ই-পাসপোর্টে ১০ বছরের জন্য ৳১,৭২৫ বেশি—কার জন্য সাশ্রয়ী

|লেখক: QUASA সম্পাদকীয় দল|5 মিনিটের পাঠ
ই-পাসপোর্টে ১০ বছরের জন্য ৳১,৭২৫ বেশি—কার জন্য সাশ্রয়ী

বাংলাদেশের ভেতরে আবেদনের সরকারি ভ্যাটসহ ফি-তালিকায় ৪৮ পৃষ্ঠার নিয়মিত ই-পাসপোর্টের দাম ৫ বছরের জন্য ৳৪,০২৫ এবং ১০ বছরের জন্য ৳৫,৭৫০—পার্থক্য ৳১,৭২৫। পুরো মেয়াদ ব্যবহার করতে পারলে বছরপ্রতি খরচ যথাক্রমে ৳৮০৫ ও ৳৫৭৫। তাই এখন বেশি টাকা দিতে পারলেও দীর্ঘ সময় একই বই ব্যবহার করবেন, এমন আবেদনকারীর জন্য ১০ বছরের বিকল্পটি সাশ্রয়ী হতে পারে।

সবচেয়ে কম প্রাথমিক খরচ চাইলে ৪৮ পৃষ্ঠা ও ৫ বছরের নিয়মিত সরবরাহ বেছে নিতে হবে। বেশি পৃষ্ঠা বা দ্রুত সরবরাহের জন্য আলাদা ফি লাগে; মেয়াদ বাড়ালেই সেগুলোর প্রয়োজন তৈরি হয় না। বিশেষ করে ৬৪ পৃষ্ঠার প্রকাশিত দাম দেখে অর্থ দেওয়ার আগে বইটির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা দরকার।

সব বিকল্পের মোট ফি ও বছরপ্রতি হিসাব

দেশের ভেতরে আবেদনকারীর বারোটি ফি-সমন্বয় একসঙ্গে ধরলে মোট ব্যয়ের পাশাপাশি মেয়াদপ্রতি ব্যয়ও বোঝা যায়। নিচের বছরপ্রতি অঙ্ক মোট ফি মেয়াদ দিয়ে ভাগ করার হিসাব, প্রতিবছর দিতে হয় এমন ফি নয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন বই নিতে হলে বাস্তবে ব্যবহার করা প্রতি বছরের খরচ আরও বাড়বে।

  • ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর: নিয়মিত ৳৪,০২৫—বছরপ্রতি ৳৮০৫; এক্সপ্রেস ৳৬,৩২৫—বছরপ্রতি ৳১,২৬৫; সুপার এক্সপ্রেস ৳৮,৬২৫—বছরপ্রতি ৳১,৭২৫।
  • ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর: নিয়মিত ৳৫,৭৫০—বছরপ্রতি ৳৫৭৫; এক্সপ্রেস ৳৮,০৫০—বছরপ্রতি ৳৮০৫; সুপার এক্সপ্রেস ৳১০,৩৫০—বছরপ্রতি ৳১,০৩৫।
  • ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর: নিয়মিত ৳৬,৩২৫—বছরপ্রতি ৳১,২৬৫; এক্সপ্রেস ৳৮,৬২৫—বছরপ্রতি ৳১,৭২৫; সুপার এক্সপ্রেস ৳১২,০৭৫—বছরপ্রতি ৳২,৪১৫।
  • ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর: নিয়মিত ৳৮,০৫০—বছরপ্রতি ৳৮০৫; এক্সপ্রেস ৳১০,৩৫০—বছরপ্রতি ৳১,০৩৫; সুপার এক্সপ্রেস ৳১৩,৮০০—বছরপ্রতি ৳১,৩৮০।

বছরপ্রতি হিসাবে ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছরের নিয়মিত বইটি সবচেয়ে কম খরচের। কিন্তু একবারে সবচেয়ে কম টাকা লাগে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছরের নিয়মিত বইয়ে। যাঁর এখনকার বাজেট সীমিত, তাঁর সিদ্ধান্ত আর যিনি দীর্ঘ সময় বইটি ব্যবহার করবেন বলে আশা করছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত তাই আলাদা হতে পারে। বছরপ্রতি অঙ্ক তুলনার সুবিধা দেয়; এটি আগাম অতিরিক্ত মেয়াদ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয় না।

