BHASHINI–মণিপুর চুক্তি—বাস্তব সেবা বাছাই এখনো বাকি

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ
BHASHINI–মণিপুর চুক্তি—বাস্তব সেবা বাছাই এখনো বাকি

ভারতের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ইম্ফলে BHASHINI Rajyam কর্মশালায় Digital India BHASHINI Division ও মণিপুর সরকার বহুভাষিক সরকারি ডিজিটাল সেবার জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছে। বিভাগের প্রধান নির্বাহী অমিতাভ নাগ এবং মণিপুরের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব সোমোরজিৎ সালাম স্বাক্ষরকারী; মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং কর্মশালায় ছিলেন। চুক্তির পরের কাজ হলো কোন সরকারি সেবায় প্রযুক্তি আগে লাগবে এবং তার জন্য কোন ভাষার উপাত্ত প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা।

কর্মশালায় ইংরেজি থেকে মণিপুরি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ দেখানো হয়েছে। আলোচনায় মণিপুরির পাশাপাশি তাংখুল, থাদৌ, পাইতে, হমার ও লিয়াংমাই ভাষার নাম এসেছে, তবে কোন ভাষায় কোন সরকারি সেবা চালু হবে, তার তালিকা প্রকাশিত হয়নি। দ্য ট্রিবিউনে প্রকাশিত এএনআইয়ের প্রতিবেদনে অমিতাভ নাগের বক্তব্য: “AI must understand India in all its linguistic diversity.” এই বক্তব্য চুক্তির উদ্দেশ্য বোঝায়; বাসিন্দাদের ব্যবহারযোগ্য সেবার প্রস্তুতির প্রমাণ হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও পরীক্ষা।

চুক্তি, প্রদর্শনী ও সরকারি সেবা: তিনটি আলাদা পর্যায়

সমঝোতা স্মারকটি দুই পক্ষকে ভাষাপ্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে কাজের কাঠামো দিয়েছে। এতে ভাষার উপাত্ত ও অন্যান্য সম্পদ উন্নত করা এবং বহুভাষিক সেবার সম্ভাবনা খোঁজার কথা রয়েছে। কোন বিভাগ তার বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মে এই ব্যবস্থা নেবে, নাগরিক কোন কাজ নিজের ভাষায় করতে পারবেন কিংবা সেই সেবা কবে চালু হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। চুক্তির তাৎক্ষণিক ফল তাই সহযোগিতার কাঠামো; সরাসরি ব্যবহারযোগ্য কোনো নতুন সরকারি পোর্টাল নয়।

কোন কাজে সেই সহযোগিতা লাগতে পারে, তার ইঙ্গিত কর্মশালার আলোচনায় আছে। এপ্যাক মিডিয়ার প্রতিবেদনে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সেবা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে এসেছে। ক্ষেত্রগুলোর নাম আসা মানে সেগুলোর জন্য ভাষাভিত্তিক ব্যবস্থা বেছে নেওয়া বা বাস্তবায়ন শেষ হওয়া নয়। অগ্রাধিকার নির্ধারণের সময় প্রশাসনকে স্থির করতে হবে, কোন কাজে ভাষাগত বাধা বেশি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য নাগরিকের সামনে কোন মাধ্যমে পৌঁছাবে।

মণিপুরি অনুবাদ দেখানো হয়েছে; অন্য ভাষার অবস্থান কী

প্রদর্শনীর নির্দিষ্ট ফল ছিল ইংরেজি থেকে মণিপুরি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ। এটি একটি ভাষাজোড়ায় কাজের নমুনা দেখিয়েছে, কিন্তু নাগরিক সেবার তথ্য কতটা নির্ভুলভাবে অনুবাদ হয়, সে বিষয়ে কোনো প্রকাশিত পরীক্ষার ফল দেয়নি। একটি কথোপকথনের অনুবাদে শব্দ ঠিক শোনালেও আবেদনপত্রের শর্ত, সেবার যোগ্যতা বা অভিযোগের বিবরণে একই শব্দের প্রশাসনিক অর্থ ভিন্ন হতে পারে। সরকারি ব্যবহারে তাই শুধু গতি নয়, মূল নির্দেশনার অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকাও জরুরি।

তাংখুল, থাদৌ, পাইতে, হমার ও লিয়াংমাইয়ের উল্লেখ রাজ্যের ভাষাগত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। উল্লিখিত ভাষাগুলোর প্রতিটিতে মণিপুরির সমতুল্য অনুবাদ দেখানো হয়েছে, এমন ঘোষণা নেই। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে কোন ভাষার কোন রূপ প্রচলিত এবং সরকারি পরিভাষা কীভাবে বোঝা হয়, তা এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ধরে নেওয়া যায় না। তাই ভাষার তালিকা প্রযুক্তির সম্ভাব্য পরিসর বোঝায়; একযোগে সেবা চালুর তালিকা নয়।

