ভারতের fintech তহবিল $২.২ বিলিয়ন—বীজ বিনিয়োগ কমেছে ৫৭%

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ| 2
ভারতের fintech তহবিল $২.২ বিলিয়ন—বীজ বিনিয়োগ কমেছে ৫৭%

১৩ অক্টোবর প্রকাশিত Tracxn-এর ফিনটেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে ভারতের ফিনটেক কোম্পানিগুলো $২.২ বিলিয়ন তুলেছে, অথচ সিড পর্যায়ের অর্থায়ন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭% কমে $৭৩.৮ মিলিয়ন হয়েছে। পাঁচটি বড় রাউন্ড মোট পুঁজির প্রায় ৪৮% নিয়েছে। ফলে মোট অর্থের বৃদ্ধি আর নতুন কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের সুযোগ একই দিকে যায়নি।

একই নয় মাসে অর্থায়নের রাউন্ড ২৬০ থেকে ১৫৩-তে নেমেছে, যা ৪১% পতন; মোট অর্থ আগের বছরের তুলনায় ১৪% বেড়েছে বলে PTI-র সংবাদে উল্লেখ আছে। রাউন্ডের সংখ্যা কমার সঙ্গে মোট অর্থ বাড়ার অর্থ, বিনিয়োগ কম সংখ্যক লেনদেনে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এই পার্থক্যটি বিশেষ করে সিড বা সিরিজ এ পর্যায়ে থাকা প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য জরুরি: তাঁদের বাজারের অবস্থা বোঝাতে পরিণত কোম্পানির বড় চুক্তিগুলো যথেষ্ট নয়।

ছয় সূচকে অর্থায়নের বিপরীত গতি

মোট অর্থের পাশাপাশি রাউন্ডের সংখ্যা এবং পর্যায়ভিত্তিক পরিবর্তন রাখলে বাজারের দুই দিক একসঙ্গে দেখা যায়। পরিণত পর্যায়ে অর্থের অঙ্ক বেড়েছে, কিন্তু সেখানেও রাউন্ড কমেছে। প্রাথমিক ও সিড পর্যায়ে কমেছে অর্থ এবং রাউন্ড—দুটিই। প্রকাশিত অঙ্কগুলো গোল করা, তাই উপবিভাগের যোগফল বা সরল ভাগের ফল প্রতিবেদনে দেওয়া মোট ও শতাংশের সঙ্গে পুরোপুরি নাও মিলতে পারে।

  • মোট অর্থায়ন: $২.২ বিলিয়ন; আগের একই সময়ের $১.৯ বিলিয়নের তুলনায় প্রকাশিত বৃদ্ধির হার ১৪%।
  • সব রাউন্ড: ১৫৩টি; আগের ২৬০টির তুলনায় ৪১% কম।
  • পাঁচটি বড় রাউন্ড: প্রতিটি অন্তত $১০০ মিলিয়নের; সম্মিলিত প্রায় $১.১ বিলিয়ন বা মোটের প্রায় ৪৮%।
  • পরিণত পর্যায়: প্রায় $১.৫ বিলিয়ন, আগের $৭৫১ মিলিয়নের চেয়ে ৯৫% বেশি; রাউন্ড ৩০টি থেকে ২৫টি।
  • প্রাথমিক পর্যায়: সিরিজ এ ও বি-তে $৬৬৮ মিলিয়ন, আগের $১ বিলিয়নের চেয়ে ৩৩% কম; রাউন্ড ৮২টি থেকে ৫২টি।
  • সিড পর্যায়: $৭৩.৮ মিলিয়ন, আগের $১৭৩ মিলিয়নের চেয়ে ৫৭% কম; রাউন্ড ১৪৮টি থেকে ৭৬টি।

পরিণত পর্যায়ের হিসাবে সিরিজ সি ও তার পরের রাউন্ডের পাশাপাশি প্রাইভেট ইকুইটি এবং শেয়ারবাজারে আসার আগের বিনিয়োগ রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায় বলতে এখানে সিরিজ এ ও বি, আর সিড পর্যায়ে সিড ও অ্যাঞ্জেল রাউন্ড বোঝানো হয়েছে। এই সংজ্ঞাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বড় রাউন্ডের অঙ্ককে পর্যায়ভিত্তিক অর্থের সঙ্গে আবার যোগ করলে একই বিনিয়োগ দুবার গণনা হবে। পাঁচ বড় চুক্তি পুঁজির ঘনত্ব দেখায়; পর্যায়গুলোর হিসাব দেখায় সেই পুঁজি কোম্পানির বিকাশের কোন ধাপে পৌঁছেছে।

পরিণত পর্যায় মোট অর্থের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পেয়েছে এবং পর্যায়ভিত্তিক হিসাবে কেবল সেখানেই অর্থের অঙ্ক বেড়েছে। কিন্তু সেখানে রাউন্ড কমার ফলে বড় অঙ্কের প্রবাহকে বেশি কোম্পানির বিনিয়োগ পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। বিপরীতে, সিড ও প্রাথমিক পর্যায়ের রাউন্ড কমা দেখায় যে অর্থায়নের নিচের ধাপে লেনদেনের পরিসর সংকুচিত হয়েছে। এই দুই প্রবণতা একই বাজারে একসঙ্গে ঘটেছে।

পাঁচ চুক্তি কীভাবে মোট অঙ্ক বাড়িয়েছে

CRED-এর বড় রাউন্ডের সঙ্গে KreditBee, Weaver, Slice ও Navi-এর রাউন্ডের আকারের তুলনা।