১০ বছরের মেয়াদে বাড়তি অর্থ কখন উঠে আসে

একই পৃষ্ঠা ও সরবরাহের গতি ধরে ৫ বছরের বদলে ১০ বছর নিলে প্রতিটি বিকল্পেই বাড়তি ফি ৳১,৭২৫। উদাহরণ হিসেবে, বর্তমান ফি অপরিবর্তিত থাকলে পরপর দুটি ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছরের নিয়মিত বইয়ের মোট দাম হতো ৳৮,০৫০; একটি ১০ বছরের বইয়ের দাম ৳৫,৭৫০। পুরো দশ বছর একটি বইয়ে চললে এই তুলনায় সাশ্রয় ৳২,৩০০। ভবিষ্যতের ফি বদলালে বা মাঝপথে নতুন বই লাগলে হিসাবটিও বদলাবে।

যিনি দীর্ঘ মেয়াদে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, অথচ বাড়তি পাতার প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাঁর জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছরের নিয়মিত বিকল্পটি সবচেয়ে কম বছরপ্রতি ব্যয় দেয়। অন্যদিকে কয়েক বছরের মধ্যে নতুন বই লাগতে পারে বলে মনে হলে ৫ বছরের বইয়ের কম প্রাথমিক দামই বেশি কাজে আসতে পারে। ঘন ঘন বিদেশে যাওয়া আর বেশি পৃষ্ঠা প্রয়োজন হওয়া এক বিষয় নয়: সফরে ভিসা ও প্রবেশ-প্রস্থানের সিলের জন্য কত জায়গা লাগবে, সেটিও দেখতে হয়। ফলে মেয়াদের সিদ্ধান্তে সম্ভাব্য ব্যবহারের সময়, আর পৃষ্ঠার সিদ্ধান্তে সম্ভাব্য জায়গার চাহিদা গুরুত্ব পায়।

বাড়তি পৃষ্ঠার দাম ও প্রাপ্যতা

একই মেয়াদ ও সরবরাহগতিতে ৪৮ থেকে ৬৪ পৃষ্ঠায় গেলে নিয়মিত ও এক্সপ্রেসে বাড়তি খরচ ৳২,৩০০; সুপার এক্সপ্রেসে বাড়তি ৳৩,৪৫০। যাঁর বইয়ে ঘন ঘন ভিসা ও সিলের জন্য জায়গা লাগে, তাঁর কাছে অতিরিক্ত পাতার মূল্য থাকতে পারে। অনিয়মিত ভ্রমণে শুধু ভবিষ্যতে হয়তো লাগবে ভেবে ৬৪ পৃষ্ঠার দাম দেওয়া সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। পৃষ্ঠা বাড়ালেও বইয়ের মেয়াদ বাড়ে না; মেয়াদ ও পাতার জন্য আলাদা করে অর্থ দিতে হয়।

প্রকাশিত মূল্য অবশ্য ৬৪ পৃষ্ঠার বই হাতে পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। একটি সরকারি স্থগিতাদেশে ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে সাময়িকভাবে এ বই বিতরণ বন্ধের কথা রয়েছে, যদিও পরের ফি-তালিকায় এর দাম প্রকাশিত আছে। তাই ৬৪ পৃষ্ঠার বিকল্প প্রয়োজন হলে অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে এখন সেটি সরবরাহ করা হচ্ছে কি না জেনে নেওয়া যুক্তিসংগত।