স্থানীয় উপাত্ত দিয়ে মডেল যাচাইয়ের পরিকল্পনা

পরবর্তী ধাপে দুই পক্ষ অগ্রাধিকার ব্যবহার বাছাই, প্রয়োজনীয় ভাষা-উপাত্তের ধরন বোঝা এবং প্রাসঙ্গিক সরকারি প্ল্যাটফর্মে BHASHINI প্রযুক্তি যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। ভাষাবিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সমাধান তৈরি এবং মডেল যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ পরিকল্পনা কার্যকর হলে স্থানীয় বক্তারা বলতে পারবেন অনুবাদে ব্যবহৃত শব্দ তাঁদের ভাষায় স্বাভাবিক কি না, আর প্রশাসনিক বক্তব্যের অর্থ বদলাচ্ছে কি না। সেই যাচাইয়ের ফল বা পদ্ধতির বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

উপাত্তের চাহিদা সেবাভেদে বদলায়। নাগরিকের সাধারণ প্রশ্নের ভাষা, বিদ্যালয়ের নির্দেশনা, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং অভিযোগের বর্ণনায় শব্দভান্ডার ও বাক্যরীতি এক নয়। নির্বাচিত ক্ষেত্রের বাস্তব ভাষা ছাড়া তৈরি নমুনা অনুবাদ সাবলীল হলেও ব্যবহারকারী ভুল বোঝার ঝুঁকি থেকে যায়। মণিপুরের জন্য আগে ব্যবহার বাছার পরিকল্পনাটি তাই উপাত্ত সংগ্রহের প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত: কী অনুবাদ করা হবে জানা গেলে তবেই প্রাসঙ্গিক ভাষার নমুনা নির্ধারণ করা যায়।

কর্মশালায় BHASHINI Mitra উদ্যোগের কথাও এসেছে, যার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিষ্ঠান ও ভাষাগোষ্ঠী ভাষার উপাত্ত দিতে পারে। ভাষাগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের তাৎপর্য শুধু বেশি শব্দ সংগ্রহে নয়; একই শব্দের স্থানীয় ব্যবহার, উচ্চারণ এবং সরকারি প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য অর্থ বোঝার সুযোগও এতে তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞ যাচাইয়ের সঙ্গে ওই অভিজ্ঞতা মিললে ভুল অনুবাদ শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। তবে উপাত্ত কতটা পাওয়া যাবে, কোন ভাষায় কী মানের মডেল তৈরি হবে কিংবা এই উদ্যোগের মাধ্যমে কতজন অংশ নেবেন, সে তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

বাংলাভাষী সরকারি সেবার জন্য কী শিক্ষা

বাংলাভাষী সরকারি সেবার ক্ষেত্রেও মণিপুরের ঘটনাটি একটি বাস্তব শর্ত সামনে আনে। ভাষা সমর্থনের নাম থাকা আর কোনো নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া সেই ভাষায় নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা এক বিষয় নয়। বাংলা ভাষায়ও সেবার নির্দেশনা স্বচ্ছন্দে পড়া গেলেই যথেষ্ট হবে না, যদি আবেদনকারীর যোগ্যতা, জমা দেওয়ার শর্ত বা অভিযোগের অর্থ বদলে যায়। স্থানীয় বক্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীদের কাছে অর্থ যাচাই তাই অনুবাদের কার্যকারিতা বোঝার যুক্তিসংগত উপায়।

এখানে মণিপুরের ভাষাগুলোর সঙ্গে বাংলার শব্দভান্ডার বা উপাত্তের পরিমাণ সমান ধরে নেওয়ার কারণ নেই। মিলটি কাজের পদ্ধতিতে: প্রথমে সেবার উদ্দেশ্য নির্ধারণ, তারপর সেই কাজের ভাষা সংগ্রহ, এরপর বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী কি না যাচাই। ভুলটি কোথায় ধরা পড়ছে, তার ওপর সংশোধনের ধরনও নির্ভর করবে—উচ্চারণে, পরিভাষায়, নাকি সরকারি নির্দেশনার অর্থে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু অনুবাদের একটি দৃশ্যমান প্রদর্শনী নাগরিকসেবার মান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

মণিপুরে পরের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে প্রথম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কাজ ও তার ভাষাগুলোর নাম প্রকাশ, সঙ্গে কোন উপাত্ত এবং কার যাচাই সেই কাজের জন্য ব্যবহার হবে তা জানানো। তখন বোঝা যাবে ইংরেজি থেকে মণিপুরি অনুবাদের প্রদর্শনী কোন বাস্তব সেবায় পৌঁছাচ্ছে এবং অন্য ভাষার বক্তাদের জন্য কাজ কীভাবে এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0