ত্রণালয় বোর্ডের সনদের শর্তের পাশাপাশি স্থগিত করের সময়সীমা দেওয়া আছে: বরাদ্দের করবর্ষ শেষ হওয়ার পর ৬০ মাস পার হওয়া, শেয়ার বিক্রি অথবা ওই নিয়োগকর্তার চাকরি শেষ হওয়া—যেটি আগে ঘটে, তার ১৪ দিনের মধ্যে পরিশোধের সময় আসে। কেবল স্টার্টআপ পরিচয় বা DPIIT স্বীকৃতি দেখে এই সুবিধা ধরে নেওয়া যায় না।
স্থগিত হয় কর পরিশোধ ও নিয়োগকর্তার উৎসে কর কাটার সময়। শেয়ার বরাদ্দের বছরের বেতন-সুবিধা পরে বিক্রির দাম দিয়ে নতুন করে নির্ধারিত হয় না; সেই বছরের প্রযোজ্য হার ধরে ওই সুবিধার কর হিসাব করা হয়। কর্মী শেয়ার বিক্রি করলে স্থগিত বেতন-সুবিধার করের সময় আসে, আর একই বিক্রিতে মূলধনি লাভের আলাদা হিসাবও তৈরি হয়। দুটি হিসাব একই দিনে সামনে এলেও তাদের আয়ের ধরন ও ভিত্তি আলাদা থাকে।
চাকরি শেষ হওয়া এখানে নগদপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ মোড়: কর্মী শেয়ার ধরে রাখলেও স্থগিত কর পরিশোধের সময় এসে যেতে পারে। পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও তাই বিক্রি ছাড়াই নগদের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে নিয়োগকর্তা যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে বরাদ্দের সময়কার সুবিধার ওপর স্বাভাবিক বেতন-কর ব্যবস্থা প্রযোজ্য হয়। যোগ্য স্টার্টআপে চাকরি ছাড়ার পর করের সময় কীভাবে এগোয়, সেই পার্থক্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
সম্পর্কিত নিবন্ধ


একক মালিকানা না Private Limited—বিনিয়োগ নিলেই সহজ উত্তর বদলায়

বাংলাদেশে Deel না Remote—এক কর্মীর fee বেতনের অর্ধেকও ছাড়াতে পারে

Nscale-এর $৩.৩৬ বিলিয়ন ঋণ—IPO হলেই শেয়ারে বদলাবে

Battery Smart পেল ₹৯৮ কোটি—Series C এখনো শেষ হয়নি

Arivihan তুলছে ₹৯৫.৮৬ কোটি—মূল্যায়ন ৩.৩ গুণ, লাভ এখনো দূরে
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।