Signal না WhatsApp—বার্তা নয়, metadata-তেই গোপনীয়তার ফারাক

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ
Signal না WhatsApp—বার্তা নয়, metadata-তেই গোপনীয়তার ফারাক

সেবার কাছে কম তথ্য রাখতে চাইলে Signal-ই বেশি সংযত পছন্দ। Signal-এর গোপনীয়তা নীতি জানায়, আলাপের ইতিহাস ব্যবহারকারীর যন্ত্রে থাকে এবং প্রাপক অফলাইনে থাকলে এনক্রিপ্টেড বার্তা পৌঁছানোর জন্য সার্ভারে অপেক্ষা করে। তবু অ্যাকাউন্ট খুলতে ফোন নম্বর লাগে; কল ও বার্তা চালাতে কিছু প্রযুক্তিগত উপাদানও প্রয়োজন হয়। এখানে গোপনীয়তার মানে তথ্যের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নয়, সেবাদাতার হাতে থাকা তথ্যের পরিধি কমানো।

WhatsApp-এর গোপনীয়তা নীতিতে অ্যাকাউন্টের নম্বরের পাশাপাশি ব্যবহারের সময় ও ধরন, অন্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া, যন্ত্র এবং সংযোগসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কথা আছে। পৌঁছে যাওয়া ব্যক্তিগত বার্তা সাধারণত সার্ভারে থাকে না; অফলাইনে থাকা প্রাপকের জন্য বার্তা এনক্রিপ্টেড অবস্থায় অপেক্ষা করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত আলাপের লেখা সুরক্ষিত থাকলেও কে সেবাটি কখন ও কীভাবে ব্যবহার করছে, সেই প্রশ্নে দুই অ্যাপের অবস্থান এক নয়। পরিবার বা কাজের প্রয়োজনীয় মানুষ কোথায় আছেন, সেটিও সিদ্ধান্তের বাস্তব অংশ।

বার্তা সুরক্ষিত, কিন্তু চারপাশের তথ্য আলাদা

দুই অ্যাপেই ব্যক্তিগত বার্তা ও কল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় আসে। প্রেরকের যন্ত্রে বার্তা এনক্রিপ্ট হয়, প্রাপকের যন্ত্রে তা পড়া যায়; মাঝখানে বার্তা বহনকারী সেবার কাছে সাধারণ পাঠযোগ্য লেখা থাকার কথা নয়। WhatsApp-এ ব্যবহৃত Signal Protocol নিয়ে স্বাধীন প্রোটোকল বিশ্লেষণ দেখায়, এই সুরক্ষা যোগাযোগের মেটাডেটা থেকে সম্পর্ক ও আচরণের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সম্ভাবনা দূর করে না। গবেষণাটি প্রোটোকল নিয়ে; বর্তমান দুই সেবার সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের সরাসরি হিসাব নয়।

মেটাডেটা হলো বার্তার বক্তব্যের বাইরের তথ্য: অ্যাপ ব্যবহারের সময়, কোন সংযোগ থেকে যোগাযোগ হয়েছে, কোন ধরনের সুবিধা ব্যবহার হয়েছে অথবা কারা একই দলে আছেন। আলাদা একটি তথ্য তুচ্ছ মনে হলেও এমন তথ্য জুড়ে যোগাযোগের অভ্যাসের ছবি তৈরি হতে পারে। এনক্রিপশন বাক্য ও সংযুক্তির গোপনীয়তার উত্তর দেয়; সেবাদাতা কতটা ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য পায়, তা জানতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নিয়ম দেখতে হয়। প্রাপকের নিজের যন্ত্রে রাখা বার্তার কপিও সেবার সার্ভার থেকে আলাদা বিষয়।

অ্যাকাউন্ট ও অফলাইন বার্তায় কী থাকে

Signal ও WhatsApp, উভয় ক্ষেত্রেই অ্যাকাউন্টের গোড়ায় ফোন নম্বর আছে। Signal-এ প্রোফাইলের নাম বা ছবি ঐচ্ছিক; এসব প্রোফাইল তথ্য এনক্রিপ্টেড। সার্ভারে পরিচয় যাচাইয়ের টোকেন, কী এবং নোটিফিকেশন পাঠানোর টোকেনের মতো পরিচালনাগত তথ্যও থাকে। ফলে কম তথ্য সংগ্রহের নকশাকে নামবিহীন যোগাযোগের নিশ্চয়তা ভাবা ভুল। ফোন নম্বরের প্রয়োজন এবং ব্যবহারকারীর যন্ত্রে থাকা আলাপের ইতিহাস—দুটিই এই সেবার বাস্তব কাঠামোর অংশ।

