WhatsApp backup encrypt করুন—চাবি হারালে WhatsApp-ও ফেরাতে পারবে না

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ
WhatsApp backup encrypt করুন—চাবি হারালে WhatsApp-ও ফেরাতে পারবে না

Google Drive বা iCloud-এ রাখা WhatsApp চ্যাট ব্যাকআপ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্ট করতে অ্যাপের সেটিংস → চ্যাটস → চ্যাট ব্যাকআপ → এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ খুলে সুরক্ষাটি চালু করুন। WhatsApp-এর ব্যাকআপ নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসকি তৈরির বিকল্প দেখালে সেটি নেওয়া যায়; ‘আরও বিকল্প’ থেকে নিজের পাসওয়ার্ড বা WhatsApp-এর তৈরি ৬৪ অঙ্কের কী বেছে নেওয়া যায়। চ্যাটে প্রবেশাধিকারও হারিয়ে ফেললে ভুলে যাওয়া পাসওয়ার্ড বা হারানো কী দিয়ে সুরক্ষিত ব্যাকআপ WhatsApp ফেরাতে পারে না।

সেটিংটি চালু করার আগে ঠিক করুন, নতুন ফোনে ওই পাসওয়ার্ড বা কী কোথা থেকে পাবেন। পুরোনো ফোনে চ্যাট খোলা থাকলে ভুলে যাওয়া ব্যাকআপ পাসওয়ার্ড বদলানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু ফোন ও পুনরুদ্ধারের তথ্য একসঙ্গে হারানোর পর সেই সুযোগের ওপর ভরসা করা যায় না।

চ্যাটের সুরক্ষা আর ক্লাউড ব্যাকআপের সুরক্ষা আলাদা

WhatsApp চ্যাটের বার্তা পাঠানোর সময় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে; Google Drive বা iCloud-এ রাখা ব্যাকআপের জন্য আলাদা সুরক্ষা চালু করতে হয়। তাই চ্যাট এনক্রিপ্টেড দেখালেই ক্লাউডে জমা কপিটিও একইভাবে সুরক্ষিত, এমন ধরে নেবেন না। ব্যাকআপের অবস্থা দেখতে চ্যাট ব্যাকআপ সেটিং খুলতে হবে।

NCC Group-এর নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সাধারণ পাঠযোগ্য ব্যাকআপ কী ছাড়া বার্তার এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ খোলা যায় না। মূল্যায়নটির আওতায় ফোনের অ্যাপে ব্যাকআপের প্রকৃত এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশন পরীক্ষা ছিল না। ব্যবহারকারীর জন্য মূল পার্থক্য হলো: ক্লাউডে ব্যাকআপ ফাইল পাওয়া আর সেটির চ্যাট পড়তে পারা এক বিষয় নয়।

Android ও iPhone ফোনে কীভাবে চালু করবেন

নতুন ফোনে WhatsApp চ্যাট ফেরানোর আগে পুরোনো ফোনটি হাতে রেখে এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ যাচাইয়ের প্রস্তুতি

Android ফোনে WhatsApp-এর ওপরের মেনু থেকে সেটিংস খুলুন; iPhone ফোনে অ্যাপের সেটিংস অংশে যান। এরপর দুই ক্ষেত্রেই চ্যাটস → চ্যাট ব্যাকআপ → এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ নির্বাচন করুন। অ্যাপের ভাষা অনুযায়ী নামের বাংলা বা ইংরেজি রূপ দেখা যেতে পারে।

  1. ‘চালু করুন’ চাপুন। পাসকির প্রস্তাব এলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন; নিজের পাসওয়ার্ড বা অ্যাপের তৈরি কী চাইলে ‘আরও বিকল্প’ খুলুন।
  2. নির্বাচিত পদ্ধতির নির্দেশনা শেষ করুন। পাসওয়ার্ড তৈরি করলে সংরক্ষণের জন্য সেটি নির্ভুলভাবে লিখে নিন; কী তৈরি হলে পুরো অঙ্কের ক্রম হুবহু মিলিয়ে রাখুন।
  3. চ্যাট ব্যাকআপ পাতায় ফিরে এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ চালু দেখাচ্ছে কি না দেখুন। তারপর সর্বশেষ সফল ব্যাকআপের তথ্য মিলিয়ে নিন; সুরক্ষাটি চালু হওয়া আর নতুন কপি ক্লাউডে জমা হওয়া একই ধাপ নয়।

ব্যাকআপ যে Google বা iCloud অ্যাকাউন্টে রাখছেন, সেখানে ঢোকার উপায়ও ফোন বদলের আগে যাচাই করুন। এনক্রিপশন পাসওয়ার্ড থাকলেও সংশ্লিষ্ট ক্লাউড অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পারলে ব্যাকআপ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। পাশাপাশি পুরোনো ফোনে সাম্প্রতিক চ্যাট থাকলেও ক্লাউডের শেষ সফল ব্যাকআপ পুরোনো হলে নতুন ফোনে সেগুলো নাও ফিরতে পারে।

