Arivihan তুলছে ₹৯৫.৮৬ কোটি—মূল্যায়ন ৩.৩ গুণ, লাভ এখনো দূরে

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ
Arivihan তুলছে ₹৯৫.৮৬ কোটি—মূল্যায়ন ৩.৩ গুণ, লাভ এখনো দূরে

ইন্দোরভিত্তিক শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Arivihan-এর বোর্ড ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ Entrackr-এর নথিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী ৪,৬৪৮টি সিরিজ এ রূপান্তরযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করে ₹৯৫.৮৬ কোটি তোলার অনুমোদন দেয়; আগের রাউন্ডের তুলনায় প্রস্তাবিত মূল্যায়ন প্রায় ৩.৩ গুণ, অথচ সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক হিসাবে ক্ষতি ছিল ₹৪.৪৫ কোটি। Accel ও Prosus-এর প্রস্তাবিত অংশ ছিল ₹৪৭.৪৮ কোটি করে; রাউন্ডটির আনুমানিক মূল্যায়ন প্রায় ₹৫৭০ কোটি। বোর্ডের অনুমোদন অর্থ সংগ্রহের একটি আনুষ্ঠানিক ধাপ; সেটি নিজে শেয়ার বরাদ্দের তারিখ জানায় না।

এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর Prosus Ventures-এর বিনিয়োগ ঘোষণায় প্রায় ১ কোটি ডলারের রাউন্ডে সহনেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। একই দিনের Times of India-র সাক্ষাৎকারে সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী Ritesh Singh Chandel সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন এবং কম দামের প্যাকেজের লক্ষ্য বোঝাতে বলেন, “Our main focus was to get volume”; সংবাদপত্রটি রাউন্ডে অর্থ তোলা হয়েছে বলে জানায়। ফলে ২৫ সেপ্টেম্বরের শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন ও ৩০ সেপ্টেম্বরের বিনিয়োগ ঘোষণা একই অর্থায়নের দুই পর্যায়ের তথ্য। পরের ঘোষণাগুলোতে প্রতিটি শেয়ার বরাদ্দের নির্দিষ্ট দিন দেওয়া হয়নি।

৪,৬৪৮টি শেয়ারের হিসাব, কার কত অংশ

অনুমোদিত সিরিজ এ শেয়ারগুলোর প্রতিটির ইস্যুমূল্য ₹২,০৬,২৪৮.০৬। এগুলো ‘কম্পালসোরিলি কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ার’, সংক্ষেপে সিসিপিএস: নির্ধারিত শর্তে পরে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য তৈরি অগ্রাধিকার শেয়ার। তাই বোর্ডের অনুমোদন এবং বরাদ্দের পর নতুন মালিকানার হিসাবের মধ্যে সময়ের পার্থক্য আছে। প্রকাশিত অংশীদারত্বের শতাংশগুলো বরাদ্দ-পরবর্তী কাঠামোর হিসাব, বোর্ডের সিদ্ধান্তের মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা অংশের বর্ণনা নয়।

  • মোট অনুমোদিত ইস্যু ৪,৬৪৮টি সিসিপিএস; লক্ষ্য প্রায় ₹৯৫.৮৬ কোটি।
  • Accel এবং Prosus প্রত্যেকে ₹৪৭.৪৮ কোটি দেওয়ার কথা; দুই প্রধান বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত অংশ প্রায় ₹৯৪.৯৬ কোটি।
  • Dinesh Chandra Agrawal, Dinesh Gulati, Rajesh Sawhney ও Gaurav Kapur-এর সম্মিলিত অংশ প্রায় ₹৯১ লাখ।
  • শেয়ার বরাদ্দের পর Accel India-এর অংশীদারত্ব ২৩.৫৪ শতাংশ এবং Prosus-এর ১৮.৫৭ শতাংশ হওয়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে।

প্রধান দুই বিনিয়োগকারীর প্রকাশিত অঙ্কের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের গোল করে দেওয়া অঙ্ক যোগ করলে মোটের সঙ্গে সামান্য পার্থক্য থাকে। ওই পার্থক্য থেকে অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ অনুমান করার ভিত্তি নেই। Rajesh Sawhney-এর পরিচয় GSF Accelerator-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে দেওয়া হয়েছে; ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের এই তালিকাকে GSF Investors-এর নতুন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখানোও ঠিক হবে না। বরাদ্দ-পরবর্তী অংশীদারত্বে একজন বিনিয়োগকারীর মোট মালিকানা দেখা যায়, শুধু এই রাউন্ডে কেনা শেয়ারের অনুপাত নয়।

₹৫৭০ কোটির মূল্যায়ন কী বলছে

নতুন রাউন্ডের আনুমানিক মূল্যায়ন প্রায় ₹৫৭০ কোটি, যেখানে আগের প্রি-সিরিজ এ রাউন্ডে হিসাবটি ছিল প্রায় ₹১৭১ কোটি। অনুপাতটি প্রায় ৩.৩ গুণ; নতুন শেয়ার যে দামে ইস্যুর প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই দামেই এই বৃদ্ধি ধরা পড়ছে। এটি নথিতে প্রকাশিত শর্ত থেকে করা মূল্যায়নের অনুমান। Prosus তার ঘোষণায় রুপিতে ওই মূল্যায়ন দেয়নি; প্রায় ১ কোটি ডলার ও ₹৯৫.৮৬ কোটি একই রাউন্ডের আনুমানিক দুই মুদ্রার বর্ণনা।

