
Quanfluence পেল $১০ মিলিয়ন—ফোটনিক কোয়ান্টাম যন্ত্রের লক্ষ্য ২০২৯

বেঙ্গালুরুভিত্তিক Quanfluence ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর ঘোষণায় জানিয়েছে, Chiratae Ventures-এর নেতৃত্বে $১০ মিলিয়ন তুলে নিজস্ব ফোটনিক চিপ, নিয়ন্ত্রণ ইলেকট্রনিকস ও সফটওয়্যার মিলিয়ে পূর্ণ কোয়ান্টাম কম্পিউটার গড়তে চায়; প্রাথমিক প্রসেসরের লক্ষ্য ২০২৭ এবং বড় সম্প্রসারণযোগ্য যন্ত্রের লক্ষ্য ২০২৯। Pi Ventures এবং Rainmatter by Zerodha-ও এই পর্বে বিনিয়োগ করেছে।
এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে যন্ত্রটির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সার্কিট ও আলোকীয় সংযোগের নকশা। অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী Sujoy Chakravarty Moneycontrol-কে বলেছেন, “This money is basically going towards building that prototype machine.” কোম্পানির কয়েকটি আলাদা কোয়ান্টাম যন্ত্র বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া গেলেও নতুন অর্থায়নে যে পূর্ণ কম্পিউটার তৈরির কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখনও নির্মাণের লক্ষ্য।
অর্থায়ন কোন পর্যায়ের নির্মাণে যাবে
Quanfluence-এর পরিকল্পনায় ‘পূর্ণ ব্যবস্থা’ বলতে শুধু ফোটনিক চিপ বোঝায় না। আলো তৈরি ও পরিচালনার চিপ, সেই আলোকে চিপের বাইরে নেওয়ার অপটিকস, নিয়ন্ত্রণের ইলেকট্রনিকস এবং যন্ত্র চালানোর সফটওয়্যারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি অংশের সফল নকশা বা প্রদর্শন অন্য অংশগুলোর সঙ্গে সেটি স্থিতিশীলভাবে চলবে কি না, সেই প্রকৌশল প্রশ্নের উত্তর দেয় না। নতুন মূলধন এসব স্তরকে একই কম্পিউটারে যুক্ত করার কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা।
Pi Ventures আগে Quanfluence-এর সিড রাউন্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিল; এবার ফের বিনিয়োগ করেছে। নতুন রাউন্ডের নেতৃত্বে Chiratae Ventures, সঙ্গে Rainmatter by Zerodha। বিনিয়োগকারীদের এই সমন্বয় দীর্ঘ নির্মাণপর্বের জন্য অর্থ জোগালেও রাউন্ড সম্পন্ন হওয়া আর প্রসেসর সম্পন্ন হওয়া আলাদা ঘটনা। কোম্পানির সামনে এখন নকশা করা অংশগুলোকে পরীক্ষাযোগ্য একটি যন্ত্রে পরিণত করার কাজ।
চিপকে কেন্দ্র করে নির্মাণের একটি বাস্তব বাধা হলো সংযোগ। আলোকীয় তথ্য চিপে উৎপন্ন বা পরিচালিত হলে সেটিকে ফাইবারে পৌঁছাতে হয়; সেই পথে আলো হারালে পরের গণনাধাপে ব্যবহারযোগ্য সংকেত কমে যায়। তাই চিপ থেকে ফাইবারে কম ক্ষয়ের সংযোগ তৈরির কাজের গুরুত্ব আছে। ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণকেও আলোকীয় অংশের সঙ্গে মেলাতে হয়, যাতে আলোর অবস্থা তৈরি, পরিবর্তন এবং পড়ার কাজ একই ব্যবস্থায় সমন্বিত থাকে।
ইতিমধ্যে তৈরি অংশগুলোর অবস্থা

