Deepfake ঠেকাতে বৈশ্বিক কাঠামোর ডাক দিল ভারত—এখনো আইন নয়

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ| 1
Deepfake ঠেকাতে বৈশ্বিক কাঠামোর ডাক দিল ভারত—এখনো আইন নয়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৮ অক্টোবর ২০২৬ নয়াদিল্লির যশোভূমিতে India Mobile Congress-এর উদ্বোধনী ভাষণে ডিপফেক ও সীমান্ত পেরোনো সাইবার প্রতারণা মোকাবিলায় বৈশ্বিক কাঠামো গড়ার আহ্বান জানান। সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, টেলিকম অপারেটর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই কাজে একসঙ্গে চেয়েছেন তিনি। এটি নতুন আন্তর্জাতিক আইন বা চুক্তি কার্যকরের ঘোষণা নয়; ভারতের বর্তমান প্ল্যাটফর্ম বিধিও এই বক্তৃতায় বদলায়নি।

দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত অংশ, “Deepfakes have become such a big challenge”, সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। ফলে ভারত নতুন ডিপফেক আইন করেছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে কোন সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে তার ওপর। সম্মেলনের আহ্বানটি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রস্তাব; ভারতে কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্টের জন্য আগে সংশোধিত তথ্যপ্রযুক্তি বিধি ইতিমধ্যে প্রযোজ্য। ব্যবহারকারী ও প্ল্যাটফর্মের তাৎক্ষণিক অধিকার এবং দায়িত্ব নির্ধারণ করে সেই বিদ্যমান বিধি, সম্মেলনের বক্তৃতা নয়।

বৈশ্বিক কাঠামোর প্রস্তাব কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়

প্রস্তাবটির কেন্দ্র সীমান্ত পেরোনো প্রতারণার পথ। এক দেশে বসে অন্য দেশের সহযোগিতায় তৃতীয় দেশের মানুষকে লক্ষ্য করা সম্ভব—এই উদাহরণ দিয়ে জাতীয় সীমানার বাইরে সমন্বয়ের প্রয়োজন বোঝানো হয়েছে। নকল কণ্ঠ বা ভিডিও পরিচয় সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করতে পারে; যোগাযোগের মাধ্যম, কনটেন্টের প্ল্যাটফর্ম এবং অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা তখন একই ঘটনার আলাদা অংশ হয়ে যায়। কেবল একটি জায়গায় প্রতারণামূলক পোস্ট সরালে বাকি পথটি অক্ষত থাকতে পারে।

যৌথ কাঠামো বলতে একই ধরনের আইন সব দেশে অবিলম্বে চালু হওয়া বোঝায় না। সরকার বেআইনি কাজের তদন্ত ও কর্তৃত্বের প্রশ্ন দেখবে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে কৃত্রিম কনটেন্টের প্রচার ঠেকানোর সক্ষমতা থাকতে পারে, অপারেটর যোগাযোগের পর্যায়ে কাজ করতে পারে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অর্থপ্রদানের জায়গায়। এগুলো সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র; কে কোন তথ্য পাবে বা কোন পরিস্থিতিতে তা ভাগ করবে, তার বাধ্যতামূলক নিয়ম বক্তৃতায় স্থির হয়নি।

বিশ্বের টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন GSMA-কে এমন ব্যবস্থায় সাহায্য করার আহ্বানও আসে, যাতে প্রতারণা মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই ধরা যায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শুধু কনটেন্ট শনাক্ত করাই যথেষ্ট হবে না: সন্দেহজনক যোগাযোগের সংকেত, অভিযোগের তথ্য এবং লেনদেনের ঝুঁকি আলাদা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে। সেগুলো মেলাতে গেলে ভুল শনাক্তকরণ, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং কোন দেশের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম প্রয়োজন।

মোবাইল কংগ্রেসে আস্থার প্রশ্নটি কেন কেন্দ্রে

নয়াদিল্লিতে একটি অচেনা ফোনকলের মুখে ব্যবহারকারী; কলকারীর পরিচয় নিয়ে মোদির উদ্বেগের দৃশ্যমান রূপ

মোবাইল সংযোগকে ঘিরেই বক্তৃতার নিরাপত্তা যুক্তি তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারী জানতে চান কে ফোন করছে, বার্তাটি সত্যি কি না, অর্থপ্রদান নিরাপদ কি না এবং দেওয়া তথ্য সুরক্ষিত থাকবে কি না। ডিপফেকের ঝুঁকি এই প্রশ্নগুলোর সঙ্গে মেশে, যখন পরিচিত মুখ বা কণ্ঠের অনুকরণ একটি বার্তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তাই আলোচনার পরিধি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর বাইরেও যায়।

