আট বছরের যাত্রার শেষ ধাপ—BepiColombo-র propulsion module আলাদা হলো

ESA ও JAXA-র যৌথ BepiColombo অভিযান থেকে Mercury Transfer Module (MTM) ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সফলভাবে আলাদা হয়েছে। Associated Press-এর স্বাধীন প্রতিবেদন জানায়, ইউরোপীয় ও জাপানি বিজ্ঞানযান দুটি পরিকল্পনামতো পরিবহন মডিউল ছেড়ে বেরিয়ে আসে; প্রায় দুই ঘণ্টা পরে পৃথিবীতে রেডিও সংকেত পৌঁছালে বিচ্ছেদ নিশ্চিত হয়।
এটি আট বছরের আন্তঃগ্রহ যাত্রার সমাপ্তি-পর্বের শুরু, বুধের কক্ষপথে পৌঁছে যাওয়ার ঘোষণা নয়। বিচ্ছেদের সময়ও যুক্ত Mercury Planetary Orbiter (MPO) ও Mio থেকে বুধের দূরত্ব ছিল প্রায় ৩৩ লাখ কিলোমিটার; নভেম্বরে কক্ষপথে প্রবেশ এবং ডিসেম্বরে দুই orbiter-কে আলাদা করা এখনও ভবিষ্যৎ ধাপ।
MTM আলাদা হওয়ায় কী বদলেছে

MTM ছিল যুক্ত মহাকাশযানটির দীর্ঘ যাত্রার পরিবহন, বিদ্যুৎ ও প্রধান propulsion অংশ। ESA-এর ৭ সেপ্টেম্বরের মিশন আপডেট অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর ১৫:৪৯ CEST-এ জার্মানির ডার্মস্টাডে European Space Operations Centre বিচ্ছেদ-পরবর্তী সংকেত পায়; মহাকাশযানটি তখন পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি কিলোমিটার দূরে ছিল। একই আপডেটে আট বছরে ৯৯০ কোটি কিলোমিটার যাত্রা ও নয়টি planetary flyby সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
দুটি ১৫ মিটার সৌরপাখা থেকে পাওয়া শক্তিতে MTM-এর চারটি ion thruster জেনন গ্যাসকে plasma-তে রূপান্তর করে দীর্ঘ সময় মৃদু thrust দিয়েছে। পৃথিবী থেকে বুধের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো spacecraft stack-কে বিদ্যুৎ ও propulsion দেওয়াই ছিল এর কাজ; দুই orbiter-কে তাদের চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক কক্ষপথে বসানো নয়।
বিচ্ছেদের পর MTM নিষ্ক্রিয় হয়ে সূর্যকে ঘিরে স্থিতিশীল কক্ষপথে থাকবে, কারণ এর নিজস্ব antenna বা onboard computer নেই। অন্যদিকে ESA-র MPO এবং JAXA-র Mercury Magnetospheric Orbiter—Mio—এখনও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত; MTM চলে যাওয়ার পর MPO-র সৌরপ্যানেলই এই অবশিষ্ট stack-কে বিদ্যুৎ দিচ্ছে।
উৎক্ষেপণ থেকে বিজ্ঞান: সামনে যে সময়রেখা