WhatsApp অ্যাকাউন্টের সঙ্গে প্রোফাইলের নাম, ঐচ্ছিক ছবি ও ‘অ্যাবাউট’ তথ্য যুক্ত হতে পারে। ব্যবহারের লগে কখন, কত ঘনঘন ও কতক্ষণ বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই তথ্যের ধরন অন্তর্ভুক্ত; যন্ত্রের মডেল, অপারেটিং সিস্টেম, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও আইপি ঠিকানাও সংগ্রহের মধ্যে আছে। সেবা এসব তথ্য কত দিন রাখবে, তা তথ্যের ধরন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বদলাতে পারে। ফলে ‘বার্তা সার্ভারে থাকে না’ থেকে ‘অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কিছুই থাকে না’—এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

অফলাইনে পাঠানো বার্তা দুই সেবারই সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অংশ। প্রাপক তখন সংযুক্ত না থাকলেও বার্তাটি পরে পৌঁছানোর জন্য সার্ভারে এনক্রিপ্টেড অবস্থায় অপেক্ষা করে; পৌঁছানোর পর WhatsApp সাধারণত তার সার্ভার-কপি মুছে দেয়। এই অস্থায়ী সারি এবং ব্যবহারসংক্রান্ত সংরক্ষিত তথ্য একই জিনিস নয়। গোপনীয়তার তুলনায় কোন তথ্য সাময়িকভাবে যাতায়াত করে আর কোনটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই বিভাজনটি গুরুত্বপূর্ণ।

পরিচিতজন খুঁজতে সম্পর্কের কতটা প্রকাশ পায়

Signal ও WhatsApp-এ পরিচিতজন খোঁজার পদ্ধতি এবং সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্যের ভিন্ন পরিণতি।

ঠিকানাপঞ্জিতে থাকা কেউ অ্যাপটি ব্যবহার করেন কি না, তা জানা যোগাযোগ শুরু করতে সাহায্য করে। Signal-এ পরিচিতি খোঁজা ঐচ্ছিক; তার ব্যবস্থাটি ঠিকানাপঞ্জির গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তৈরি, আর যাচাইয়ের সময় ফোনে থাকা পরিচিতির তথ্য ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে রূপান্তর করে সার্ভারে পাঠানো হতে পারে। এ ব্যবস্থা সার্ভারে সহজপাঠ্য সম্পর্কতালিকা রাখার প্রয়োজন কমায়। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার ফোন নম্বর অদৃশ্য করে না; পরিচিতি খোঁজার গোপনীয়তা ও নিবন্ধনের পরিচয় আলাদা প্রশ্ন।

WhatsApp-এ পরিচিতি আপলোডের অনুমতি দিলে ঠিকানাপঞ্জির ফোন নম্বর নিয়মিত পাঠানো যায়। কারা কোন গ্রুপ বা সম্প্রচারতালিকায় আছেন, সেটিও অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে। অন্য কোনো ব্যবহারকারী তার ফোনের ঠিকানাপঞ্জি শেয়ার করলে আপনার নম্বরও সেবাটির কাছে যেতে পারে, আপনি নিজের ফোনে সেই অনুমতি না দিলেও। তাই এই সুবিধার বিনিময় শুধু নিজের অনুমতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অন্যের ঠিকানাপঞ্জিও সম্পর্কের দৃশ্যমানতায় ভূমিকা রাখে।

ব্যাকআপে সুবিধা ও তথ্যের অবস্থান বদলায়

ফোন বদলের পর Signal ও WhatsApp-এর বেছে নেওয়া এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ থেকে আলাপ ফেরানোর পার্থক্য।

