
DigitalOcean না Hetzner—সস্তা সার্ভার দ্রুত, তবে অঞ্চল বদলায় উত্তর

বাংলাদেশ বা ভারতের ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ কিংবা সফটওয়্যার সেবা চালাতে DigitalOcean ও Hetzner-এর মধ্যে একক বিজয়ী নেই। ইউরোপে Hetzner-এর পরীক্ষিত সার্ভারের প্রকাশিত ভিত্তিমূল্য কিছুটা কম এবং স্বাধীন পরীক্ষায় তার প্রসেসরের ফল ভালো। কিন্তু সিঙ্গাপুরে একই মাপের সার্ভারে DigitalOcean-এর ভিত্তিমূল্য কম। ব্যবহারকারী কোথায় আছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর বদলালে সার্ভার বাছাইয়ের উত্তরও বদলায়।
দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাপের জন্য বেঙ্গালুরু বা সিঙ্গাপুরের বিকল্পগুলো আগে বিবেচনায় আসে; হেলসিঙ্কিতে পাওয়া প্রসেসরের ফল দিয়ে ঢাকার বা কলকাতার ব্যবহারকারীর অপেক্ষার সময় বোঝা যায় না। পাশাপাশি সার্ভার থেকে কত ডেটা বাইরে যাবে, তা মাসিক বিলের অংশ। ফলে একই ভার্চুয়াল প্রসেসর ও মেমরি থাকা দুটি পরিকল্পনার দাম মিলিয়েই সিদ্ধান্ত শেষ করা যায় না।
একই মাপের সার্ভারের দাম অঞ্চলভেদে কত
DigitalOcean-এর Droplet মূল্যতালিকায় Basic পরিকল্পনার ২ ভার্চুয়াল প্রসেসর, ৪ GiB মেমরি ও ৮০ GiB এসএসডির সার্ভার মাসে ২৪ ডলার; সঙ্গে ৪,০০০ GiB ট্রান্সফার। একই তালিকায় ৪ ভার্চুয়াল প্রসেসর ও ৮ GiB মেমরির সার্ভার মাসে ৪৮ ডলার এবং তার ট্রান্সফার ভাতা ৫,০০০ GiB; কোম্পানির অবস্থানের তালিকায় বেঙ্গালুরু ও সিঙ্গাপুরও আছে। প্রকাশিত ৪,০০০ GiB-কে অবিকল ৪ TiB বলা যাবে না: পরের এককটি বড়।
Hetzner-এর সংশোধিত মূল্যতালিকায় নতুন অর্ডার ও সার্ভারের মাপ পরিবর্তনের জন্য ১৫ জুন ২০২৬ থেকে CPX22-এর মাসিক ভিত্তিমূল্য ইউরোপে ২২.৯৯ ডলার, সিঙ্গাপুরে ৩০.৯৯ ডলার; প্রকাশিত অঙ্কে কর ও IPv4-এর খরচ নেই। ফলে ইউরোপে DigitalOcean-এর তুলনীয় Basic সার্ভারের সঙ্গে দামের ব্যবধান সামান্য, সিঙ্গাপুরে Hetzner-এর ভিত্তিমূল্য বেশি। অতিরিক্ত ঠিকানা ও প্রযোজ্য কর যোগ হলে চূড়ান্ত বিলের ব্যবধান আবার বদলাতে পারে।
এই দামের তুলনা ভাগাভাগি প্রসেসরসম্পদের সার্ভার নিয়ে। এমন সার্ভারে ভার্চুয়াল প্রসেসরের সংখ্যা বরাদ্দ থাকে, কিন্তু সব সময় একই পরিমাণ প্রসেসরক্ষমতা একক গ্রাহকের জন্য সংরক্ষিত থাকে না। Hetzner-এর ডেডিকেটেড প্রসেসরসম্পদের শ্রেণিকে DigitalOcean-এর Basic শ্রেণির পাশে রাখলে সমান মেমরি দেখা গেলেও ভিন্ন সুবিধার দাম তুলনা করা হবে। দীর্ঘ সময় প্রসেসর ব্যস্ত থাকে এমন অ্যাপে শ্রেণির পার্থক্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
স্টোরেজের পরিমাণও পুরো তুলনা নয়। পরীক্ষিত DigitalOcean সার্ভারে এসএসডি, আর Hetzner সার্ভারে এনভিএমই এসএসডি ছিল; তবু শুধু ড্রাইভের নাম দেখে অ্যাপের ডেটাবেস কত দ্রুত কাজ করবে বলা যায় না। সার্ভারের প্রসেসর, ডিস্ক ও নেটওয়ার্ক আলাদা কাজের সীমা তৈরি করে। কোনো পরিকল্পনার কম ভিত্তিমূল্য তাই প্রতিটি ধরনের কাজের জন্য কম খরচের সমাধান বোঝায় না।
স্বাধীন পরীক্ষায় গতির সুবিধা কোথায়
Better Stack-এর পরীক্ষায় নিউইয়র্কের DigitalOcean Basic এবং হেলসিঙ্কির Hetzner CPX22—উভয়ই ২ ভার্চুয়াল প্রসেসর ও ৪ GB মেমরির—Geekbench একক কোরে যথাক্রমে ৭৭২ ও প্রায় ৯৩৯ এবং বহু কোরে প্রায় ১,৪০০ ও ১,৬৭২ স্কোর করেছে। একই পরীক্ষায় ছোট ব্লকের ডিস্ক ইনপুট–আউটপুটে DigitalOcean এগিয়েছিল। প্রসেসরের ফল Hetzner-এর পক্ষে গেলেও পরীক্ষিত সার্ভারজোড়ার প্রতিটি কাজ একই দিকে যায়নি।