BepiColombo-র arrival একটি manoeuvre-এ শেষ হবে না। Space.com-এর ৩ সেপ্টেম্বরের বিস্তারিত সময়রেখা অনুযায়ী, কক্ষপথে প্রবেশ থেকে দুই orbiter-এর নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছানো পর্যন্ত ১৬টি manoeuvre রয়েছে; নিচের তারিখগুলো পরিকল্পিত এবং পরিচালনাগত কারণে বদলাতে পারে।
- ২০ অক্টোবর ২০১৮—যাত্রা শুরু: ফরাসি গায়ানার ইউরোপীয় মহাকাশবন্দর থেকে Ariane 5 রকেটে অভিযানটি উৎক্ষেপিত হয়। MTM, MPO, Mio এবং Mio-র সূর্যরক্ষাকারী MOSIF কাঠামো একসঙ্গে যুক্ত ছিল।
- ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬—MTM বিচ্ছেদ: পরিবহন মডিউল আলাদা হওয়ার পর অবশিষ্ট spacecraft stack safe mode-এ যায়, নিজের অভিমুখ ঠিক করে এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করে। এই ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় Mercury arrival phase শুরু হয়েছে।
- ২১ নভেম্বর ২০২৬—কক্ষপথে প্রবেশ: MPO-র রাসায়নিক propulsion ব্যবস্থার সাহায্যে যুক্ত MPO–Mio stack-কে বুধের মহাকর্ষে আবদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে BepiColombo-কে বুধের কার্যকর orbiter বলা যাবে না।
- ৯ ডিসেম্বরের কাছাকাছি—Mio বিচ্ছেদ: Mio, MPO থেকে আলাদা হয়ে নিজের দীর্ঘায়িত polar orbit-এর পথে যাবে। ১৬ ডিসেম্বরের কাছাকাছি MOSIF সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
- ১০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল ২০২৭—চূড়ান্ত প্রস্তুতি: MPO-কে নিচু polar orbit-এ বসানোর লক্ষ্য ১০ মার্চ; যন্ত্র পরীক্ষা ও commissioning শেষে দুই মহাকাশযানের সমন্বিত বিজ্ঞান কার্যক্রম ৬ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা।
এই ধারাবাহিকতায় separation, orbit insertion এবং science operation তিনটি স্বতন্ত্র milestone। প্রথমটি সফল হয়েছে; দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির সাফল্য এখনো ভবিষ্যৎ manoeuvre এবং পরবর্তী যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।
বুধের কক্ষপথে প্রবেশ এত কঠিন কেন
সূর্যের দিকে ভেতরে নামার সময় একটি মহাকাশযানের গতি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তাই বুধের কাছে পৌঁছানো মানেই তার দুর্বল মহাকর্ষে ধরা পড়া নয়: অতিরিক্ত শক্তি ও গতি কমাতে না পারলে যানটি গ্রহটিকে অতিক্রম করে যাবে। BepiColombo পৃথিবীর একটি, শুক্রের দুটি এবং বুধের ছয়টি flyby ব্যবহার করে ধাপে ধাপে সেই শক্তি কমিয়েছে।
২০২৪ সালে MTM-এর সৌরপ্যানেল থেকে propulsion-এর জন্য প্রত্যাশার চেয়ে কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাওয়ায় মূল গতিপথ বদলাতে হয়েছিল। প্রকৌশলীরা কম thrust-নির্ভর পথ তৈরি করেন, ফলে ২০২৫ সালের বদলে Mercury orbit insertion পিছিয়ে ২০২৬ সালের নভেম্বরে যায়। MTM-এর solar-electric propulsion জুনে বন্ধ হওয়ার পর যানটি বিচ্ছেদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছেছে; এখন গতিপথ সংশোধন ও orbit insertion-এর দায়িত্ব MPO-র রাসায়নিক propulsion ব্যবস্থার।
সফল MTM separation তাই একটি বড় ঝুঁকি পেরোনোর প্রমাণ, কিন্তু arrival শেষ হওয়ার প্রমাণ নয়। নভেম্বরে capture manoeuvre, Mio deployment, MOSIF অপসারণ এবং MPO-র কক্ষপথ ধাপে ধাপে নিচে নামানো—প্রতিটি কাজ আলাদাভাবে সফল ও যাচাই হতে হবে।
আলাদা কক্ষপথে MPO ও Mio কী দেখবে

MPO মূলত বুধের পৃষ্ঠের রাসায়নিক গঠন, ভূতত্ত্ব, ভূ-আকৃতি ও অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরীক্ষা করবে। গ্রহটির অত্যন্ত পাতলা exosphere এবং তীব্র সৌর বিকিরণের সঙ্গে পৃষ্ঠের সম্পর্কও এর পর্যবেক্ষণের অংশ। নিচু polar orbit থেকে তুলনামূলক সূক্ষ্ম surface mapping ও composition measurement নেওয়ার জন্য এটিকে সাজানো হয়েছে।
Mio-র লক্ষ্য আলাদা: এটি বুধের magnetic field, magnetosphere, plasma এবং solar wind-এর সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে। অপেক্ষাকৃত দীর্ঘায়িত কক্ষপথে ঘুরে এটি গ্রহের কাছের অঞ্চল ও বিস্তৃত চৌম্বকীয় পরিবেশের পরিবর্তন ধরবে। দুই উচ্চতা থেকে একই সময়ে তথ্য নেওয়া গেলে স্থানীয় ঘটনা এবং বৃহত্তর magnetosphere-এর পরিবর্তন আলাদা করে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
বর্তমান নিশ্চিত অবস্থা হলো, MTM বিচ্ছিন্ন এবং MPO–Mio stack সচল অবস্থায় বুধের দিকে এগোচ্ছে। দুই orbiter এখনও আলাদা হয়নি, বুধের কক্ষপথেও প্রবেশ করেনি এবং পূর্ণ বিজ্ঞান কার্যক্রমও শুরু হয়নি। পরবর্তী নির্ণায়ক পরীক্ষা হবে orbit insertion; সেটি সফল হলেই ডিসেম্বরের separation ও পরবর্তী commissioning-এর পথ খুলবে।
আরও পড়ুন:
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।