India Mobile Congress-এ টেলিকম ও ডিজিটাল সেবার প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি এই আহ্বানের প্রেক্ষাপট। তারা একেকটি যোগাযোগের ভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে; ব্যবহারকারীর কাছে প্রতারণার বার্তা পৌঁছানোর আগে তা আটকানোর সম্ভাবনাও সেই অংশগুলোর যোগসূত্রে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে সব প্রমাণ বা সব ক্ষমতা থাকে না। আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হলে প্ল্যাটফর্ম, যোগাযোগসেবা ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার মধ্যে যোগাযোগের পদ্ধতি নির্ধারণ করাই কঠিন কাজগুলোর একটি হবে।

ভারতে আগে থেকেই কোন বিধি কার্যকর

আসল ও কৃত্রিমভাবে বদলানো প্রতিকৃতির তুলনা; কৃত্রিম কনটেন্ট শনাক্ত করার বিদ্যমান ভারতীয় নিয়মের প্রসঙ্গ

ভারতের সরকারি গেজেট অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিধির সংশোধনী ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়; আদালতের আদেশ বা উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশে বেআইনি তথ্য সরানোর সময়সীমা ৩ ঘণ্টা করা হয়। সময়সীমাটি যেকোনো ব্যবহারকারীর অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের কনটেন্ট মুছে ফেলার সাধারণ নির্দেশ নয়। ফলে মোদির আন্তর্জাতিক আহ্বান এবং ভারতের আগে থেকে কার্যকর প্ল্যাটফর্মের দায়কে এক করে দেখা ভুল হবে।

সংশোধিত বিধি কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যকে এমন অডিও, ছবি বা ভিডিও হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা বাস্তব ব্যক্তি বা ঘটনাকে সত্যি বলে মনে করাতে পারে। পরিচয়, কণ্ঠ, কাজ বা বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে বদলে দেখানো কনটেন্টের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিতে হয় সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীকে। একই সঙ্গে বৈধ কৃত্রিম কনটেন্টের স্পষ্ট চিহ্ন এবং প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলে উৎস শনাক্তের তথ্য রাখার শর্ত আছে। সাধারণ সম্পাদনা বা শব্দের মানোন্নয়নকে সব পরিস্থিতিতে একই শ্রেণিতে ফেলা হয়নি।

বড় সামাজিক মাধ্যমের জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কনটেন্ট কৃত্রিম কি না, সেই ঘোষণা চাওয়া এবং তার যথার্থতা যাচাইয়ে উপযুক্ত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও আছে। কৃত্রিম বলে নিশ্চিত হলে তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হয়। তাই কোনো কনটেন্ট কৃত্রিম হলেই তা নিষিদ্ধ—এমন সিদ্ধান্ত বিধি থেকে আসে না; বেআইনি প্রতারণা ঠেকানো এবং অনুমোদিত কৃত্রিম কনটেন্ট চেনানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই পার্থক্যটি নির্মাতা ও প্ল্যাটফর্ম উভয়ের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রাসঙ্গিক।

যাঁর পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে, তাঁর অভিযোগ এখনকার প্ল্যাটফর্ম প্রক্রিয়া ও প্রযোজ্য আইনি ব্যবস্থার অধীনেই যাবে। সীমান্তের বাইরে কারা কনটেন্ট বানিয়েছে বা ছড়িয়েছে, সেই তথ্য পাওয়া কঠিন হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন সামনে আসে। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ সহযোগিতা দেশীয় অভিযোগ, কনটেন্ট চিহ্নিতকরণ বা বেআইনি তথ্য সরানোর বর্তমান দায়িত্ব স্থগিত রাখে না। বক্তৃতাটি নতুন অভিযোগের পোর্টাল বা ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা প্রতিকার চালু করেনি।

প্রস্তাবটি বাস্তবে রূপ নিলে কী বদলাবে

পরের পরীক্ষাটি হবে কাঠামোর ভাষা কতটা নির্দিষ্ট হয়। অংশগ্রহণকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠান, কোন সংকেত কী শর্তে ভাগ হবে, ভুল শনাক্তকরণ কীভাবে সংশোধন হবে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য কে রক্ষা করবে—এসব নির্ধারণ ছাড়া যৌথ ব্যবস্থার কার্যকর পরিধি বোঝা যায় না। অপারেটরদের প্রতারণা আগেই থামানোর লক্ষ্য এবং দেশভেদে ভিন্ন আইনকে একসঙ্গে মানার কাজও একই নকশায় বসাতে হবে।

GSMA, সরকার বা শিল্পের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত প্রস্তাব, যৌথ মানদণ্ড কিংবা পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা প্রকাশ পেলে তখন তার বাধ্যবাধকতা বিচার করা যাবে। আপাতত ভারতীয় প্ল্যাটফর্মের পালনীয় নিয়ম বিদ্যমান দেশীয় বিধিই; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবর্তনের চিহ্ন হবে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী ও দায়িত্বসহ পরবর্তী সিদ্ধান্ত। ব্যবহারকারীর কাছে তার বাস্তব ফল বোঝা যাবে তখনই, যখন সীমান্ত পেরোনো প্রতারণার সংকেত ভাগ করে তা পৌঁছানোর আগে ঠেকানোর পদ্ধতি প্রকাশ পাবে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0