আগের প্রি-সিরিজ এ রাউন্ডে Arivihan প্রায় ৪১.৭ লাখ ডলার, বা প্রায় ₹৩৬ কোটি তুলেছিল; Accel ও Prosus সেখানেও নেতৃত্বে ছিল এবং GSF Investors অংশ নিয়েছিল। একই দুই বিনিয়োগকারীর আবার অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় তাঁদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। তবে মূল্যায়নের গুণিতক বিক্রির গুণিতক নয়: মূল্যায়ন একটি অর্থায়ন লেনদেনের দাম, আর আয় নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ। দুটি অঙ্ক পাশাপাশি বিচার করতে হলে আয়ের অর্থবছরটি জানা জরুরি।

আয় দ্রুত বেড়েছে, ক্ষতি আরও বড়

২০২৪–২৫ অর্থবছরে Arivihan-এর আয় ছিল ₹৩.১৪ কোটি, আগের অর্থবছরের ₹২১.২৯ লাখের প্রায় ১৪.৮ গুণ। একই বছরে ক্ষতি ₹৪.৪৫ কোটি হওয়ায় সরল হিসাবে ক্ষতির অঙ্ক আয়ের প্রায় ১.৪২ গুণ। আগের ছোট ভিত্তি থেকে আয় দ্রুত বেড়েছে, কিন্তু মোট আয় দিয়ে সেই বছরের ব্যয় ঢাকতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। নতুন শেয়ারের দাম ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির যে প্রত্যাশা নির্দেশ করে, প্রকাশিত এই বার্ষিক ফল তার সঙ্গে বর্তমান লাভজনকতার ব্যবধান দেখায়।

এই অনুপাতকে প্রতি শিক্ষার্থীর ক্ষতি হিসেবে পড়া যায় না। মোট আয় ও নিট ক্ষতির হিসাবে শিক্ষক, প্রযুক্তি, বিপণন এবং অন্য ব্যয় একসঙ্গে থাকে; একজন শিক্ষার্থী থেকে কত আয় আসে অথবা তাঁকে সেবা দিতে বাড়তি কত খরচ হয়, তা এখানে আলাদা নেই। ফলে কম দামে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্ত হলে শিক্ষার্থীপ্রতি খরচও কমছে কি না, প্রকাশিত বার্ষিক হিসাব থেকে মাপা যায় না। রাউন্ডের নথিভিত্তিক খবর প্রকাশের সময় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণ ফলও জমা পড়েনি; সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক অবস্থার জন্য সেটিই হবে পরের নির্দিষ্ট হিসাব।

₹৫১ প্যাকেজে শিক্ষার্থী বাড়ার ব্যবসায়িক পরীক্ষা

Arivihan-এর নতুন বার্ষিক প্রবেশমূল্য ₹৫১। চলতি বছরে এই প্যাকেজে প্রায় ৪ থেকে ৪.৫ লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছেন; আগের বছর বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রায় ২৫ হাজার অর্থপ্রদানকারী শিক্ষার্থীর গড় বার্ষিক খরচ ছিল প্রায় ₹৩,০০০। প্রতিষ্ঠানটির বেশি দামের প্যাকেজও আছে। কতজন নতুন শিক্ষার্থী সেই প্যাকেজগুলোতে গিয়েছেন অথবা নতুন দল থেকে মোট কত আয় হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গ্রাহকসংখ্যার লাফকে একই অনুপাতে আয়ের বৃদ্ধি বলে ধরা যাবে না।

পাঠদানের বর্তমান রূপ খরচের প্রশ্নটিকে আরও নির্দিষ্ট করে। একটি সরাসরি ক্লাসে একজন শিক্ষক ও সর্বোচ্চ ৫,০০০ শিক্ষার্থী থাকতে পারেন; ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার্থীর ভুল ও অনুশীলনের ইতিহাস ব্যবহার করে। সম্পূর্ণ একান্তে পাঠ দিতে পারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিক্ষক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বর্তমান সরাসরি ক্লাসে শিক্ষকের ভূমিকা থাকায় শিক্ষার্থীপ্রতি খরচ বিচার করতে পরিকল্পিত স্বয়ংক্রিয় সেবার সম্ভাব্য খরচকে বর্তমান ব্যয় ধরে নেওয়া যাবে না।

প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রদেশের দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি দিয়ে শুরু করে অন্য রাজ্য পর্ষদ ও চিকিৎসাবিদ্যার প্রবেশিকা পরীক্ষার পাঠে গেছে। প্রথমে হিন্দিভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা তৈরি হয়েছিল; মারাঠি ভাষায় পরীক্ষা চলছে। সীমিত ইন্টারনেটের শিক্ষার্থীরা পরে দেখার জন্য পাঠ ডাউনলোড করতে পারেন। নতুন মূলধন আরও রাজ্য পর্ষদ, সিবিএসই, ভাষাগত সহায়তা ও স্থানীয় বিতরণে ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে। এই সম্প্রসারণের পরে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণ আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশিত হলে বোঝা যাবে স্বল্পমূল্যের বিপুল শিক্ষার্থীসংখ্যা ক্ষতির অনুপাত কমাতে পেরেছে কি না।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0