প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন

Roman টেলিস্কোপ মহাকাশে—এক নজরেই Webb-এর চেয়ে বহুগুণ বড় আকাশ

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ| 1
Roman টেলিস্কোপ মহাকাশে—এক নজরেই Webb-এর চেয়ে বহুগুণ বড় আকাশ

NASA-র Nancy Grace Roman Space Telescope ৩০ আগস্ট ২০২৬ সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপিত হয়েছে এবং Falcon Heavy-এর ওপরের ধাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে Sun–Earth L2 অঞ্চলের পথে চলছে। ফ্লোরিডার Kennedy Space Center-এর Launch Complex 39A থেকে সকাল ৭টা ২৬ মিনিট EDT-তে যাত্রা শুরু করা মানমন্দিরটির উৎক্ষেপণ ও বিচ্ছিন্নতা Associated Press-এর স্বাধীন প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Roman এখনও চূড়ান্ত কক্ষপথে পৌঁছায়নি; পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল দূরের L2 অঞ্চলে যেতে প্রায় তিন মাস লাগবে। NASA/JPL-এর উৎক্ষেপণ-পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের ৩১ মিনিট পর বিচ্ছিন্নতা ঘটে, সাত মিনিটের মধ্যে টেলিমেট্রি পাওয়া যায় এবং এক ঘণ্টা ২৩ মিনিটের মধ্যে সৌরপ্যানেল ও নিচের instrument sun shade মোতায়েন নিশ্চিত হয়।

সফল উৎক্ষেপণের পরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি

রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন Roman টেলিস্কোপ সৌরপ্যানেল মোতায়েন করে L2-র পথে যাত্রা শুরু করেছে

উৎক্ষেপণ Roman-কে মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক জরিপ এখনই শুরু হচ্ছে না। প্রাথমিক যোগাযোগ ও শক্তি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি মানমন্দিরটিকে উচ্চক্ষমতার অ্যান্টেনা ও deployable aperture cover খুলতে হবে, মাঝপথে কক্ষপথ সংশোধন করতে হবে এবং যন্ত্রগুলো ধাপে ধাপে চালু করতে হবে।

যাত্রার প্রথম দিকে Coronagraph Instrument চালু করার কথা; কয়েক সপ্তাহ পরে সক্রিয় হবে মূল Wide Field Instrument বা WFI। এরপর তিন মাসের commissioning পর্যায়ে অপটিক্যাল ফোকাস, নির্দেশনাব্যবস্থা, ডিটেক্টর, তাপমাত্রা ও যন্ত্রের সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং ক্যালিব্রেশন করা হবে। প্রথম ছবি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রকাশের প্রত্যাশা থাকলেও সেটি এখনো ভবিষ্যৎ সময়সূচি—৩০ আগস্টের নিশ্চিত অর্জন হলো সফল উৎক্ষেপণ, বিচ্ছিন্নতা ও প্রাথমিক মোতায়েন।

  1. ৩০ আগস্ট: উৎক্ষেপণ, টেলিমেট্রি গ্রহণ, রকেট থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং সৌরপ্যানেল ও নিচের সানশেড মোতায়েন।
  2. যাত্রার প্রথম কয়েক দিন: অ্যান্টেনা ও aperture cover মোতায়েন, পথ সংশোধন এবং coronagraph চালু করা।
  3. কয়েক সপ্তাহের মধ্যে: WFI সক্রিয় করে যন্ত্র পরীক্ষা ও ক্যালিব্রেশন শুরু।
  4. প্রায় তিন মাস পরে: L2 অঞ্চলের পরিকল্পিত কক্ষপথে পৌঁছে পূর্ণ বৈজ্ঞানিক কাজের প্রস্তুতি শেষ করা।

Roman এক ছবিতে Webb-এর চেয়ে প্রায় ৫০ গুণ বড় এলাকা দেখবে

এক পর্যবেক্ষণে Roman-এর বিস্তৃত আকাশক্ষেত্রের পাশে Webb-এর ছোট ও গভীর লক্ষ্যক্ষেত্রের তুলনা

দুই মানমন্দিরের পার্থক্য কে বেশি দূর দেখতে পারে—শুধু সেই প্রশ্নে ধরা যাবে না। NASA-র Roman–Webb তুলনা দেখায়, Roman-এর একটি ছবি Webb-এর তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বড় আকাশক্ষেত্র ধারণ করতে পারে; Roman-এর ২.৪ মিটার primary mirror-এর বিপরীতে Webb-এর আয়না ৬.৫ মিটার, তাই Webb বেশি আলো সংগ্রহ করে ছোট লক্ষ্যকে আরও গভীরভাবে ও সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করতে পারে।

Roman-এর ভূমিকা হবে বিস্তৃত আকাশে দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে বিরল বা অপ্রত্যাশিত বস্তু শনাক্ত করা। Webb-এর সরু দৃষ্টিক্ষেত্র সেই নির্বাচিত বস্তু—যেমন অস্বাভাবিক গ্যালাক্সি, দূরবর্তী সুপারনোভা বা সম্ভাবনাময় গ্রহব্যবস্থা—দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ ও বর্ণালি বিশ্লেষণ করতে বেশি উপযোগী। Webb আগে কোনো ছোট অঞ্চল দেখলে Roman আবার তার চারপাশের বৃহত্তর মহাজাগতিক পরিবেশ তুলে ধরতে পারবে।

ফলে Roman Webb-এর বিকল্প নয়। একটির শক্তি নমুনার বিস্তার ও আবিষ্কারের গতি, অন্যটির শক্তি নির্বাচিত লক্ষ্যের গভীরতা ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ। Roman-এর বড় মানচিত্র Webb-কে অনুসরণের উপযুক্ত লক্ষ্য দিতে পারে, আর Webb সেই মানচিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিন্দুগুলোর প্রকৃতি নির্ণয়ে সাহায্য করবে।

