Roman টেলিস্কোপ এখন রকেটের হ্যাঙ্গারে: মহাবিশ্ব দেখবে ৫০ গুণ চওড়া

NASA-র Nancy Grace Roman Space Telescope উৎক্ষেপণের শেষ সংযোজনপর্বে পৌঁছেছে। NASA-র ২৬ আগস্টের আনুষ্ঠানিক আপডেট অনুযায়ী, পেলোড ফেয়ারিংয়ে আবদ্ধ মানমন্দিরটিকে ২৫ আগস্ট রাতে কেনেডি স্পেস সেন্টারের Payload Hazardous Servicing Facility থেকে Launch Complex 39A-র SpaceX হ্যাঙ্গারে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সেটিকে Falcon Heavy রকেটের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
২৮ আগস্ট পর্যন্ত উৎক্ষেপণের লক্ষ্য রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ সকাল ৭টা ২৬ মিনিট EDT—অর্থাৎ ১১টা ২৬ মিনিট UTC, বাংলাদেশে বিকেল ৫টা ২৬ মিনিট এবং ভারতে বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিট—এর আগে নয়। Space.com-এর ২৮ আগস্টের লাইভ আপডেট প্রস্তুতি নির্ধারিত সময় ধরে এগোনোর কথা জানিয়েছে; তবে এটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্য, নিশ্চিত উড্ডয়ন নয়। সফল হলে Roman প্রায় ৩০ দিনে সূর্য–পৃথিবীর L2 অঞ্চলে পৌঁছাবে এবং আনুমানিক তিন মাসের যাচাইপর্বের পর বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শুরু করবে।
হ্যাঙ্গারে পৌঁছে Roman এখন কোন ধাপে
এই স্থানান্তরের অর্থ, Roman-এর নির্মাণ, জ্বালানি ভরা, প্রধান পরীক্ষা এবং ফেয়ারিংয়ের মধ্যে আবদ্ধ করার কাজ শেষ হয়েছে। ফেয়ারিংসহ পেলোডকে এখন Falcon Heavy-র ওপরের অংশের সঙ্গে যুক্ত করে সংযোগ, অবস্থান ও সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হবে। এরপর সম্পূর্ণ রকেটকে হ্যাঙ্গার থেকে Launch Complex 39A-র প্যাডে নেওয়ার কথা।
ফেয়ারিং উড্ডয়নের প্রথম অংশে মানমন্দিরকে বায়ুগতীয় চাপ, উত্তাপ ও তীব্র শব্দ-কম্পন থেকে রক্ষা করে। রকেট বায়ুমণ্ডলের ঘন অংশ পেরিয়ে গেলে আবরণটি আলাদা হয়ে যাবে। তাই হ্যাঙ্গারে থাকা Roman-কে বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু এই আবদ্ধ অবস্থাই উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত বিন্যাস।
এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও উৎক্ষেপণের নিশ্চয়তা নয়। প্যাডে নেওয়ার পরও রকেট, মানমন্দির, স্থলব্যবস্থা, আবহাওয়া ও কাউন্টডাউনের শর্ত যাচাই হবে। কোনো শর্ত পূরণ না হলে সময় পিছোতে পারে—মহাকাশ অভিযানে “৩০ আগস্টের আগে নয়” কথাটির অর্থও সেটিই।
৫০ গুণ চওড়া দৃশ্য মানে Webb-এর বিকল্প নয়