Quanfluence একাধিক ফোটনিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এবং ইলেকট্রনিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট নকশা ও তৈরি করেছে। চিপ থেকে অপটিক্যাল ফাইবারে কম ক্ষয়ে আলো নেওয়ার সংযোগ নকশা করেছে এবং কোয়ান্টাম আলোর অবস্থা তৈরির প্রদর্শন করেছে। আলো ও পদার্থের মিথস্ক্রিয়ার জন্য ফোটনিক চিপ নিয়েও কাজ এগিয়েছে। এগুলো পূর্ণ কম্পিউটারের জন্য উপাদান ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত অগ্রগতি; সব অংশ একত্রে চালানো যন্ত্রের পরীক্ষার ফল নয়।
প্রতিষ্ঠানটি তার ফোটনিক ইজিং মেশিনকে পণ্য পর্যায়ে নিয়েছে; নিজেদের বানানো আরও কয়েকটি কোয়ান্টাম যন্ত্র বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। ইজিং মেশিন বিশেষ ধরনের অপ্টিমাইজেশন সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি। এর পণ্য পর্যায়ে পৌঁছানো দেখায় যে Quanfluence গবেষণার কিছু ফল ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রে রূপ দিয়েছে। তবে বিশেষায়িত এই ব্যবস্থার কাজ ও পরিকল্পিত পূর্ণ ফোটনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কাজ আলাদা; বাজারে থাকা যন্ত্রের বর্তমান অবস্থাকে পরবর্তী প্রকল্পের সম্পন্ন হওয়া হিসেবে ধরা যায় না।
এই প্রযুক্তির পেছনে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নকশাদক্ষতার ইতিহাসও আছে। Quanfluence-এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর নকশার অভিজ্ঞতা ও কোয়ান্টাম আলোকবিদ্যার গবেষণা দক্ষতা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আগে Silicon and Beyond গড়েছিলেন, পরে সেটি Synopsys অধিগ্রহণ করে। Quanfluence IIT Madras Incubation Cell-এ ইনকিউবেট হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা পূর্ণ যন্ত্র নির্মাণের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তৈরি অংশগুলোকে একই ব্যবস্থায় চালানোর পর্ব এখনও সামনে।
ফোটনিক পদ্ধতিতে বড় যন্ত্র বানানোর বাধা
ফোটন, অর্থাৎ আলোর কণা, কোয়ান্টাম তথ্য বহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলে আলোকে বিভিন্ন অপটিক্যাল পথে চালানো যায়। Quanfluence এই বৈশিষ্ট্যকে বড় ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে গণনার জন্য তথ্যবাহী কিউবিটগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়াও দরকার। ফোটন সহজে চলতে পারলেও তাদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মিথস্ক্রিয়া ঘটানো কঠিন—চিপ ও ফাইবারের কাজের পাশাপাশি এটিও পরিকল্পিত যন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
এ কারণেই শুধু কিউবিটের সংখ্যা একটি ব্যবস্থার সক্ষমতা বোঝায় না। সেই কিউবিট তৈরি করা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটির সঙ্গে অন্যটির প্রয়োজনীয় ক্রিয়া ঘটানোও জরুরি। Quanfluence-এর পরিকল্পিত বড় যন্ত্রের ক্ষেত্রে চিপ, অপটিকস ও ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে চলে, তা দেখাতে হবে। প্রাথমিক যন্ত্র থেকে বড় প্রোটোটাইপে যাওয়ার পথে এই সমন্বয়ের ফলই সম্প্রসারণযোগ্যতার দাবিকে বাস্তব অর্থ দেবে।
প্রাথমিক প্রসেসর থেকে বড় প্রোটোটাইপ

ETtech-এর প্রতিবেদনে প্রধান নির্বাহী Sujoy Chakravarty নিকট ভবিষ্যতে চার কিউবিটের একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কিউবিটের বড় প্রোটোটাইপ তৈরির লক্ষ্য জানিয়েছেন। ছোট যন্ত্রটি থেকে বড়টির দিকে যাওয়া একটি ঘোষিত নির্মাণপথ; চার বা প্রায় ১০০ কিউবিটের কোনো যন্ত্র ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এমন দাবি এতে নেই।
প্রথম ধাপে গুরুত্বপূর্ণ হবে আলো তৈরি, তার অবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং গণনার ফল পড়ার প্রক্রিয়াকে একই প্রসেসরে কার্যকর দেখানো। পরের ধাপে একই স্থাপত্যকে অনেক বেশি কিউবিটে নিতে হবে। শুধু সংখ্যা বাড়ার খবরের চেয়ে সংযোগে ক্ষয়, নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা এবং কিউবিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় মিথস্ক্রিয়া কতটা সামলানো যায়, সেই তথ্য বড় যন্ত্রটির বাস্তব সক্ষমতা বোঝাবে।
পরবর্তী নির্দিষ্ট মাইলফলক প্রাথমিক প্রসেসরের প্রদর্শন। সেখানে চিপে তৈরি আলোর অবস্থা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পড়া হয়, তা একই ব্যবস্থায় দেখাতে পারলে আলাদা তৈরি অংশগুলোকে একটি কার্যকর ফোটনিক কম্পিউটিং যন্ত্রে যুক্ত করার অগ্রগতি স্পষ্ট হবে।
আরও পড়ুন:
সম্পর্কিত নিবন্ধ


a16z-এর ১১০ কোটি ডলারের তহবিল—AI বিনিয়োগ সফটওয়্যার ছাড়াচ্ছে

Claude কয়েক সেকেন্ডে কোয়ান্টাম লেজার সামলেছে—সাফল্য ৯৯.৩%

ভারতের fintech তহবিল $২.২ বিলিয়ন—বীজ বিনিয়োগ কমেছে ৫৭%

Balwaan Krishi পেল ₹১০০ কোটি—দক্ষিণ ভারতে সেবাই বড় পরীক্ষা

MHS ও MCP এক নয়—এজেন্ট কোন পথে যন্ত্র ও ডেটা পায়
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।