বাংলাদেশের প্রথম TradeTrust-Ready প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SSCL—লাভ কার

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ| 1
বাংলাদেশের প্রথম TradeTrust-Ready প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SSCL—লাভ কার

১২ অক্টোবর ২০২৬ The Business Standard-এ প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে Spectrum Software & Consulting (Pvt.) Ltd., সংক্ষেপে SSCL, TradeTrust-Ready অংশীদার হওয়ার খবর দেওয়া হয়; প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের এই মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বলেছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক উদ্যোগের আগেই ১০টির বেশি ব্যাংককে নিয়ে ঋণপত্র ও বাণিজ্যিক নথি ডিজিটাল করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার দাবি করেছে SSCL। ব্যাংক ও রপ্তানিকারকের জন্য খবরটির তাৎপর্য হলো, বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক নথি বিনিময় ও স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের কাঠামোয় একটি স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত অংশীদার হিসেবে জায়গা পেয়েছে।

সিঙ্গাপুরের Infocomm Media Development Authority পরিচালিত TradeTrust কাঠামোর সরকারি অংশীদার তালিকায় SSCL নামের প্রতিষ্ঠানটি TradeTrust-Ready শ্রেণিতে রয়েছে; সেখানে GreenLC সমাধানের উল্লেখ আছে এবং বাংলাদেশের Prime Bank PLC নামের ব্যাংকটিও একই শ্রেণিতে আছে। তালিকাটির শেষ হালনাগাদের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তবে SSCL ঠিক কবে এতে যুক্ত হয়েছে, তা আলাদা করে লেখা নেই। বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘প্রথম’ হওয়ার পরিচয়টি কোম্পানির দাবি; তালিকায় সে ধরনের ক্রম দেওয়া হয়নি।

SSCL কোন পর্যায়ের অংশীদার

TradeTrust-এর প্রস্তুত অংশীদার হিসেবে SSCL-এর অবস্থান এবং পূর্ণ বাস্তবায়নের পৃথক স্তর

TradeTrust-Ready শ্রেণির অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল বাণিজ্যের জন্য TradeTrust কাঠামো গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিংয়ের মতো নথি যাচাই ও হস্তান্তরের ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। SSCL তৈরি GreenLC আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল বাণিজ্যের সমাধান হিসেবে তালিকায় বর্ণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণপত্র ব্যবস্থাপনার আরেকটি সমাধানের নাম SpectraTrade। এসব তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রটি বোঝায়, কিন্তু নির্দিষ্ট ব্যাংকে কোন সমাধান চালু হয়েছে, তা জানায় না।

অংশীদার তালিকায় আরও দুটি স্বতন্ত্র স্তর রয়েছে। Network Partner শ্রেণির প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রযুক্তি সমাধানে কাঠামোটি পুরোপুরি যুক্ত করে বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে যাচাইযোগ্য নথি ও হস্তান্তরযোগ্য ইলেকট্রনিক রেকর্ড কার্যকর করে। Champion শ্রেণি একাধিক বাণিজ্যপথে নিয়মিত কার্যক্রমে কাঠামোটি ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত। SSCL প্রস্তুত অংশীদার শ্রেণিতে আছে; তাই তার তালিকাভুক্তিকে ওই পরের স্তরগুলোর বাস্তবায়ন হিসেবে ধরে নেওয়ার ভিত্তি নেই।

এই পার্থক্য ব্যাংকের সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কাঠামো গ্রহণ করলেও তার সমাধান ব্যবহার করে দেশি ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক ও বাণিজ্যের অন্য পক্ষের মধ্যে একই নথি সফলভাবে আদান-প্রদান হয়েছে কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন। প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ করা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজের বিষয়টিও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পর্যায়ের দাবি; প্রকাশিত তথ্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের সম্পন্ন আন্তঃসীমান্ত লেনদেন চিহ্নিত করা যায় না।

ব্যাংক ও রপ্তানিকারকের লাভের জায়গা

ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে স্পষ্ট সম্ভাব্য ব্যবহার হলো অন্য ব্যবস্থায় তৈরি নথির উৎস ও অখণ্ডতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা। দেশি ও বিদেশি ব্যাংক ভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করলে নথি গ্রহণকারী পক্ষের পক্ষে শুধু প্রেরকের নিজস্ব ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নাও হতে পারে। আন্তঃসংযোগযোগ্য নথি সেই নির্ভরতা কমানোর প্রযুক্তিগত পথ দেয়: প্রাপক নথিটি কোথা থেকে এসেছে এবং পরে বদলানো হয়েছে কি না, তা নিজের ব্যবস্থায় যাচাই করতে পারে।

রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ঋণপত্র বা ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় ব্যাংকে নথি জমা দেওয়া এবং তা বিদেশি ব্যাংকে পাঠানোর ধারাবাহিকতার সঙ্গে জড়িত। একই লেনদেনের নথি যদি দুই পক্ষের ব্যবস্থায় গ্রহণ ও যাচাই করা যায়, কাগজের নথি পাঠানোর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রযুক্তিগতভাবে নথি যাচাইযোগ্য হওয়া মানে চালানের সব বাণিজ্যিক তথ্য সঠিক হওয়া নয়; ক্রেতা, ব্যাংক ও অন্যান্য পক্ষের গ্রহণযোগ্যতা এবং লেনদেনের শর্তও প্রযোজ্য থাকে।

