ভারতের AI নিয়মের খসড়া এক মাসে—deepfake ও নিরাপত্তা কেন্দ্রে

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ| 1
ভারতের AI নিয়মের খসড়া এক মাসে—deepfake ও নিরাপত্তা কেন্দ্রে

৮ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন প্রতিবেদন ভারতে প্রকাশের পর দেশটির ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক মাসের মধ্যে এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরামর্শপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা জানান। তিনি এআই নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তির সুফল ও সম্ভাব্য ক্ষতি এবং ডিপফেক থেকে মানুষকে সুরক্ষার কথা বলেন। ঘোষণাটি ভবিষ্যৎ নিয়ম নিয়ে আলোচনার; ওই পরামর্শপত্র প্রকাশ বা নতুন এআই বিধি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা নয়।

The Indian Express-এর প্রতিবেদনে বৈষ্ণবের বক্তব্য, “The bulk of the responsibility has to be on industry”। একই আলোচনায় মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া, নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ এবং এআইয়ের সুফল সমাজের সব অংশে পৌঁছানোর কথা উঠে আসে। ফলে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা নথিটি প্রযুক্তি নির্মাতা ও প্ল্যাটফর্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যদিও তাতে কার ওপর কোন দায়িত্ব প্রস্তাব করা হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়।

পরামর্শপত্র প্রকাশের পর কী ঘটবে

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত এআই পরামর্শপত্র প্রকাশের অপেক্ষা

মন্ত্রীর দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী পরামর্শপত্রটি নভেম্বরের প্রথম ভাগে প্রত্যাশিত। প্রকাশিত নথিতে সরকার কোন ঝুঁকির জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা ভাবছে এবং কার মতামত চাইছে, তার স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার কথা। ঘোষণার সময় কোনো নির্দিষ্ট মতামত জমার শেষ দিন বা জমা দেওয়ার পদ্ধতি জানানো হয়নি; সেই তথ্য নথি প্রকাশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

পরামর্শপত্র নিজে কার্যকর বিধি নয়। এটি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য, প্রশ্ন ও সম্ভাব্য পথ নিয়ে মতামত চাওয়ার ভিত্তি হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে নির্দিষ্ট বিধির খসড়া এলে তার ভাষা ও প্রযোজ্যতা বোঝা যাবে; প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর হওয়ার আগে সেই প্রস্তাব নতুন বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। এই ধাপগুলোর পার্থক্য জরুরি, কারণ ‘এআই নিয়ম আসছে’ কথাটি শুনে কোনো অনুমোদন, পরীক্ষা বা শাস্তির শর্ত ইতিমধ্যে চালু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ঘোষিত আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হলেও পরামর্শপত্রের কাঠামো এখনো প্রকাশিত হয়নি। সব ধরনের এআই সেবার জন্য একই ব্যবস্থা ভাবা হবে, নাকি নির্দিষ্ট ব্যবহার ও ঝুঁকি ধরে আলাদা প্রশ্ন তোলা হবে, তা নথি থেকেই বোঝা যাবে। মন্ত্রীর বক্তব্য তাই আসন্ন আলোচনার দিক নির্দেশ করে; সম্ভাব্য প্রতিটি নিয়মের ভাষা নির্ধারণ করে না।

ডিপফেকের সঙ্গে আর কোন ঝুঁকি আলোচনায়

বাস্তবসম্মত ডিপফেক কীভাবে একটি বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে

ডিপফেক নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রে আছে বাস্তবসম্মতভাবে বদলে দেওয়া ছবি, কণ্ঠ ও ভিডিও। এমন কনটেন্টে কাউকে এমন কথা বলতে বা কোনো ঘটনা ঘটতে দেখা যেতে পারে, যা বাস্তবে ঘটেনি। বৈষ্ণব ক্রমে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠা ডিপফেক মানুষের ভুল তথ্য বিশ্বাস করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন। আসন্ন আলোচনায় এই ক্ষতি কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে এবং প্রতিরোধের দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে, তা প্রকাশিত নথির বিষয়।

এআই নিরাপত্তার পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকি এবং ব্যবহারকারীর মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাও আলোচনায় এসেছে। এগুলো ডিপফেকের একই সমস্যা নয়: একটি কৃত্রিম ভিডিও মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে, আবার অন্য ধরনের এআই সেবার প্রভাব পড়তে পারে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বা সুস্থতার ওপর। ফলে কেবল কনটেন্ট শনাক্তকরণের শর্ত দিয়ে ঘোষিত সব উদ্বেগের উত্তর দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিও পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে।

মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যটির আরেক দিক হলো এআই ব্যবহারের সুযোগ। দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তির সুফল সমাজের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানোর কথা এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা যদি প্রস্তাব করা হয়, তা ছোট প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও সাধারণ ব্যবহারকারীর প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য রাখবে, প্রকাশিত পরামর্শপত্রে সে সম্পর্কটি পরিষ্কার হওয়া দরকার।