পাসওয়ার্ড ও কী-এর মধ্যে কীভাবে বাছবেন

পাসওয়ার্ড নিজের পছন্দমতো তৈরি করা যায়; কী তৈরি করে WhatsApp। Meta-র প্রকৌশল ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পাসওয়ার্ড বেছে নিলে সেটি দিয়ে সুরক্ষিত ভল্ট থেকে ব্যাকআপের এনক্রিপশন কী উদ্ধার করা হয়, আর সরাসরি কী বেছে নিলে পুনরুদ্ধারের সময় ব্যবহারকারীকে সেটি নিজে দিতে হয়। ফলে কোনটি বেছে নেবেন, তা নির্ভর করে ফোন হারালেও কোন গোপন তথ্যটি নির্ভুলভাবে ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা আপনার আছে তার ওপর।

পাসওয়ার্ড রাখলে অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড থেকে আলাদা কিছু বেছে নেওয়া যুক্তিযুক্ত। পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে রাখলে পুরোনো ফোন ছাড়াই সেই ম্যানেজারে ঢুকতে পারবেন কি না নিশ্চিত করুন। কী বেছে নিলে মুখস্থ রাখার পরিকল্পনা করবেন না: কপি করার সময় একটি অঙ্ক বাদ পড়েছে কি না, শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে দেখুন। WhatsApp অ্যাকাউন্টে প্রবেশের তথ্য এবং ব্যাকআপ খোলার গোপন তথ্য আলাদা কাজে লাগে।

পাসকি পাওয়া গেলে আঙুলের ছাপ, মুখ বা ফোনের স্ক্রিন লক দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের পথও থাকে। এটি বেছে নেওয়ার আগে ভাবুন, ফোন বদলালে যে অ্যাকাউন্টে পাসকি সংরক্ষিত আছে সেখানে ঢুকতে পারবেন কি না। আগে পাসওয়ার্ড বা কী দিয়ে সুরক্ষিত ব্যাকআপ থেকে পাসকিতে যেতে চাইলে এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ বন্ধ করে আবার চালু করতে হয়; তাই পদ্ধতি বদলের পর নতুন ব্যাকআপ সফল হয়েছে কি না দেখুন।

চাবির নিরাপদ কপি এবং পুনরুদ্ধারের মহড়া

WhatsApp ব্যাকআপের পাসওয়ার্ড বা ৬৪ অঙ্কের কী ফোনের বাইরে আলাদা নিরাপদ স্থানে রাখা

পাসওয়ার্ড বা কী-এর একটি নির্ভুল কপি ফোনের বাইরে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কাগজে লিখলে এমন স্থানে রাখুন যেখানে অন্যের সহজে প্রবেশাধিকার নেই; ডিজিটাল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে অন্য ডিভাইস থেকে সেটি খোলার ব্যবস্থা রাখুন। নিজের WhatsApp চ্যাটেই গোপন তথ্য রেখে দিলে ফোন হারানোর সময় সেই কপিটিও নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

ফোন বদলের আগে একটি ছোট মহড়া করুন: বর্তমানে কোন সুরক্ষা পদ্ধতি চালু আছে দেখুন, সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে নিন এবং সংশ্লিষ্ট Google বা iCloud অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন কি না নিশ্চিত করুন। কাগজের কপি হলে অঙ্কগুলো পড়া যায় কি না দেখুন; ম্যানেজারে থাকলে অন্য ডিভাইস থেকে সেখানে ঢোকার পথ যাচাই করুন। এই প্রস্তুতি সম্ভাব্য বাধা ধরতে সাহায্য করে, তবে ব্যাকআপ খুলে চ্যাট ফেরানোর পরীক্ষা নয়।

আসল পরীক্ষা হয় নতুন ফোনে WhatsApp সেটআপের সময় ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার করে। পরিকল্পিত ফোন বদলে নতুন ফোনে প্রয়োজনীয় চ্যাট ও মিডিয়া ফিরেছে দেখে তবেই পুরোনো ফোনের চ্যাট মুছুন। তাতে ভুল পাসওয়ার্ড, ভুল ক্লাউড অ্যাকাউন্ট বা অসম্পূর্ণ ব্যাকআপ ধরা পড়লে পুরোনো ফোনের তথ্য দেখে সমস্যা মেলানোর সুযোগ থাকে।

পাসওয়ার্ড বা কী হারিয়ে গেলে কী করবেন

পুরোনো ফোনে WhatsApp চ্যাটে প্রবেশ করতে পারলে এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ সেটিং থেকে পাসওয়ার্ড বদলানোর পথ দেখুন। ভুলে যাওয়া পাসওয়ার্ডের জন্য ‘পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি’ বিকল্প পাওয়া গেলে নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করে সংরক্ষিত কপিটিও বদলে নিন। কী হারালে পুরোনো ফোনে চ্যাট থাকা অবস্থাতেই ব্যাকআপের সুরক্ষা নতুন করে সেট করার ব্যবস্থা দেখুন এবং নতুন ব্যাকআপ সফল হওয়ার আগে ফোনের চ্যাট মুছবেন না।

পুরোনো ফোনে চ্যাটে প্রবেশাধিকার নেই, আর নির্বাচিত পাসওয়ার্ড, কী বা পাসকিটিও পাওয়া যাচ্ছে না—এ অবস্থায় এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ খোলা যাবে না। WhatsApp গোপন তথ্যের কপি পাঠিয়ে বা আপনার হয়ে ব্যাকআপ খুলে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তাই সুরক্ষাটি চালু করার কাজ শেষ হয় তখনই, যখন পুনরুদ্ধারের তথ্য ফোনের বাইরে পাওয়া যাবে এবং সেটির সঙ্গে সর্বশেষ সফল ব্যাকআপের অবস্থাও মিলেছে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0