
হামিন আহমেদ APMA কমিটিতে প্রথম বাংলাদেশি

১৯ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টারের খবরে জানানো হয়, মাইলসের সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ ২০২৬–২০২৯ মেয়াদের জন্য এশিয়া-প্যাসিফিক মিউজিক ক্রিয়েটরস অ্যালায়েন্সের (APMA) নির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি। এ অঞ্চলে গীতিকার ও সুরকারদের অধিকার নিয়ে যে যৌথ আলোচনা চলে, সেখানে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি এখন কমিটির অগ্রাধিকার নির্ধারণে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচনের খবরে তাঁর জন্য অন্য কোনো নেতৃত্বপদ বা বাংলাদেশের নির্মাতাদের পাওনায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের ঘোষণা নেই।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে তাঁর একই নির্বাচন এবং বাংলাদেশ লিরিসিস্টস, কম্পোজার্স অ্যান্ড পারফর্মারস সোসাইটির (BLCPS) প্রধান নির্বাহী ও বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (BAMBA) সভাপতি হিসেবে দায়িত্বের বিবরণ আছে। সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি স্বত্ব ব্যবস্থাপনা ও ব্যান্ড সংগঠনে তাঁর এই কাজ নতুন আঞ্চলিক ভূমিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশের গানের ব্যবহার থেকে প্রাপ্য অর্থ আদায়, অধিকারীর পরিচয় নির্ধারণ এবং নির্মাতার ন্যায্য অংশ নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রেই সেই যোগ সবচেয়ে স্পষ্ট।
নির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের মানে

নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়া মানে জোটটির আলোচ্য বিষয় ও চলমান উদ্যোগে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি আনুষ্ঠানিক আসন পাওয়া। এখানে প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি হামিনের ব্যক্তিগত সংগীতজীবনের স্বীকৃতির চেয়ে বিস্তৃত: দেশের গীতিকার, সুরকার ও পরিবেশকদের স্বত্বসংক্রান্ত চাহিদা আঞ্চলিক আলোচনায় পৌঁছানোর সুযোগ। তবে কোনো দেশের প্রতিনিধি একা অন্য দেশের আইন, প্ল্যাটফর্মের চুক্তি কিংবা নিজ দেশের রয়্যালটি বণ্টনের নিয়ম পাল্টাতে পারেন না। তাঁর কাজের প্রভাব নির্ভর করবে কোন বিষয় কমিটি গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তা নিয়ে কী উদ্যোগ নেয় তার ওপর।
প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামিন বলেছেন, ‘এই সংযুক্তি, তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক হবে।’ একই সাক্ষাৎকারে তিনি BLCPS-এর মাধ্যমে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও রয়্যালটি আদায়ের কাজের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনাকে যুক্ত করেছেন। কথাটির বাস্তব অর্থ হতে পারে অন্য দেশের সংগঠন কীভাবে গানের মালিকানা শনাক্ত করে, ব্যবহারের তথ্য পায় ও প্রাপ্য অর্থ বণ্টন করে, সে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আলোচনায় আসা। সম্ভাবনাটি সহযোগিতার; কোনো নির্দিষ্ট অর্থপ্রাপ্তি বা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দাবি তিনি করেননি।
APMA কোন সমস্যাগুলো সামনে রাখে