শিরোনামের “৫০ গুণ চওড়া” তুলনাটি Roman-এর একেকটি ছবিতে ধরা আকাশের ক্ষেত্র নিয়ে, ছবির গভীরতা বা টেলিস্কোপের সামগ্রিক ক্ষমতা নিয়ে নয়। NASA-র Roman–Webb তুলনা অনুযায়ী, Roman একটি ছবিতে Webb-এর চেয়ে প্রায় ৫০ গুণ বড় এলাকা ধারণ করবে; Roman-এর প্রধান দর্পণ ২.৪ মিটার, আর Webb-এর ৬.৫ মিটার দর্পণ বেশি আলো সংগ্রহ করে সংকীর্ণ ক্ষেত্রের লক্ষ্য আরও গভীরভাবে ও সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করতে পারে।
দুই মানমন্দিরের ভূমিকা তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, পরিপূরকতার। Roman দ্রুত বড় আকাশভাগ জরিপ করে গ্যালাক্সি, বিস্ফোরিত নক্ষত্র, বহির্গ্রহের সংকেত এবং বিরল বা ক্ষণস্থায়ী ঘটনা খুঁজবে। Webb সেই বিস্তৃত মানচিত্র থেকে বাছাই করা লক্ষ্যকে দীর্ঘ সময় ধরে দেখে তার গঠন, আলো ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে পারবে।
Roman-এর Wide Field Instrument ৩০০ মেগাপিক্সেলের ছবি তুলবে এবং একই অঞ্চল বিভিন্ন সময়ে আবার পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এতে শুধু কোথায় কী আছে তা নয়, কোন বস্তুর উজ্জ্বলতা বা অবস্থান সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে, সেটিও ধরা যাবে। বিপুল আকাশভাগে বিরল ঘটনা খুঁজে পাওয়ার এই ক্ষমতাই Webb-এর গভীর কিন্তু তুলনামূলক সংকীর্ণ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে Roman-এর মূল পার্থক্য।
প্রশস্ত জরিপে যে তিন বিজ্ঞান-প্রশ্ন
Roman-এর মহাজাগতিক জরিপ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ কীভাবে বদলেছে, সেই প্রশ্নে বড় আকারের তথ্য দেবে। একই বিস্তৃত আকাশভাগে গ্যালাক্সির অবস্থান, আকৃতি, রং ও দূরত্বসংক্রান্ত পরিমাপ মিলিয়ে ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করা যাবে। এই বণ্টন ও সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারণের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে অন্ধকার শক্তি সম্পর্কে প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলো পরীক্ষা করবেন গবেষকেরা।
অন্ধকার পদার্থ আলো ছড়ায় না, তবে তার মহাকর্ষ দূরের গ্যালাক্সির আলোকে বাঁকিয়ে তাদের দৃশ্যমান আকৃতিতে ক্ষুদ্র বিকৃতি ঘটায়। Roman বড় এলাকায় অসংখ্য গ্যালাক্সির এই দুর্বল মহাকর্ষীয় লেন্সিং পরিমাপ করে অদৃশ্য ভরের বণ্টন অনুসরণ করবে। এখানে প্রশস্ত দৃশ্য বিশেষভাবে জরুরি, কারণ নির্ভরযোগ্য মানচিত্রের জন্য বিচ্ছিন্ন কয়েকটি লক্ষ্য নয়, বৃহৎ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নমুনা দরকার।
বহির্গ্রহ অনুসন্ধানে Roman আকাশগঙ্গার ঘন নক্ষত্রক্ষেত্র বারবার পর্যবেক্ষণ করে মহাকর্ষীয় মাইক্রোলেন্সিংয়ের ক্ষণস্থায়ী উজ্জ্বলতা খুঁজবে। এই পদ্ধতি নক্ষত্র থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে ঘোরা এবং কম ভরের গ্রহের উপস্থিতিও প্রকাশ করতে পারে। আলাদা Coronagraph Instrument উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো দমন করে কাছের ম্লান গ্রহ পর্যবেক্ষণের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি মহাকাশে প্রদর্শন করবে; এটি Roman-এর প্রধান জরিপ ক্যামেরার চেয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যের যন্ত্র।
উৎক্ষেপণ থেকে প্রথম বিজ্ঞান: সময়রেখা

উড্ডয়ন সফল হলেও Roman সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত জরিপ শুরু করবে না। সামনে তিনটি আলাদা পর্যায় রয়েছে:
- উৎক্ষেপণ: বর্তমান লক্ষ্য ৩০ আগস্ট; Falcon Heavy Roman-কে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে রেখে না দিয়ে L2 অভিমুখী পথে পাঠাবে।
- L2 যাত্রা: প্রায় ৩০ দিনের পথে সৌরপ্যানেল সক্রিয় করা, যোগাযোগ ও দিকনির্দেশ ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় গতিপথ সংশোধন করা হবে।
- কমিশনিং: গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আনুমানিক তিন মাস ধরে ফোকাস, তাপমাত্রা, নির্দেশনব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ও ডেটা পাঠানোর পুরো শৃঙ্খল ক্যালিব্রেট ও যাচাই করা হবে।
L2 পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে, সূর্যের বিপরীত দিকে। Roman কোনো স্থির বিন্দুতে থেমে থাকবে না; L2-কে ঘিরে কক্ষপথ অনুসরণ করবে। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদকে একই সাধারণ দিকে রেখে তাপ ও অবাঞ্ছিত আলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় বলে এই অঞ্চল সংবেদনশীল অবলোহিত পর্যবেক্ষণের জন্য উপযোগী; Webb-ও একই অঞ্চলে কাজ করছে।
এখন নিশ্চিত অবস্থা হলো, Roman ফেয়ারিংয়ের ভেতরে SpaceX হ্যাঙ্গারে পৌঁছেছে এবং Falcon Heavy-র সঙ্গে শেষ সংযোজনের পর্যায়ে আছে। পরবর্তী দৃশ্যমান মাইলফলক রকেটের প্যাডে যাত্রা, চূড়ান্ত কাউন্টডাউন ও উড্ডয়ন। এরপর L2 যাত্রা এবং কমিশনিং সফলভাবে শেষ হলেই Roman-এর প্রশস্ত মহাজাগতিক জরিপের প্রকৃত সূচনা নির্ধারিত হবে।
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।