Signal Secure Backups-এর নির্দেশনা বলছে, ঐচ্ছিক এনক্রিপ্টেড আর্কাইভে সব পাঠ্যবার্তা ও সাম্প্রতিক ৪৫ দিনের মিডিয়া রাখা যায় এবং তা ৬৪ অক্ষরের পুনরুদ্ধার চাবিতে সুরক্ষিত। চাবিটি Signal পায় না; হারিয়ে ফেললে আর্কাইভ থেকে আলাপও ফেরাতে পারে না। এটি চালু করলে ফোন বদল বা হারানোর পর আলাপ ফেরানোর পথ পাওয়া যায়। বন্ধ রাখলে যন্ত্রে থাকা ইতিহাসের ওপর নির্ভরতা বেশি; অর্থাৎ কম সার্ভার-কপি আর সহজ পুনরুদ্ধারের মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

WhatsApp-এর ব্যাকআপ ব্যাখ্যায় Google Drive বা iCloud-এ রাখা আলাপের কপির জন্য আলাদা ঐচ্ছিক এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এবং পাসওয়ার্ড বা ৬৪ সংখ্যার চাবির ব্যবস্থা আছে। দৈনন্দিন বার্তা এনক্রিপ্টেড থাকলেও ক্লাউডে রাখা কপির সুরক্ষা আলাদা সেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে। সেই কপি রাখতে চাইলে ব্যাকআপ চালু আছে কি না এবং এনক্রিপশন বেছে নেওয়া হয়েছে কি না, দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্টে ঢোকার তথ্য ও ব্যাকআপের আলাদা চাবি এক জিনিস নয়।

নেটওয়ার্কে চলাচল কী জানাতে পারে

বার্তা পাঠাতে অ্যাপকে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই হয়। সে সময় সেবার কাছে সংযোগের আইপি ঠিকানা বা বার্তা পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য যেতে পারে। WhatsApp-এর সংগ্রহের মধ্যে আইপি ঠিকানা ও যন্ত্রসংক্রান্ত তথ্য আছে; আইপি ও ফোন নম্বরের এলাকা কোড থেকে আনুমানিক অবস্থানও নির্ণয় করা হয়। Signal-এর সার্ভারে বার্তা ও কল সচল রাখতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উপাদান থাকে। দুই ঘোষণার পার্থক্য সংরক্ষিত তথ্যের ধরনে; নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর প্রতিটি নেটওয়ার্ক প্যাকেট সম্পর্কে এখান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

পরিচিতজনের নাগাল অনুযায়ী পছন্দ

যাঁদের মূল শর্ত হলো সেবাদাতার হাতে কম তথ্য রাখা, তাঁদের জন্য Signal বেশি যুক্তিসংগত—যদি প্রয়োজনীয় মানুষরাও সেখানে কথা বলেন। কথোপকথন একতরফা হয় না: পরিবার, সহকর্মী বা স্থানীয় দলের সবাই WhatsApp-এ থাকলে সেখানে পৌঁছানোর সুবিধা বাস্তব মূল্য রাখে। WhatsApp বাছা মানে ব্যক্তিগত বার্তার এনক্রিপশন ছেড়ে দেওয়া নয়; ব্যবহার, সংযোগ ও গ্রুপ-সম্পর্কিত তথ্যের বিস্তৃত সংগ্রহ মেনে নেওয়া। এই ছাড়ের গুরুত্ব ব্যক্তির যোগাযোগের ধরন অনুযায়ী আলাদা হবে।

একই ব্যক্তি দুই অ্যাপ রাখলেও Signal-এ একটি আলাপের গোপনীয়তা WhatsApp-এ থাকা অন্য আলাপের তথ্যচর্চা বদলায় না। কোনো পরিবারের গ্রুপ WhatsApp-এ থাকলে একজনের Signal ইনস্টল করায় সেই গ্রুপের যোগাযোগ অন্য সেবায় সরে যায় না। তাই কোন ব্যক্তিগত আলাপ কোথায় হবে, সেই সিদ্ধান্তে অপর পক্ষের অংশগ্রহণও লাগে; শুধু নিজের ফোনে অ্যাপ বদলালেই পুরো যোগাযোগের তথ্যছাপ বদলায় না।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0