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গান পৌঁছানো আর সেই ব্যবহার থেকে নির্মাতার প্রাপ্য অর্থ পৌঁছানো একই প্রক্রিয়া নয়। প্ল্যাটফর্ম, রেকর্ডিংয়ের মালিক, প্রকাশক এবং গানের কথা ও সুরের অধিকারী ভিন্ন পক্ষ হতে পারেন; তাই আয়ের হিসাব কোন অধিকার অনুসারে ভাগ হচ্ছে, সেটিই গীতিকার ও সুরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। APMA যে ‘ভ্যালু গ্যাপ’ নিয়ে কথা বলে, তার কেন্দ্রে রয়েছে অনলাইনে সংগীত ব্যবহার করে তৈরি মূল্য এবং স্রষ্টাদের হাতে পৌঁছানো পারিশ্রমিকের ব্যবধান। এই প্রশ্নে আঞ্চলিক আলোচনার লক্ষ্য নীতিগত চাপ ও তথ্য বিনিময়; হামিনের নির্বাচন কোনো প্ল্যাটফর্মকে নতুন অর্থ দেওয়ার নির্দেশ নয়।
আরেকটি বিষয় স্বত্ব এককালীন দামে ছেড়ে দেওয়ার চুক্তি। সিস্যাকের জাকার্তা সেমিনারের বিবরণে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এমন চুক্তিতে স্রষ্টা শুরুতে একটি অঙ্ক পেলেও গান পরে বেশি ব্যবহৃত হলে সেই ব্যবহার থেকে ভবিষ্যতের আয়ের সুযোগ হারাতে পারেন। একই আলোচনায় ডিজিটাল মাধ্যমে সৃষ্ট মূল্য ও অধিকারীর পারিশ্রমিকের ব্যবধান এবং ব্যক্তিগত অনুলিপির জন্য পারিশ্রমিকের ব্যবস্থাও উঠে আসে। সমস্যাগুলো সম্পর্কিত হলেও সমাধানের পথ এক নয়: চুক্তির শর্ত, অনলাইন ব্যবহারের লাইসেন্স এবং অনুলিপির ক্ষতিপূরণের জন্য আলাদা নিয়ম ও দরকষাকষি দরকার।
এই বিভাজন বাংলাদেশের সংগীত নির্মাতাদের জন্যও জরুরি। কোনো গানের কথা, সুর ও রেকর্ডিংয়ে অধিকার আলাদা হলে কেবল একটি পক্ষের পাওনার আলোচনা পুরো গানের আয় বণ্টনের প্রশ্ন মেটায় না। আবার নির্মাতার নাম ও কাজের তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত না থাকলে সংগৃহীত অর্থ প্রাপকের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়। আঞ্চলিক জোট এসব বিষয়কে একই মঞ্চে আনতে পারে, কিন্তু কোন অধিকার কার, কত ব্যবহার হয়েছে এবং কার কাছে অর্থ যাবে—এসবের হিসাব সংশ্লিষ্ট অধিকার ব্যবস্থাপনাতেই স্থির করতে হয়।
রয়্যালটি আদায়ে জোটের কাজ কতটা বাস্তব
APMA-র কাজ অধিকার নিয়ে বিবৃতির বাইরেও বিস্তৃত। CIAM-এর ম্যানিলা বৈঠকের বিবরণে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল নির্বাহী কমিটি উন্নয়নশীল দেশের সমষ্টিগত অধিকার ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর জন্য রয়্যালটি আদায় ও বণ্টনের সফটওয়্যার সহায়তা নিয়ে অগ্রগতি শুনেছিল। সেখানে APMA, কোরিয়ার KOMCA ও ম্যাকাওয়ের MACA মিলে সীমিত ডিজিটাল অবকাঠামো থাকা সংস্থাকে সহায়তার উদ্যোগ এগোনোর কথাও আছে। একই আয়োজনে স্ট্রিমিং বাজার বিশ্লেষণ, স্বত্ব হস্তান্তরের চুক্তি নিয়ে গবেষণা এবং সংগীতস্রষ্টাদের সংগঠনকে সহায়তা জোটের কাজের অংশ হিসেবে উঠে আসে।
সফটওয়্যার সহায়তার উদাহরণটি দেখায়, স্বত্ব নিয়ে নীতিগত বক্তব্যের পাশাপাশি পাওনা বণ্টনের প্রশাসনিক সক্ষমতাও আঞ্চলিক আলোচনার বিষয়। গান ও অধিকারীর তথ্য মিলিয়ে ব্যবহার শনাক্ত করা, আদায় করা অর্থের হিসাব রাখা এবং সঠিক প্রাপকের কাছে বণ্টন করা—এই ধারার কোনো ধাপ দুর্বল থাকলে আয় বাড়ার সুফল স্রষ্টা নাও পেতে পারেন। তবে ম্যানিলার উদ্যোগ যে বাংলাদেশে চালু হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য এখন অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত হওয়া, নতুন ব্যবস্থার নিশ্চয়তা নয়।
বাংলাদেশের নির্মাতারা এখন কী ফলের অপেক্ষায়
BLCPS-এর নেতৃত্বে হামিন দেশের অধিকার ব্যবস্থাপনার সমস্যার সঙ্গে যুক্ত; আঞ্চলিক কমিটিতে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তাঁর আছে। অন্য দেশের সংগঠনগুলো সংগ্রহ ও বণ্টনের যে পদ্ধতি ব্যবহার করে, তা নিয়ে যোগাযোগ গড়লে বাংলাদেশের আলোচনায় তুলনাযোগ্য বাস্তব উদাহরণ আসতে পারে। একইভাবে দেশের নির্মাতারা ডিজিটাল ব্যবহার, স্বত্ব হস্তান্তর বা প্রাপ্য অর্থের হিসাব নিয়ে কোথায় সমস্যায় পড়েন, তা জোটের আলোচ্য বিষয়ে স্থান পেতে পারে। এগুলো নির্বাচনের সম্ভাব্য পথ, ইতিমধ্যে অর্জিত ফল নয়।
নির্বাচনের সংবাদে বাংলাদেশের জন্য নতুন রয়্যালটি হার, প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আয় ভাগের চুক্তি কিংবা অর্থ পাওয়ার সময়সূচি নেই। পরবর্তী অর্থবহ তথ্য হবে নির্বাহী কমিটি বাংলাদেশের কোনো প্রস্তাব বা সমস্যা আনুষ্ঠানিক কাজে নেয় কি না, এবং BLCPS তার ভিত্তিতে অধিকার নথিভুক্তি, আদায় বা বণ্টনের নির্দিষ্ট উদ্যোগ জানায় কি না। এমন সিদ্ধান্তের আগে গীতিকার ও সুরকারের আয়ের পরিবর্তনকে এই নির্বাচনের ফল বলা যাবে না; তাঁদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাবে ব্যবহার ও পাওনার হিসাব বাস্তবে বদলালে।
আরও পড়ুন:
সম্পর্কিত নিবন্ধ


US Senate-এ creator caucus হলো—আইন নয়, আলোচনার মঞ্চ

YouTube Checks প্রকাশের আগেই সম্ভাব্য দাবি দেখায়—ফল তিন রকম

Oracle data center-এর পরিবেশের হিসাব প্রকাশ হবে—কিন্তু চালুর পর

ভারতের AI নিয়মের খসড়া এক মাসে—deepfake ও নিরাপত্তা কেন্দ্রে

TCS-এর AI আয় $৩.১ বিলিয়ন—মোট আয়ের ১০% পেরোল
আমাদের নিউজলেটার নিন
সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।