Wide-field জরিপ কেন সত্যিই নতুন ক্ষমতা

Roman-এর মৌলিক সুবিধা শুধু বড় ছবি নয়; একই যন্ত্রে প্রশস্ত এলাকা, সূক্ষ্ম নিকট-অবলোহিত পর্যবেক্ষণ এবং একই অঞ্চলে বারবার ফিরে আসার ক্ষমতা একত্র হচ্ছে। WFI-এর ১৮টি ডিটেক্টর মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাপিক্সেলের ছবি তৈরি করবে। দ্রুত পরপর আকাশের সংলগ্ন অংশ ধারণ করে Roman বিচ্ছিন্ন লক্ষ্যসমষ্টির বদলে বড় ও তুলনাযোগ্য নমুনা গড়ে তুলতে পারবে।

এই নমুনা মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস পরীক্ষায় কাজে লাগবে। বিভিন্ন দূরত্বের Type Ia সুপারনোভার আপাত উজ্জ্বলতা এবং বিপুলসংখ্যক গ্যালাক্সির অবস্থান ও আকৃতি তুলনা করে বিজ্ঞানীরা dark energy সম্পর্কে প্রচলিত মডেলগুলো যাচাই করবেন। গ্যালাক্সির ছবিতে দুর্বল gravitational lensing-এর সূক্ষ্ম বিকৃতি মেপে বৃহৎ পরিসরে dark matter-এর বণ্টনও অনুসরণ করা সম্ভব হবে।

একই অঞ্চল বারবার দেখার আরেকটি ফল হলো সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া ঘটনা ধরা। নক্ষত্রের সামনে অন্য নক্ষত্র বা গ্রহের মহাকর্ষীয় প্রভাব সাময়িকভাবে আলো বাড়ালে microlensing সংকেত তৈরি হয়। প্রশস্ত দৃষ্টিক্ষেত্রে একই সঙ্গে অসংখ্য নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে Roman নক্ষত্র থেকে তুলনামূলক দূরের এবং অন্য পদ্ধতিতে সহজে ধরা না-পড়া গ্রহের পরিসংখ্যানগত হিসাব তৈরির চেষ্টা করবে।

Coronagraph মূল জরিপযন্ত্র নয়, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির পরীক্ষা

Roman-এর coronagraph নক্ষত্রের আলো দমন করে পাশে থাকা বৃহস্পতি-সদৃশ গ্রহকে দৃশ্যমান করছে

Roman-এর Coronagraph Instrument-এর কাজ WFI-এর মতো আকাশ জরিপ করা নয়। এটি একটি technology demonstration—উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো দমন করে পাশে থাকা অনেক ম্লান বৃহস্পতি-সদৃশ গ্রহ ও ধুলোর চাকতি সরাসরি দেখার জন্য hardware, wavefront control এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণ মহাকাশে পরীক্ষা করবে।

এখানে সাফল্যের অর্থ পৃথিবীর মতো গ্রহে প্রাণ শনাক্ত করা নয়। বরং নক্ষত্র ও তার পাশের গ্রহের উজ্জ্বলতার বড় পার্থক্য সামলে কোনো মহাকাশভিত্তিক যন্ত্র কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, সেটিই পরীক্ষা করা হবে। ফল ভালো হলে ভবিষ্যতের মানমন্দিরে আরও ছোট ও ম্লান গ্রহ সরাসরি দেখার প্রযুক্তি তৈরিতে Roman বাস্তব মহাকাশ-অভিজ্ঞতা দেবে।

প্রকাশিত জরিপ বাংলাদেশের গবেষকের জন্য কী বদলাবে

Roman-এর বড় বৈজ্ঞানিক মূল্য আসবে পৃথক সুন্দর ছবির চেয়ে ধারাবাহিক survey, catalog ও সময়ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ থেকে। এসব উপাত্ত প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ ও ভারতের গবেষকেরা নিজস্ব মহাকাশ টেলিস্কোপ ছাড়াই গ্যালাক্সির গঠন, পরিবর্তনশীল নক্ষত্র, gravitational lensing বা transient ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন। অবস্থানগত দূরত্বের বদলে তখন প্রধান সীমা হবে প্রয়োজনীয় গণনাশক্তি, সফটওয়্যার, ক্যালিব্রেশন বোঝার দক্ষতা এবং বিশাল নমুনা যাচাইয়ের সক্ষমতা।

Roman প্রতিদিন প্রায় ১.৪ টেরাবাইট উপাত্ত পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য তৈরি। এই পরিমাণ তথ্যের অর্থ হলো ছোট গবেষকদলও আগে থেকে নির্ধারিত মূল বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য ছাড়িয়ে বিরল বস্তু বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন খুঁজতে পারবে, কিন্তু পূর্ণ ডেটাসেট স্থানীয় কম্পিউটারে নামিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা সব সময় বাস্তবসম্মত হবে না। আর্কাইভভিত্তিক গণনা ও পুনরুৎপাদনযোগ্য বিশ্লেষণ তাই বৈজ্ঞানিক সুযোগটির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এখন নিশ্চিত অবস্থা হলো Roman নিজস্ব শক্তিতে L2-র পথে আছে এবং প্রাথমিক মোতায়েন সফল হয়েছে। পরবর্তী প্রমাণ আসবে অ্যান্টেনা ও aperture cover মোতায়েন, পথ সংশোধন, দুই যন্ত্রের commissioning এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম ক্যালিব্রেট করা ছবি থেকে। তখনই বোঝা যাবে উৎক্ষেপণের সাফল্য পরিকল্পিত wide-field বৈজ্ঞানিক ক্ষমতায় রূপ নিয়েছে কি না।

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0