১৪ অক্টোবরের Fortune India-র প্রতিবেদনে বড় পাঁচ চুক্তির মধ্যে জুনে CRED-এর $৫৪০ মিলিয়নের সিরিজ এইচ এবং এপ্রিলে KreditBee-এর $২২০ মিলিয়নের সিরিজ ই রাউন্ডের বিবরণ রয়েছে। মার্চে Weaver $১০৩ মিলিয়নের সিরিজ বি তুলেছে; সেপ্টেম্বরে Slice-এর সিরিজ ডি এবং আগস্টে Navi-এর সিরিজ সি রাউন্ড ছিল $১০০ মিলিয়ন করে। CRED-এর রাউন্ডটি একাই নয় মাসের মোট ফিনটেক অর্থায়নের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

এই পাঁচ রাউন্ডের মধ্যে Weaver-এরটি সিরিজ বি। তাই বড় চুক্তির পুরো অঙ্ককে পরিণত পর্যায়ের অর্থ বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে: চুক্তির আকার এবং কোম্পানির অর্থায়ন পর্যায় আলাদা মাপকাঠি। একইভাবে বড় পাঁচটির সম্মিলিত অঙ্ক দিয়ে সব রাউন্ডের সাধারণ আকার বোঝা যায় না। কয়েকটি ব্যতিক্রমী বড় চুক্তি মোট অর্থকে দ্রুত বাড়াতে পারে, যদিও বাকি বাজারে রাউন্ডের সংখ্যা কমতে থাকে।

এই ঘনত্ব মোট অর্থ ও লেনদেনের সংখ্যার বিপরীত গতির সরাসরি ব্যাখ্যা দেয়। একটি বড় রাউন্ড জাতীয় মোট অঙ্কে উল্লেখযোগ্য যোগ করে, কিন্তু রাউন্ডের হিসাবে সেটি একটি লেনদেনই থাকে। ফলে মোট অর্থায়ন বাড়ার সংবাদ থেকে ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না। সেটি বুঝতে সিড ও প্রাথমিক পর্যায়ের রাউন্ডের সংখ্যা আলাদা করে দেখা দরকার।

সিড ও প্রথম রাউন্ডে সংকোচন

ভারতের ফিনটেক সিড পর্যায়ে অর্থায়ন ও রাউন্ড—২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে দুটোই কমেছে।

সিড পর্যায়ে পতন কেবল অর্থের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নেই; রাউন্ডের সংখ্যাও ১৪৮ থেকে ৭৬-এ নেমেছে। প্রথমবার অর্থায়ন পাওয়া ফিনটেক কোম্পানির সংখ্যাও আগের বছরের ৫৯ থেকে ৩০ হয়েছে। দুটি সংখ্যা আলাদা বিষয় মাপে—একটি সিড পর্যায়ের রাউন্ড, অন্যটি প্রথমবার অর্থ পাওয়া কোম্পানি—তবে দুটিই নতুন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ কমার ছবি দেয়। পরিণত কোম্পানির বড় রাউন্ড সেই ঘাটতি পূরণ করে না।

সিডের পরের ধাপেও একই চাপ দেখা যাচ্ছে। সিরিজ এ ও বি পর্যায়ে অর্থের অঙ্কের পাশাপাশি রাউন্ড ৮২ থেকে ৫২-তে নেমেছে; সিরিজ এ এবং তার পরের সব পর্যায় মিলিয়ে রাউন্ড হয়েছে ৭৭টি, আগের ১১২টির তুলনায় কম। ফলে প্রথম চেক পাওয়া এবং তার পরের পর্যায়ে অর্থ তোলা—উভয় পথেই লেনদেন কমেছে। তবে এই সামষ্টিক হিসাব কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বা ভবিষ্যৎ রাউন্ডের ফল জানায় না।

বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণেও পরিবর্তন আছে। খাতে আগে থেকে সক্রিয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৯২ থেকে ১২৫ এবং প্রথমবার অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৪৮ থেকে ৩৩-এ নেমেছে। এগুলো বিনিয়োগকারীর মোট সম্পদ বা বিনিয়োগের সক্ষমতার পরিমাপ নয়; নির্দিষ্ট সময়ে এই খাতের রাউন্ডে অংশগ্রহণের সংখ্যা। নতুন কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের পরিবেশ বোঝার ক্ষেত্রে তাই প্রথম রাউন্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, পর্যায়ভিত্তিক চুক্তি এবং বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ মোট তহবিলের অঙ্কের চেয়ে বেশি নির্দিষ্ট তথ্য দেয়।

কোন খাতে অর্থ গেছে

ফিনটেকের ভেতরেও অর্থ সমানভাবে ছড়ায়নি। জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরের হিসাবে ডিজিটাল ঋণদান $৮০৯ মিলিয়ন, পেমেন্ট $৭৭৬ মিলিয়ন এবং বিনিয়োগপ্রযুক্তি $৪৫০ মিলিয়ন পেয়েছে। এই অঙ্কগুলো কোন ধরনের ব্যবসায় বেশি পুঁজি গেছে তা জানায়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কোম্পানি একইভাবে বিনিয়োগ পেয়েছে এমন অর্থ করে না। খাতভিত্তিক মোটের মধ্যেও বড় চুক্তির প্রভাব থাকতে পারে।

নয় মাসের মোট অর্থায়ন ২০২১ সালের একই সময়ে পৌঁছানো $৫.৫ বিলিয়ন শিখরের প্রায় ৪০%। বর্তমান বৃদ্ধিকে সেই দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষাপটে রাখলে বোঝা যায়, আগের বছরের তুলনায় অর্থ বাড়লেও বাজার তার পুরোনো সর্বোচ্চ অঙ্কে ফেরেনি। নতুন প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য পরবর্তী সময়ের সিড ও সিরিজ এ রাউন্ড এবং প্রথমবার অর্থ পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা দেখাবে, বড় চুক্তির বাইরে বিনিয়োগের পরিসর আবার বাড়ছে কি না।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0