আরেক AIMultiple বেঞ্চমার্কে প্রতি সার্ভারে প্রায় ১,২০০টি স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা চালিয়ে ৪ ভার্চুয়াল প্রসেসর ও ৮ GB মেমরির ভাগাভাগি প্রসেসরসম্পদের পরিকল্পনায় Hetzner-এর মধ্যক প্রসেসরফল সেকেন্ডে ১৪,৪৯৩ এবং DigitalOcean-এর ৩,৪০৮ ইভেন্ট পাওয়া যায়; প্রতিবেদনে মাসিক দাম দেখানো হয় যথাক্রমে ১৮.৫৯ ও ৪৮ ডলার। পরীক্ষাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টারে চালানো হয়েছিল, যেখানে সম্ভব পূর্ব উপকূল বেছে নিয়ে। ওই প্রতিবেদনের Hetzner মূল্যকে নতুন সার্ভারের সংশোধিত আনুষ্ঠানিক দামের বদলি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
এই পরীক্ষার ফল দুটি একই স্কোরের পুনরাবৃত্তি নয়। Better Stack ভিন্ন মহাদেশের নির্দিষ্ট সার্ভারজোড়ায় Geekbench চালিয়েছে; AIMultiple যুক্তরাষ্ট্রে কাছাকাছি মাপের ভাগাভাগি প্রসেসরসম্পদের পরিকল্পনায় অন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ের ফল এক করেছে। দ্বিতীয় পরীক্ষায় স্টোরেজের ধরন ও ট্রান্সফার ভাতাও সেবাভেদে এক ছিল না। তাই বড় সংখ্যাগত ব্যবধানটি পরীক্ষিত বিন্যাসের ফল, একই অ্যাপ সব অঞ্চলে একই অনুপাতে দ্রুত চলবে এমন প্রতিশ্রুতি নয়।
অ্যাপের কাজের ধরনও ফলের অর্থ বদলায়। সার্ভারে হিসাবের কাজ বেশি হলে প্রসেসরের এগিয়ে থাকা কাজে লাগতে পারে; ঘন ঘন ছোট ডেটাবেস অনুরোধে ডিস্কের আচরণও জরুরি। আবার ব্যবহারকারীর ব্রাউজার থেকে সার্ভারে অনুরোধ পৌঁছাতে যে সময় লাগে, তা এসব স্থানীয় প্রসেসর পরীক্ষার মাপে নেই। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার পাঠকের জন্য বেঞ্চমার্ককে সার্ভারের সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে দেখা যুক্তিযুক্ত, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার সরাসরি মাপ হিসেবে নয়।
ট্রান্সফার ভাতায় সিঙ্গাপুরের হিসাব
Hetzner-এর সিঙ্গাপুর পরিকল্পনার বিবরণে পরিকল্পনাভেদে মাসে ০.৫ থেকে ৫ TB আউটবাউন্ড ট্রান্সফার অন্তর্ভুক্ত এবং ভাতার বাইরে প্রতি TB-তে ৮.৪৯ ডলার খরচ দেখানো আছে। সেখানে ভাগাভাগি প্রসেসরসম্পদের CPX এবং ডেডিকেটেড প্রসেসরসম্পদের CCX শ্রেণি পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ভাতাটি সব সার্ভারের জন্য প্রযোজ্য নয়; নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত পরিমাণই বিলের সঙ্গে মিলবে।
ইউরোপীয় Hetzner পরিকল্পনার বড় ট্রান্সফার ভাতা সিঙ্গাপুরের সার্ভারে ধরে নিলে খরচের তুলনা ভুল হবে। অন্যদিকে DigitalOcean-এর আলোচিত Basic পরিকল্পনায় প্রকাশিত ভাতা GiB এককে দেওয়া। Hetzner-এর TB এবং DigitalOcean-এর GiB পাশাপাশি লিখলেই তারা একই পরিমাণ বোঝায় না; অনুমিত ব্যবহার হিসাবের সময় একক মিলিয়ে নিতে হয়। মাসিক সার্ভারদাম কম হলেও আউটবাউন্ড ডেটা ভাতা ছাড়ালে সেই সুবিধা কমতে পারে।
কোন অ্যাপে এই পার্থক্য বড় হবে, তা ব্যবহারকারীর সংখ্যা একা বলে না। ছোট লেখা ও সীমিত প্রতিক্রিয়া পাঠানো একটি সেবার তুলনায় ছবি, ইনস্টলার বা বড় ফাইল সরবরাহকারী সেবা বেশি ডেটা বাইরে পাঠায়। একই অ্যাপ যদি আলাদা ফাইল সরবরাহব্যবস্থা ব্যবহার করে, মূল সার্ভারের আউটবাউন্ড পরিমাণ আবার কমতে পারে। তাই ট্রান্সফার ভাতা হলো অ্যাপের ডেটা পাঠানোর ধরন ও নির্বাচিত অঞ্চলের যৌথ হিসাব।
দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবহারকারীর জন্য কোন অঞ্চল
ভারতে ব্যবহারকারী বেশি হলে DigitalOcean-এর বেঙ্গালুরু অঞ্চলটি একটি সরাসরি বিকল্প; Hetzner-এর আলোচিত এশীয় অবস্থান সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীর জন্য সিঙ্গাপুর ও বেঙ্গালুরু দুটিই বিবেচ্য, কিন্তু শহরগুলোর দূরত্ব দিয়ে কোন নেটওয়ার্ক পথ দ্রুত হবে নিশ্চিত করা যায় না। সংযোগদাতা, রাউটিং এবং ব্যবহারকারীর নিজস্ব নেটওয়ার্ক অনুযায়ী বিলম্ব বদলায়।
হেলসিঙ্কির সার্ভারে ভালো প্রসেসরফল পাওয়া মানে সেখান থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিটি অনুরোধ দ্রুত পৌঁছাবে, এমন নয়। লগইন বা পৃষ্ঠা খোলার মতো কাজে ব্রাউজার ও সার্ভারের মধ্যে একাধিক বার তথ্য আদানপ্রদান হতে পারে। প্রতিবার নেটওয়ার্কে অপেক্ষার সময় যোগ হলে দ্রুত প্রসেসরের লাভ ব্যবহারকারীর চোখে কম দেখা যায়। বড় ফাইল নামানোর ক্ষেত্রে আবার সংযোগের গতি ও ট্রান্সফার ভাতা সামনে চলে আসে।
ব্যবহারকারী যদি ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকেন, একটি শহরের জন্য সুবিধাজনক অঞ্চল সবার জন্য একই ফল নাও দিতে পারে। বেঙ্গালুরুতে রাখা সার্ভার ভারতীয় ব্যবহারকারীদের কাছে ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে; বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরের পথ ভালো হবে কি না, তা আলোচিত বেঞ্চমার্কগুলো মাপেনি। এই অনিশ্চয়তা সার্ভারের প্রকাশিত প্রসেসরফলকে বাতিল করে না; এটি বলে দেয় সেই ফলের সঙ্গে নেটওয়ার্কের প্রশ্নটি আলাদা করে ধরতে হবে।
কোন পরিস্থিতিতে কোনটি যুক্তিযুক্ত
ইউরোপে সার্ভার রাখার প্রয়োজন থাকলে Hetzner-এর আলোচিত শ্রেণিতে সামান্য কম প্রকাশিত ভিত্তিমূল্য এবং পরীক্ষিত বিন্যাসে ভালো প্রসেসরফল পাওয়া যায়। তবে পুরোনো বেঞ্চমার্কে লেখা বড় মূল্যব্যবধান নতুন অর্ডারের সংশোধিত দামের সঙ্গে মেলে না। শুধু সেই পুরোনো দাম দেখে বাজেট ধরলে প্রত্যাশিত সাশ্রয়ের পরিমাণ বেশি ধরা হবে।
দক্ষিণ এশিয়ামুখী অ্যাপে DigitalOcean-এর বেঙ্গালুরু ও সিঙ্গাপুর এবং Hetzner-এর সিঙ্গাপুর বিকল্পগুলো বেশি প্রাসঙ্গিক। সিঙ্গাপুরে আলোচিত সমমাপের সার্ভারে DigitalOcean-এর প্রকাশিত ভিত্তিমূল্য কম; Hetzner বাছার যুক্তি থাকলে তা নির্দিষ্ট অ্যাপের প্রসেসরচাহিদা ও মোট বিলের হিসাব থেকেই আসতে হবে। বাংলাদেশকেন্দ্রিক সেবায় কোন শহর ব্যবহারকারীর কাছে দ্রুত, সে সিদ্ধান্ত প্রকাশিত দাম বা বিদেশে চালানো প্রসেসর পরীক্ষা একা দিতে পারে না।
আরও পড়ুন:
সম্পর্কিত নিবন্ধ


Zoho-তে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত—AI খরচে server-এর দাম চার গুণ

PaperCut সার্ভারে সক্রিয় হামলা: প্রথম প্যাচ দিলেও আবার আপডেট করতে হবে

CULT অ্যাপে ৩০ দিনের ক্রিয়েটর পেমেন্ট—সুবিধা এখন মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে

PicoJool পেল $২৭.৫ মিলিয়ন—AI cluster-এর নতুন বাধা এখন আলোর পথ

Cloudflare R2 না AWS S3—egress শূন্য হলেও request-ই বিল বাড়ায়
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।