শিল্পের ওপর বড় অংশের দায়িত্ব থাকার বক্তব্যটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট মডেল, অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন লাইসেন্স, নিবন্ধন কিংবা বাধ্যতামূলক পরীক্ষার ঘোষণা নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য দায়িত্ব বোঝার জন্য প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ভাষা এবং কোন ধরনের সেবায় তা প্রযোজ্য হবে, দুটোই জানা প্রয়োজন।

কৃত্রিম কনটেন্টে বর্তমানে যে বিধি কার্যকর

ভারতে কৃত্রিম কনটেন্ট নিয়ে কার্যকর বিধি এবং আসন্ন এআই পরামর্শের পৃথক অবস্থান

আসন্ন পরামর্শের পাশাপাশি ভারতে কৃত্রিম কনটেন্ট নিয়ে বিদ্যমান আইনি দায়িত্ব রয়েছে। ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত তথ্যপ্রযুক্তি বিধির সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যস্থতাকারী বিধিতে আনা ২০২৬ সালের সংশোধন ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর। এর লক্ষ্য বাস্তব ব্যক্তি বা ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারে এমন কৃত্রিম ছবি, শব্দ ও ভিডিও সামলানো। নতুন এআই পরামর্শপত্র প্রকাশের অপেক্ষা এই কার্যকর বিধির দায়িত্ব স্থগিত রাখে না।

বিধির সংজ্ঞায় কৃত্রিমভাবে তৈরি বা বদলানো দৃশ্য-শ্রাব্য কনটেন্ট গুরুত্বপূর্ণ, যদি তা বাস্তব ব্যক্তি বা ঘটনাকে এত বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরে যে সাধারণ দর্শক সেটিকে সত্যি ভাবতে পারেন। শুধু লিখিত এআই আউটপুট এই নির্দিষ্ট সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও বেআইনি তথ্য নিয়ে মধ্যস্থতাকারীর সাধারণ দায়িত্ব প্রযোজ্য থাকতে পারে। অন্যদিকে ছবির উজ্জ্বলতা ঠিক করা, ভিডিও সংকুচিত করা বা শব্দের পটভূমির আওয়াজ কমানোর মতো সৎ সম্পাদনা, মূল অর্থ বিকৃত না করলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই শ্রেণিতে পড়ে না।

যেসব মধ্যস্থতাকারী এমন কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরি, বদলানো বা ছড়ানোর সুবিধা দেয়, তাদের জন্য বেআইনি ব্যবহার ঠেকাতে উপযুক্ত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং অনুমোদিত কনটেন্ট শনাক্ত করার চিহ্ন ও উৎসসংক্রান্ত তথ্যের শর্ত রয়েছে। বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য প্রকাশের আগে ব্যবহারকারীর ঘোষণা নেওয়া, তার যথার্থতা যাচাইয়ের উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখা এবং কৃত্রিম কনটেন্ট স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার অতিরিক্ত দায়িত্বও নির্ধারিত। একটি কণ্ঠ নকল করার সরঞ্জাম ও সাধারণ ছবির মানোন্নয়নের সুবিধার আইনি অবস্থান তাই এক বলে ধরে নেওয়া যায় না; সেবাটি বাস্তবে কী তৈরি বা প্রকাশের সুযোগ দেয়, সেটিই প্রাসঙ্গিক।

স্টার্টআপ ও প্ল্যাটফর্মের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব

বাস্তবসম্মত কৃত্রিম ছবি, কণ্ঠ বা ভিডিও তৈরি ও প্রকাশের সুযোগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বর্তমান বিধির পরিধি এখনই বিবেচ্য। নতুন পরামর্শপত্রের তাৎপর্য হবে, এই কনটেন্টসংক্রান্ত দায়িত্বের বাইরে এআই নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি এবং ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে সরকার আর কী প্রস্তাব করে। বর্তমান দায়িত্ব পালন আর ভবিষ্যৎ প্রস্তাব নিয়ে মতামত দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আলাদা বিষয়।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার প্রভাব নির্ভর করবে সেবার সংজ্ঞা, ঝুঁকির ধরন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের ওপর। মডেল নির্মাতা, কনটেন্ট তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহকারী ও প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মকে একইভাবে দেখা হবে কি না, তা ঘোষণায় স্থির করা হয়নি। পরামর্শপত্রে এসব সীমা স্পষ্ট হলে কোন ব্যবসার কাজের পদ্ধতি বদলানোর প্রস্তাব উঠেছে এবং কার জন্য বিদ্যমান বিধিই প্রধান প্রাসঙ্গিক কাঠামো, তা বোঝা সহজ হবে।

পরবর্তী নির্দিষ্ট ঘটনা হলো সরকারের পরামর্শপত্র প্রকাশ। তখন ডিপফেক ও নিরাপত্তা নিয়ে ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো প্রস্তাবে কী রূপ পেল, কার মতামত চাওয়া হচ্ছে এবং মতামত জানানোর আনুষ্ঠানিক সময়সীমা কী—তা জানা যাবে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0