আমদানিকারকের জন্য পরিবহন দলিলের প্রশ্নটি আরও নির্দিষ্ট। সাধারণ ইলেকট্রনিক কপি দিয়ে নথির বিষয়বস্তু দেখা যায়, কিন্তু হস্তান্তরযোগ্য দলিলে কার নিয়ন্ত্রণ আছে এবং হস্তান্তরের পরে তা কার কাছে গেল, সেটিও নির্ধারণ করতে হয়। তাই নথির সত্যতা যাচাই ও নথির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর দুটি সম্পর্কিত, কিন্তু পৃথক কাজ। কোন নথিতে কোন কাজ প্রয়োজন, তার ওপর প্রযুক্তিটির ব্যবহারিক মূল্য নির্ভর করবে।

প্রস্তুত অংশীদার পরিচয় থেকে সময় বা ব্যয় সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না। এমন ফল জানতে নির্দিষ্ট বাণিজ্যপথে অংশ নেওয়া ব্যাংক, ব্যবহৃত নথি এবং সম্পন্ন প্রক্রিয়ার তথ্য দরকার। আপাতত স্বীকৃতিটি ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে একটি সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত পথ খুলেছে; তার ফল লেনদেনের পর্যায়ে মাপতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাইলটে ব্যবহারের শর্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাইলটে নির্দিষ্ট বাণিজ্যপথ ও ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন

১ জুলাই ২০২৬ জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের FEPD-1 সার্কুলার নম্বর ১৫ অনুমোদিত বাণিজ্যপথে ঋণপত্র ও ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় আমদানি-রপ্তানির নথি ডিজিটালভাবে প্রক্রিয়াকরণের পাইলট কাঠামো দিয়েছে। এতে এক ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় নথি পাঠানো ও যাচাই, নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভর না করা এবং প্রেরকের ব্যবস্থার বাইরে নথির উৎস যাচাইয়ের নীতি রয়েছে। SSCL নামের প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুত অংশীদার পরিচয় এসব প্রযুক্তিগত চাহিদার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক; কোনো অংশীদার তালিকায় থাকা নিজে থেকে পাইলটে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয় না।

পাইলটে অংশ নিতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নীতিগত সম্মতির জন্য আবেদন করতে হয়। প্রস্তাবে কোন দেশ বা অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যপথ হবে, বিপরীত পক্ষের ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান কারা, লেনদেন ঋণপত্রের না কালেকশনের এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করবে, তা জানাতে হয়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিধিপালনের ব্যবস্থাও দেখাতে হয়। ফলে প্রযুক্তি প্রস্তুত থাকলেও ব্যাংক ও বিদেশি পক্ষকে নিয়ে নির্দিষ্ট লেনদেনের আয়োজন ছাড়া তা অনুমোদিত বাণিজ্যপথে ব্যবহার শুরু হয় না।

কাঠামোয় বাণিজ্যিক চালান, পরিবহন দলিল এবং বিনিময় বিল বা ড্রাফট ইলেকট্রনিকভাবে প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ আছে। হস্তান্তরযোগ্য ইলেকট্রনিক রেকর্ড হলে নথিটির একটি কর্তৃত্বপূর্ণ সংস্করণ, এক সময়ে একটি পক্ষের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমতি ছাড়া পরিবর্তন ঠেকানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিংও পরিবহন দলিলের মধ্যে পড়তে পারে। এসব শর্তের কারণেই স্ক্যান করা কপি এবং যাচাই ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য ইলেকট্রনিক রেকর্ড একই জিনিস নয়।

বাণিজ্যচুক্তি, ঋণপত্র ও কালেকশনের নির্দেশনায় ইলেকট্রনিক নথি তৈরি, পাঠানো ও গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট থাকতে হয়। বিপরীত পক্ষের দেশে ইলেকট্রনিক দলিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বা কার্যকর না হলে ব্যাংক প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য ডিজিটাল কপি নিয়েও প্রয়োজনমতো মূল কাগুজে দলিল চাইতে পারে। আমদানি লেনদেনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সম্মতি এবং পণ্য ছাড়ের জন্য পক্ষগুলোর নির্ধারিত শর্তও কার্যকর থাকে। একই প্রযুক্তি তাই একটি অনুমোদিত বাণিজ্যপথে ব্যবহারযোগ্য হলেও অন্য পথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য হয় না।

পাইলটটি অনুমোদিত বাণিজ্যপথ ধরে পর্যায়ক্রমে এগোনোর কথা; সম্প্রসারণ নির্ভর করবে কার্যকারিতা ও নিয়ন্ত্রক মূল্যায়নের ওপর। SSCL নামের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরের নির্দিষ্ট তথ্য হবে কোন ব্যাংক ও বিদেশি প্রতিপক্ষ, কোন ধরনের নথি এবং কোন অনুমোদিত বাণিজ্যপথে তার প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সেই তথ্য প্রকাশিত হলে প্রস্তুত অংশীদারের অবস্থান বাস্তব আন্তঃসংযোগযোগ্য লেনদেনে কতটা পৌঁছেছে, তা বোঝা যাবে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0