যুক্তরাষ্ট্রে Space Academy: ১২০ দিনে ঠিক হবে এটি আসলে কেমন প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট হিউস্টনের NASA Johnson Space Center-এ United States Space Academy প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশে সই করেছেন। তবে এখনই কোনো ক্যাম্পাস, ভর্তি কার্যক্রম বা ডিগ্রি কর্মসূচি চালু হয়নি; NASA-র আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে, কমিশনকে শাসনব্যবস্থা, স্নাতকদের সেবার বাধ্যবাধকতা, স্থায়ী অবস্থান ও প্রয়োজনীয় আইনসহ মূল বিষয়গুলো নিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।
অর্থাৎ ২৮ আগস্টের পদক্ষেপটি পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন নয়, বরং সেটি কেমন হবে তা নির্ধারণের নকশা-প্রক্রিয়ার সূচনা। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য সামরিক, বেসামরিক সরকারি ও বৃহত্তর মহাকাশ খাতে কাজের উপযোগী প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং জনসেবার অঙ্গীকারসম্পন্ন জনবল তৈরি করা।
আদেশে Academy নয়, প্রথমে কমিশন গঠিত হয়েছে

আদেশের তাৎক্ষণিক আইনি ফল হলো Presidential Commission on the United States Space Academy গঠন। মূল নথিতে Space Academy-কে NASA-নেতৃত্বাধীন একটি “প্রস্তাবিত” ফেডারেল academy বলা হয়েছে এবং কমিশনকে সেটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ঘোষণার ভাষায় “প্রতিষ্ঠা” বলা হলেও কার্যকর অর্থে এখন পরিকল্পনা ও অনুমোদনের পর্যায় চলছে।
হোয়াইট হাউসের পূর্ণ আদেশে বলা হয়েছে, কমিশনের সুপারিশ প্রেসিডেন্ট অনুমোদন করার পর এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ সম্পন্ন হলে NASA প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করবেন; কাজটি প্রযোজ্য আইন ও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষেও থাকবে। অর্থাৎ আদেশটি অর্থায়ন, স্বীকৃতি, স্থায়ী ক্যাম্পাস বা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আইনি ক্ষমতা আগেই নিশ্চিত করেনি।
কমিশন অবশ্য বিদ্যমান নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় পাইলট কর্মসূচি, অংশীদারত্ব এবং অন্য প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগের সুযোগ পরীক্ষা করতে পারবে। কিন্তু এমন কোনো উদ্যোগ শুরু হলেও সেটি পূর্ণাঙ্গ Academy চালু হওয়ার সমান হবে না।
১২০ দিনের প্রতিবেদনে কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর আসবে

কমিশনের প্রতিবেদন একটি সাধারণ পাঠক্রমের খসড়া নয়; প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, কর্তৃত্ব এবং বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণের ভিত্তি। আদেশে প্রতিবেদনের জন্য যেসব বিষয় চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- Academy-র সাংগঠনিক কাঠামো, কর্তৃত্ব, স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক;
- প্রতিষ্ঠানটিকে সরাসরি NASA-র মধ্যে স্থাপন করা হবে কি না এবং সে জন্য কী পদক্ষেপ প্রয়োজন;
- ডিগ্রি, কারিগরি শিক্ষা, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব উন্নয়নের পাঠক্রম;
- স্নাতকদের Armed Forces বা বেসামরিক ফেডারেল চাকরিতে কাজ করার বাধ্যবাধকতা ও তার শর্ত;
- নাগরিকত্ব, security clearance, সরকারি চাকরি বা সামরিক অবস্থানসংক্রান্ত ভর্তির পূর্বশর্ত;
- স্থায়ী স্থান নির্বাচনের প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় আইন এবং প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপের ক্রম।
এই ১২০ দিন তাই Academy খোলার সময়সীমা নয়। সময়সীমাটি কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য; সেই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত রূপ স্পষ্ট হওয়ার কথা। এরপর প্রেসিডেন্টের অনুমোদন, সম্ভাব্য আইন প্রণয়ন, বরাদ্দ, স্বীকৃতি, অবকাঠামো এবং ভর্তি প্রস্তুতির জন্য আলাদা সময় লাগতে পারে।
NASA, Space Force ও বাণিজ্যিক খাতের ভূমিকা আলাদা
NASA পরিকল্পনা পর্বে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে: সংস্থাটির প্রশাসক কমিশনের চেয়ারম্যান এবং উপপ্রশাসক নির্বাহী পরিচালক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক নীতি, প্রতিরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, বিমানবাহিনী এবং বাজেটসংক্রান্ত ফেডারেল কর্মকর্তারাও কমিশনে থাকবেন। ফলে NASA নেতৃত্ব দিলেও সামরিক, শিক্ষাগত, আইনগত ও আর্থিক সিদ্ধান্তগুলো এককভাবে সংস্থাটি নেবে না।
Space Force-কে সম্ভাব্য প্রশিক্ষিত জনবলের একটি গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে Academy কেবল Space Force কর্মকর্তা তৈরির প্রতিষ্ঠান হবে—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। আদেশে Armed Forces এবং বেসামরিক ফেডারেল সেবা উভয়ের জন্য স্নাতকদের বাধ্যবাধকতা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বিদ্যমান সামরিক service academy-গুলোর ভর্তি, কমিশনিং বা পরিচালনা পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ করা হবে কি না, সেটিও কমিশনের সুপারিশের আগে বলা যাচ্ছে না।
বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের ভূমিকা আরও সীমিত ও অনির্ধারিত। কমিশনের কর্মগোষ্ঠী শিল্প ও শিক্ষাজগতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবে এবং অংশীদারত্বের প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারবে। কিন্তু কোনো বেসরকারি কোম্পানিকে নিশ্চিত পরিচালনাকারী করা হয়নি; শিল্পখাতের কর্মী বা শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভর্তি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন, তাও আদেশে স্থির করা নেই।
স্থান, ভর্তি ও চালুর তারিখ এখনো অজানা

সইয়ের অনুষ্ঠান Johnson Space Center-এ হলেও সেটিই স্থায়ী ক্যাম্পাস হবে—এমন সিদ্ধান্ত নেই। CBS News-এর স্বাধীন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন এখনো স্থান বেছে নেয়নি এবং বেসামরিক মহাকাশ শিল্প ঠিক কী ধরনের প্রবেশাধিকার পাবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
প্রথম ভর্তি কবে হবে, কী ডিগ্রি দেওয়া হবে, কত শিক্ষার্থী নেওয়া হবে, ব্যয় কত হবে এবং স্নাতকদের কত দিন সরকারি বা সামরিক সেবা দিতে হবে—এসব বিষয়ে এখনো অনুমোদিত সিদ্ধান্ত নেই। এমনকি NASA-র ভেতরে প্রতিষ্ঠানটি থাকবে কি না, সেটিও কমিশনকে বিবেচনা করতে বলা বিকল্পগুলোর একটি মাত্র।
পরবর্তী নির্ধারক ঘটনা হবে আদেশের ১২০ দিনের মধ্যে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া। সেই সুপারিশ এবং তার ওপর প্রেসিডেন্ট ও প্রয়োজনে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের পর বোঝা যাবে Space Academy বাস্তবে NASA-র অধীন প্রতিষ্ঠান হবে, সামরিক academy-গুলোর কাছাকাছি কাঠামো নেবে, নাকি একাধিক সংস্থার যৌথ ব্যবস্থায় গড়ে উঠবে। আপাতত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নকশা তৈরির কমিশন—পূর্ণাঙ্গ Academy নয়।
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।