দ্রুত সরবরাহের জন্য কত দিতে হয়

৪৮ পৃষ্ঠার উভয় মেয়াদে নিয়মিত থেকে এক্সপ্রেসে গেলে ৳২,৩০০ এবং এক্সপ্রেস থেকে সুপার এক্সপ্রেসে গেলে আরও ৳২,৩০০ লাগে। ৬৪ পৃষ্ঠাতেও প্রথম ধাপের বাড়তি ফি ৳২,৩০০, কিন্তু এক্সপ্রেস থেকে সুপার এক্সপ্রেসে যেতে বাড়তি ৳৩,৪৫০। একই বইয়ের মেয়াদ ও পৃষ্ঠা রেখেই দ্রুততার জন্য অর্থ দেওয়া যায়। নির্ধারিত ভ্রমণের আগে হাতে পাওয়ার মতো সময় থাকলে নিয়মিত সরবরাহের কম ফি-ই খরচ বাঁচায়।

সরকারি সূচিতে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর থেকে নিয়মিত সরবরাহের সময় ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন, এক্সপ্রেসে ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিন এবং সুপার এক্সপ্রেসে ২ কর্মদিবস। আবেদনপত্র পূরণের দিন থেকে সময় গণনা করলে হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে ভুল ধারণা হতে পারে। প্রকাশিত সময়গুলো সরবরাহের লক্ষ্য; প্রতিটি আবেদন ওই সময়ের মধ্যেই নিষ্পত্তি হবে, এমন নিশ্চয়তা ধরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

সুপার এক্সপ্রেসের প্রকাশিত ফি দিলেই সেবাটি সব আবেদনকারী পাবেন, এমন নয়। পুলিশের বিশেষ শাখার পাসপোর্টবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী, প্রথমবার আবেদনকারীদের জন্য এ সুবিধা বন্ধ রয়েছে; আগের পাসপোর্টের তথ্য অপরিবর্তিত রেখে আবেদন করা এবং পুলিশ যাচাইয়ের প্রয়োজন না থাকা আবেদনকারীরাই সুবিধাটি পাচ্ছেন। দ্রুত সরবরাহের খরচ হিসাব করার আগে নিজের আবেদন সেই শর্তে পড়ে কি না দেখা তাই জরুরি। সরকারি কর্মচারীর প্রযোজ্য অনাপত্তিপত্র বা অবসরসংক্রান্ত নথি থাকলে প্রকাশিত ফি-সূচিতে নিয়মিত ফির বিনিময়ে এক্সপ্রেস এবং এক্সপ্রেস ফির বিনিময়ে সুপার এক্সপ্রেস সুবিধার ব্যবস্থাও আছে।

বয়স অনুযায়ী কোন হিসাব প্রযোজ্য

সরকারি আবেদন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর ই-পাসপোর্ট ৪৮ পৃষ্ঠার ও ৫ বছর মেয়াদি হবে। তাঁর ক্ষেত্রে ১০ বছরের মেয়াদের বছরপ্রতি সাশ্রয়ের হিসাব প্রযোজ্য নয়। বাছাইয়ের জায়গা মূলত সরবরাহের গতি: নিয়মিত ৳৪,০২৫, এক্সপ্রেস ৳৬,৩২৫ অথবা যোগ্য হলে সুপার এক্সপ্রেস ৳৮,৬২৫। পরিবারের একাধিক আবেদন একসঙ্গে করলে প্রত্যেকের বয়স ও সরবরাহের প্রয়োজন ধরে খরচ যোগ করতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর সিদ্ধান্তে তিনটি আলাদা খরচ কাজ করে: কত বছর বইটি ব্যবহার করবেন, কত পৃষ্ঠা লাগবে এবং কত দ্রুত হাতে পেতে হবে। ৪৮ পৃষ্ঠায় প্রয়োজন মিটলে ১০ বছরের নিয়মিত বইয়ের বছরপ্রতি ব্যয় কম; এখন কম টাকা খরচ করতে চাইলে ৫ বছরের নিয়মিত বইয়ের প্রাথমিক দাম কম। বাড়তি পৃষ্ঠা প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রাপ্যতা, আর দ্রুত সরবরাহ প্রয়োজন হলে নিজের আবেদনের যোগ্যতা ও বায়োমেট্রিকের পরের সময়সীমা সিদ্ধান্তে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করুন:

আমাদের নিউজলেটার নিন

সর্বশেষ Web3, AI ও ক্রিপ্টো সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান।

0